ভারত পাকিস্তান পারলে বাংলাদেশ কেন নয় ?

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০১৯

ভারত পাকিস্তান পারলে বাংলাদেশ কেন নয় ?

 

মাহবুবুর রহমান /সংযুক্ত আরব আমিরাতঃ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে নারী গৃহকর্মী প্রেরন করে আসছে বাংলাদেশ

বিশ্বের ১৬২টি দেশে মোট এক কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৩ জন বাংলাদেশি শ্রমঅভিবাসী কাজ করছেন। তবে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য শ্রমবাজার মূলত ১১টি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। দেশগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইইউ), ওমান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, লেবানন, জর্ডান ও লিবিয়া। এর বাইরে অন্য দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকের হার তুলনামূলক কম। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিক মুক্তির উদ্দেশ্যে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে এসব দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পর নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের অনেক নারী কর্মী। নির্যাতনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আসছে সৌদি আরবে যাওয়া নারী কর্মীদের কাছ থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাস-গমন থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি নারী কর্মীরা।

উন্নত জীবনের আশায় প্রতি বছর পরিবার-পরিজন ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক। কিন্তু দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর খপ্পরে পড়ে তারা একদিকে যেমন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সহ্য করছেন নরক যন্ত্রণা। নারী কর্মী নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে। এরপর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ  নারী কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দুই বছরের চুক্তিতে যাওয়া নারী গৃহকর্মীরা মাসে বেতন পান সৌদি মুদ্রায় ৮০০ রিয়াল (প্রায় ১৭ হাজার টাকা)। গৃহকর্মীরা বিনা খরচে সৌদি আরবে যেতে পারেন। অবশ্য নিয়মিত বেতন না পাওয়া, নির্যাতনের শিকার হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে গত সাড়ে আট মাসে দেশে ফিরেছেন ৮৫০ নারী। এর আগের বছর ফিরেছেন ১ হাজার ৩৫৩ জন নারী।(সুত্রঃ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি))

সৌদি আরবে নারী শ্রমিক নির্যাতন নতুন কিছু নয়। ফিলিপাইনের সংসদীয় একটি প্রতিনিধি দল ২০১১ সালে সৌদি আরবে শ্রমিক নির্যাতনের সূত্র ধরে তদন্ত পরিচালনা করে। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেয় ফিলিপাইন। ২০১৫ সালে ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ২১টি দেশে শ্রমিক পাঠানোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এটি হয় ইন্দোনেশিয়ার দু’জন কর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর। সৌদি আরবে শ্রমিক প্রেরণে শ্রীলঙ্কা ও নেপালেরও আগ্রহ নেই। এসব দেশ তাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তার দিকটাকেই প্রধান করে বিবেচনা করেছে। শ্রমিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে আমাদের দেশেরও প্রাধান্য দেওয়া দরকার।

পুরুষ প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের।  কিন্তু সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেউই ব্যাপারটা আমলে নিচ্ছে না।  সরেজমিনে মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাথে আলাপ করে জানাযায় তারা কেউই চাননা বিদেশে গৃহপরিচারিকার কাজ নিয়ে কোনও বাংলাদেশী মহিলা আসুক।  কাতার প্রবাসী শাহ আলম চৌধুরী বলেন স্থানীয়দের দুমুখো নীতির কারনে অনেক সময় নির্জাতিতরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হন। তাছাড়া বাংলাদেশ  দূতাবাসের দূর্বল পদক্ষেপের অভিযোগ অনেক দিনের। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে বলা হচ্ছে  ভারত পাকিস্তানের অর্থনিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ।  সেই ভারত পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহকর্মী প্রেরন বন্ধ করে দিয়েছে অনেক আগেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •