ভেদরগঞ্জে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন : আতঙ্কে এলাকাবাসী

প্রকাশিত:সোমবার, ২৭ জানু ২০২০ ০৬:০১

শরীয়তপুর :
শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চরভাগায় নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় প্রভাবশালীরা অবৈধ ড্রেজার স্থাপন করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করায় ভাংগনের ভয়ে পদ্মাপাড়ের লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী সখিপুর থানা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে রহস্যজনক কারনে এ বিষয়ে নীরব রয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের এ নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা ভাঙ্গন কবলিত এলাকাটিতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন স্থাপন করেছে। তাদের দিন কাটছে ভাঙ্গন আতংকে। এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
চরভাগা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ফৌজিয়া আক্তার ও সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, জেলার নড়িয়া উপজেলা শুরেশ^র, কেদারপুর, নড়িয়া পৌরসভা, মোক্তারের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন রোধে সরকারিভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরভাগা ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা প্রতি বছরই শিকার হয় পদ্মার ভাঙ্গনের। প্রবল খর স্রোতে প্রতিবছরই এসব এলাকা থেকে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায় রাস্তা, ঘাট, ব্রীজ কালভার্ট, হাটবাজার, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে গত বছর পদ্মার ভাঙ্গন রোধে বেড়ীবাধ স্থাপনের দাবিতে পদ্মা পাড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে চরভাগা, কাঁচিকাটা ও তারাবুনিয়া ইউনিয়নের ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক জেলেসহ সাধারন জনগন। পরে এসব এলাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে জিওব্যাগ ফেলা হলেও পুরোপুরিভাবে ভাঙ্গন রোধ হয়নি। পদ্মার ভাঙ্গন কবলিত এসব এলাকার লোকজন যখন ভাঙ্গন আতঙ্কে দিনপার করছে, অথচ এখন রাস্তা সংস্কার করনের নামে সে নদীতে স্থাপন করা হয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ ড্রেজার। চরভাগা ইউনিয়নের গৌরাঙ্গবাজার থেকে মমিন আলী মোল্যার বাজার সড়কে প্রয়োজনীয় ৫ লক্ষ ফিট বালির চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যে পদ্মার মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছে এ অবৈধ ড্রেজার। প্রতিদিন উঠানো হচ্ছে হাজার হাজার ফুট বালি। ফলে ড্রেজার বসানোর একদিনের মাথায় তীর ঘেষে দেখা দিয়েছে পদ্মার মৃদু ভাঙ্গন। জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ূম পাইক, চরভাগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগের কতিপয় লোকজন নিজেদের স্বার্থে এ ড্রেজার স্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী হালেম বেপারী, নাজমুল বকাউল, তৌহিদ বকাউলসহ এলাকার অনেকেই। অবৈধ ড্রেজার বন্ধ ও পদ্মার ভাঙ্গন থেকে চরভাগা এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডকে রক্ষার দাবীতে ২৬ জানুয়ারী সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে এলাকাবাসীর পক্ষে উদয়ন সমাজ উন্নয়ন সংসদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এ সংগঠনের তৌহিদ বকাউল স্বাক্ষরিত একটি লিখিত আবেদন করেন। এর পরও চলছে অবৈধ ড্রেজার। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাছাড়া বালি উত্তোলনকারী চক্রটি স্থানীয়দের কোন বাঁধাও মানছে না। আর রহস্যজনক কারনে এ বিষয়ে চুপ রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এ ব্যাপারে চরভাগা উদয়ন সমাজ উন্নয়ন সংসদ এর সহসভাপতি উজ্জল বকাউল, সদস্য তৌহিদ বকাউল বলেন, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারনে ইতোমধ্যে মৃদু ভাংগন শুরু হয়েছে। আর এ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে আমাদের চরভাগা ইউনিয়নের ৩/৪ টি ওয়ার্ড পদ্মার ভাংগনে বিলীন হয়ে যাবে। আমরা ভাংগনের আতংকে আছি। তাই আমরা এলাকা বাসীর পক্ষে ড্রেজিং বন্ধের দাবীতে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত আবেদন করেছি।
এ ব্যাপারে চরভাগা ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি মোঃ মিলন হাওলাদার বলেন, শতকরা ৯৭ শতাংশ লোকজন চায় রাস্তা হউক আর রাস্তার সার্থে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। বলগেট দিয়ে বালি আনার কথা ছিল এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারনে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এবং সেটি আমাদের জায়গা জমি হলেও আমি কাটছি না।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম পাইক বলেন, ড্রেজার এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। কে বা কারা মাটি কাটে আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আল নাসিফ বলেন, চরভাগা এলাকার অবৈধ ড্রেজার এর বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। আবেদন এর পরিপেক্ষিতে আমরা সরেরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থ গ্রহন করবো।

এই সংবাদটি 1,226 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •