ভূমিকম্পকে ভয় পেলে চলবে না

bhumi20170104103210-1মীর আব্দুল আলীম :::
ভূমিকম্পের ভয় যেন আমাদের পেয়ে বসেছে। ভুমিকম্পে এযাৎ বাংলাদেশে মানুষ মারা যাবার ঘটনা না ঘটলেও আতংকে আর হুড়োহুড়ি করে বাড়িঘর থেকে নামতে গিয়ে মানুষের মৃত্যুও খবর আমরা জানি। গত ৩ জানুয়ারি ৩টার কিছুসময় পর সারাদেশে মাঝারি মাত্রার ভুমিকম্পে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আতঙ্কিত হয়ে এক স্কুলছাত্রীসহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে কিংবা দেয়াল চাপা পরে কারো মৃত্যু ঘটনা ঘটেনি। ভয় থেকেই এ মৃত্যু। এর আগেও এমন মৃত্যুর বিষটি আমাদের জানা আছে।
ভূমিকম্পে ভয় পাওয়া ঠিক নয়। ভূমিকম্প আচানকই হয়। কোথায় কি হবে কেউ আগেভাগে বলতে পারে না। ভূমিকম্পে কাঁপছে বাড়িঘর, এই বুঝি ভেঙে পড়ছে মাথার উপর। এমন ভয় আমাদের মানুষিক রোগী বানিয়ে ফেলতে পারে। জন্মেও পর থেকেই দেখছি আর শুনে আসছি শক্তিশালি ভুমিকম্পে বাংলাদেশের বড় অংশ ধ্বংষ হয়ে যাবে। ৪৬ বছর পার করে দিলাম ভুমিকম্পে এ যাবৎ আমার কিংবা আমার পরিবারের একটি টাকারও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এমনকি কারো প্রাণহানিও ঘটেনি। ভূমিকম্পকে ভয় পেলে চলবে না। ভয়কে জয় করতে হবে। ভূমিকম্প থেকে বাঁচার উপায় বের করতে হবে। ভূমিকম্পে উঁচুতলার বিল্ডিংগুলো আগে ভেঙে পড়বে এ কথা ঠিক নয়। বরং ভূমিকম্পে হাইরাইজ বিল্ডিং থেকে ছোট বিল্ডিংগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৬ তলার নিচের বিল্ডিংগুলো বেশি অনিরাপদ।
ভূমিকম্পে বিল্ডিং সাধারণত দুমড়েমুচড়ে গায়ে পড়ে না। হেলে পড়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। এ সময় নিজেকে রক্ষা করতে হবে। ভিম কিংবা কলামের পাশে শক্ত কোন কিছুর পাশে থাকতে হবে। বিশেষ করে খাট কিংবা শক্ত ডাইনিং টেবিল হলে ভালো হয়। আগে থেকেই আশ্রয়ের জায়গা ঠিক করে নিতে হবে। ঘরে রাখতে হবে শাবল এবং হাতুড়ি জাতীয় কিছু দেশীয় যন্ত্র। ভূমিকম্প হলে অনেকেই তড়িঘড়ি করে নিচে ছোটেন। তাঁরা জানে না ভূমিকম্পে যত ক্ষতি হয় তার বেশি ক্ষতি হয় অস্থির লোকদের ক্ষেত্রে। ভূমিকম্প খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়। প্রলয় যা হবার তা হয় কয়েক সেকেন্ড কিংবা মিনিট সময়ের মধ্যে। এ সময়ে আপনি কি নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারবেন? রাস্তায় গিয়ে তো আরও বিপদে পড়তে হবে আপনাকে। বাড়ি ঘর হেলে গিয়ে ধসে পড়ে সব কিছুতো রাস্তার উপরই পড়বে। বরং রাস্তায় থাকলে চাপা পড়ে, মাথা কিংবা শরীরে কিছু পড়ে আপনি হতাহত হতে পারেন। যারা এক তলা কিংবা দোতলায় থাকেন, পাশে খালি মাঠ থাকেলে দ্রুত দৌঁড়ে যেতে পারেন। সেখানে যেতে যদি জঞ্জাল থাকে তা হলে সৃষ্টিকর্তাকে ভরসা করে শক্ত কোথাও অবস্থান নেয়াই শ্রেয়।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর লক্ষণ হিসেবে প্রায়ই দেশের কোথাও না কোথাও মৃদু ও মাঝারি মাত্রায় ভূমিকম্প হচ্ছে। গত বছর ২৫ এপ্রিল এবং ১২ মে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল আগের যে কোন সময়ের চাইতে বেশি। সব ছাড়িয়ে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টায় যে ভূমিকম্প হয়েছে তাতে সারাদেশে আতংক সৃষ্টি হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী ও লালমনিরহাটে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে তিনজন মারা গেছেন। ঢাকায় আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। প্রশ্ন হলো, দেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে কি হবে? কে কাকে বাঁচাবে? ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে পুরো দেশে অসংখ্য ভবন ধসে পড়বে! আমাদের ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরাতো তাই বলছেন। রানা প্লাজার মত একটি ভবন থেকেই মাত্র ক’হাজার মানুষ উদ্ধার করতে সকল শক্তি প্রয়োগ করেও কত দিন সময় লেগেছে। এই অবস্থা হলে এসব ভবন ধসে পড়লে বাঁচার কোন পথ আছে কি? বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। এ দেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হলেও তাতে ভাবনা নেই কারোরই। সরকারও এ ব্যাপারে সজাগ নয়। এখনও দেশে প্রতিদিন অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মিত হচ্ছে। কেবল ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ভবন নির্মাণই নয়, ভবনগুলোতে যেসব সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা তার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ভেজাল সিমেন্ট, দুর্বল ইট ব্যবহার হচ্ছে হরহামেশাই। এ অবস্থায় ভূমিকম্প হলে আমাদের ভাগ্যে কি ঘটবে তা হয়তো আমাদের ভাবনায়ও নেই।
জাপানে ঘনঘনই ভূমিকম্প হয়। তারা তা মোকাবিলাও করে। ভূমিকম্প হলে তারা এই অবস্থা থেকে দুই একদিনে বেরিয়ে আসতে পারে। জাপানের ভবনগুলো সেভাবেই নির্মাণ করা হয়। জাপানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবন দোলে কিন্তু ভবন ধসে পড়বে না। আমাদের ভবনগুলো যদি জাপানের মতো করে বানানো হয় তাহলে বোধহয় এই অবস্থা থেকে আমরা কিছুটা হলেও বাঁচতে পারি। কিন্তু এখনও সেভাবে ভাবছে না মানুষ। সরকারতো ভাবেই না। এ ব্যাপারে সরকারের কোন পরিকল্পনা কিংবা প্রচার প্রচারণা চোখে পড়বার মতো নয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? রানা প্লাজা ধসের পরই আমাদের সক্ষমতা কতটুকু তা আর বুঝতে বাকি ছিল না। ভূমিকম্প পরবর্তী প্রস্তুতি খুবই জরুরি। হাল সময়ে যে ভূমিকম্প হয়েছে, তিনটিরই উৎপত্তিস্থল ছিল নেপাল এবং ভারতে। এ সময় ৬.৭, ৭.৪ এবং ৭.৯ মাত্রায় ভূমিকম্প হয়। এ ছাড়াও এ সময়ে ছোট এবং মাঝারি কয়েক দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়। মাত্রা হিসাবে নেপাল এবং ভারতের প্রায় অর্ধেক মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয় বাংলাদেশে। ভারত এবং নেপালের সম-মাত্রায় বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
সরকার থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও ভূমিকম্প-পরবর্তী বিপর্যয় সামাল দেয়ার নূন্যতম প্রস্তুতিও যে নাই তা স্পষ্ট। ব্যাপক অভাব রয়েছে জনসচেতনতারও। ভূমিকম্পের ব্যাপারে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার কোনটাই সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যে অনেক মূল্যবান সময় অপচয় হয়েছে। আর বিলম্ব করা সমীচীন হবে না। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের প্রকৃত সময় এখনই। ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বদা আমাদের নিজেদেরই প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ভূমিকম্পই নয়, দেশের উপকূলীয় এলাকা ঘিরে ভয়াবহ সুনামি সৃষ্টির জন্য সাইসমিক গ্যাপ বিরাজমান রয়েছে। এ গ্যাপ থেকে যে কোন সময় সুনামিও হতে পারে। তাদের মতে বঙ্গোপসাগরের উত্তরে আন্দামান থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবডাকশন জোন বরাবর ৬শ’ কিলোমিটারের একটি সাইসমিক গ্যাপ রয়েছে। আমাদের দেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তি এই সাইসমিক গ্যাপে জমা হয়ে আছে। এই সাইসমিক গ্যাপ আমাদের জন্য অশনি সংকেত। এখান থেকে ৮ মাত্রার মতো শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর তা যদি সাগরতলে হয় তাহলে সেই ভূমিকম্প সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং সুনামিরই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমে যাবে।
প্রথমত যা করতে হবে- পরিবারের সবার সাথে বসে ভূমিকম্পের সময় কি করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে- মোট কথা আপনার পরিবারের ইমার্জেন্সি প্ল্যান কী সেটা ঠিক করে সব সদস্যদের জানিয়ে রাখুন। নিচের ১০টি টিপস পারলে ফটোকপি করে পরিবারের সকল সদস্যকে দিন। বিষয়গুলো নিয়ে একে অপরের সাথে আলোচনা করুন। সম্ভব হলে অন্যদেরও তা সরবরাহ করুন। বিষয়গুলো জানা থাকলে ভুমিকম্পের সময় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতে পারে। আসুন ভুমিকম্পের সময় কি করা উচিত তা ঝাটপট জেনেনিই।
১। ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে উত্তম পন্থা হল ‘ড্রপ-কাভার-হোল্ড অন’ বা ‘ডাক-কাভার’ পদ্ধতি। অর্থাৎ কম্পন শুরু হলে মেঝেতে বসে পড়ুন, তারপর কোন শক্ত টেবিল বা ডেস্কের নীচে ঢুকে কাভার নিন, এমন ডেস্ক বেছে নিন বা এমনভাবে কাভার নিন যেন প্রয়োজনে আপনি কাভারসহ মুভ করতে পারেন। তাই এগুলো থেকে রক্ষার জন্য কোন শক্ত ডেস্ক বা এরকম কিছুর নীচে ঢুকে কাভার নেয়া বেশি জরুরি।
২। ভূমিকম্পের সময় কোন ফ্লোর নিরাপদ? সাধারণত ভূমিকম্পের সময় চারভাবে ফ্লোর বা দালান ধসে পড়তে পারে। দালানের কোনতলা বেশি নিরাপদ- এক্ষেত্রে বেশিরভাগ মতামত যেটা পেয়েছি তা হল ভূমিকম্পের সময় উপরের দিকের তলাগুলোতে দুলুনি হবে বেশি, নিচের তলায় কম। কিন্তু দালান যদি উল্লম্ব বরাবর নিচের দিকে ধসে পড়ে তবে নিচ তলায় হতাহত হবে বেশি, কারণ উপরের সব ফ্লোরের ওজন তখন নিচে এসে পড়বে।
৩। যে ফ্লোরেই থাকুন- ভূমিকম্পের সময় বেশি নড়াচড়া, বাইরে বের হবার চেষ্টা করা, জানালা দিয়ে লাফ দেবার চেষ্টা ইত্যাদি না করাই উত্তম। একটা সাধারণ নিয়ম হল- এসময় যত বেশি মুভমেন্ট করবেন, তত বেশি আহত হবার সম্ভাবনা থাকবে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে অফ দ্য রেকর্ড একটা কথা- যদি গ্রাউন্ড ফ্লোরে একেবারে দরজার কাছে থাকেন, তবে এক দৌড়ে বাইরে কোন খোলা জায়গায় চলে যান। সিঁড়ি পার হয়ে যেতে হলে না যাওয়াই ভালো।
৪। সিঁড়িতে আশ্রয় নেয়া উচিত নয়। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় এলিভেটর/লিফট ব্যবহারও উচিত না।
৫। রাতে বিছানায় থাকার সময় ভূমিকম্প হলে উদ্ধারকর্মী বলছে গড়িয়ে ফ্লোরে নেমে পড়তে- এটা বিল্ডিং ধসার পার্সপেক্টিভেই। রেডক্রস বলছে বিছানায় থেকে বালিশ দিয়ে কাভার নিতে, কারণ সিলিং ধসবে না, কিন্তু ফ্লোরে নামলে অন্যান্য কম্পনরত বস্ত থেকে আঘাত আসতে পারে।
৬। ভূমিকম্পে যদি দালান ধসে পড়ে তবে বাইরের দিকের ওয়ালের কাছে থাকলে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাড়াতাড়ি উদ্ধার পাবার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে হচ্ছে এসময় ভেতরের দিকে আশ্রয় নেয়া অর্থাৎ জানালা, কাঁচ, বাইরের ওয়াল, দরজা সবকিছু থেকে দূরে থাকা। আপনি যদি নতুন, মজবুত কোন দালানে থাকেন, তবে ঋঊগঅ-পরামর্শ অনুযায়ী ভেতরের দিকেই থাকেন- জানালা, কাঁচ, বাইরের ওয়াল সবকিছু থেকে দূরে; আর যদি পুরান ঢাকার বাড়িগুলোর মত ঝরঝরে কোন দালানে থাকেন তবে বাইরের ওয়ালের কাছে আশ্রয় নিন।
৭। রেড ক্রস বলছে গাড়ি বন্ধ করে গাড়ির ভিতরেই বসে থাকতে। গাড়ির বাইরে থাকলে আহত হবার সম্ভাবনা বেশি। রেড ক্রসের এই পরামর্শ যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে দেয়া এবং এটা সব দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।
৮। সব বড় ভূমিকম্পের পরপরই আরেকটা ছোট ভূমিকম্প হয় যেটাকে ‘আফটার শক’ বলে। এটার জন্যও সতর্ক থাকুন, না হলে পচা শামুকেই শেষমেশ পা কাটতে পারে।
৯। বড় বড় এবং লম্বা ফার্নিচারগুলোকে যেমন- শেলফ ইত্যাদি দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখুন যেন কম্পনের সময় গায়ের উপর পড়ে না যায়। আর টিভি, ক্যাসেট প্লেয়ার ইতাদি ভারী জিনিষগুলো মাটিতে নামিয়ে রাখুন।
১০। প্রথম ভূমিকম্পের পর ইউটিলিটি লাইনগুলো (গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) একনজর দেখে নিন। কোথাও কোন লিক বা ড্যামেজ দেখলে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমাদের মূল লক্ষ হওয়া উচিত দুইটি। প্রথমত, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে নিম্নতম পর্যায়ে রাখা এবং দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্পপরবর্তী বিপর্যয় সামাল দেওয়া। দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির কথা বলা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থা এখনও খুবই শোচনীয়। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিম্নতম পর্যায়ে রাখতে হলে বাড়িঘর ও হাসপাতালসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আর বিলম্ব করা সমীচীন হবে না। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের প্রকৃত সময় এখনই। আর কালক্ষেপণ না করে এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *