ভাটার ধোয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম! রুখবে কে?

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৩ নভে ২০২০ ০৬:১১

ভাটার ধোয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকিতে দক্ষিণ চট্টগ্রাম! রুখবে কে?

 

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া- লোহাগাড়া উপজেলা ইটভাটার ধোঁয়ায় গণপরিবেশ দিন দিন জনস্বাস্থ্যের হুমকির কবলে পড়ছে। ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ইটভাটা। কৃষিজমি রক্ষার্থে সরকার ইটভাটা স্থাপ নে আইন করে জায়গায় সীমাবদ্ধ ইট পোড়ানো সংখ্যা এবং নিদিষ্ট বিধি বিধানকে তোয়াক্কা না করে গ্রাম গঞ্জের লোকালয়ে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। উর্বর জমিতে ইটভাটা তৈরির ফলে সামগ্রীক কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা দাবি করেন। ভাটার নির্গত ধোয়ায় ও ধুলোবালিতে এলাকাবাসী মারাত্মক ভাবে শ্বাস কষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ইটভাটা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও সালফার- ডাই অক্সাইড সহ বিভিন্ন ধরনের ধোঁয়া বাতাসে মিশে যেমনি পরিবেশ মারাত্মক হচ্ছে তেমনি নবাগত শিশু সহ সবধরনের মানুষের নানান ধরনের শরীরে ঝুঁকি বহন করতে হবে বলে মনে করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইনচার্জ ডা.মোহাম্মদ হানিফ। তথ্য অনুসন্ধান মতে লোহাগড়ায় শুধু ৯টি ইউনিয়ন এর মধ্যে ভাটার সংখ্যা ৪৯টি। এখানে চরম্বা ইউপিতে ২০টি। তাতেই সন্নিহিত পর্বত্য পাহাড়ি অঞ্চল, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জ্বালানি কাঠ ও মাঠি নাগালেই সুবিধায় ভাটা বৃদ্ধি করছে সূত্র প্রকাশ। দেখা গেছে বিগত মৌসুমে মজুতকৃত ইট বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামিণ সড়ক বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চরম্বা মূল সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ছে। প্রতিটি ইটভাটায় বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি কাঠ ও মাটি মজুত রয়েছে। আবার অধিকাংশ ইটভাটায় সংশ্লিষ্ট কোন অনুমতি ও ছাড় পত্র নাই। প্রভাবশলী মহল দলীয় ক্ষমতার এবং বিভিন্ন প্রশাসনের সহযোগীতার প্রভাবে অবৈধভাবে এই ব্যবসা করে যাচ্ছে। অনেকে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছে। ফলে বনাঞ্চল ধবংস হচ্ছে। এব্যাপারে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আহসান হাবীব জিতু ও উপজেলা সহকারী (ভূমি)নিলুফা ইয়াছমিন চৌধুরী কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি ।
একাদিক সুত্রে প্রতিবেদককে জানান, আইন আছে সরকারিভাবে কোন ইটভাটায় এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ইট পোড়ানোর অনুমোদন থাকলেও এখানকার ইটভাটার মালিকরা ২০-৪০ লাখ ইট পোড়ান বলে জানা গেছে। ফলে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে একটি ইটভাটায় ৩০ লাখ ইট পোড়ানোর জন্য দেড় হাজার টন কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ইটভাটা স্থাপন আইনে যা আছে.১৯৯০ সালে ২৫ জুলাই মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়. প্রত্যেক জেলা প্রশাসন ইটভাটা নির্মাণে আবেদন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করে অর্নুবর অকৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের অনুমোদন দেবে. যত্রতত্র ইটভাটা না হয়ে ইটভাটা হবে নদীর তীরে অথবা বিশেষ কোন এলাকার সর্বোচ্চ দেড় একর জায়গার উপর. ১৯৮৯ সালে ১ জুলাই থেকে কার্যক্রম হওয়ায় ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ইট পোড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইট পোড়তে পারবেন না। এই আইনটির ধারা ৫-এ বলা হয়ছে কোন ব্যক্তি ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে পারবেন না। এই আইনের কোন ধারা লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা তা যাচায়ের জন্য জেলা প্রশাসক অথবা তার ধারা ক্ষমতা প্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া ইটভাটায় পরিদর্শন করতে পারবে।
স্থানীয় অনেকে জানান প্রশাসন এবং উপরের মহলের সহযোগীতায় প্রতি বছর বছর এই অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা করে যাচ্ছে কূচক্রীমহল। যা দেশ ও জনগনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মারাত্মক এই পরিবেশ দুষনের অবৈধ ইটভাটার মালিক হিসাবে যারা রয়েছেন (জ ই গ -নুরুল হক কোম্পানী) (জ ই গ মোনাফ কোম্পানী)(এ ই গ- জাহাঙ্গীর কোম্পানী)(গ জ ই ইদ্রিস কোম্পানী)(ঈ ই গ হারেছ কোম্পানী)(ঐ ই গ- হারেছ লোহাগাড়া) (ই ই ঈ,জনু চেয়ারম্যান চুনতী)(অ ই গ, অঘ ই আয়ুুব মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান,আধুনগর)(ক ণ ই, ইইগ,শাহা আলম কোম্পানী)(ঈইগ১,ঈইগ২,ঈইগ৩,শাহআলম কোম্পানীগং)শাহাব উদ্দিন, সরওয়ার কোম্পানি,নুরুল আলম কোম্পানি, নুরুল আলম প্রকাশ বাহাদুর কোম্পানি, নুরুল কবির,পারভেজ কোম্পানি,আনোয়ার হোসেন,এভাবে আরো আনুমানিক ৩০/৩৫ টি ইটভাটা রয়েছ যা ৫০/৬০/জন মালিক সিন্ডিকেট করে এই মারাত্মক পরিবেশ দুষনের অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা করে যাচ্ছে।
স্থানীয় অনেকে জানান প্রশাসন এবং উপরের মহলের সহযোগীতায় প্রতি বছর বছর এই অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা করে যাচ্ছে যা দেশ ও জনগনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এলাকাবাসীরা মারাত্মক পরিবেশ দুষন রোধ ও কৃষি জমি রক্ষার্তে এই ইটভাটা বন্ধের দাবি জানান।####

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •