ভেড়ামারা ও দৌলতপুর বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবে গেছে

প্রকাশিত:শনিবার, ২৫ জুলা ২০২০ ১২:০৭

ভেড়ামারা ও দৌলতপুর বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে ফসল ডুবে গেছে

 

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে বন্যা ও বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি বৃদ্ধির ফলে ফসল ডুবে গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলসহ নিম্ম অঞ্চরের ফসল প্লাবিত হয়েছে। ভেড়ামারা ও দৌলতপুরে আগাম বন্যার কারনে কৃষকরা তাদের চাষকরা অপরিপক্ক ফসল কেটে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আগেই তা কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা। অসময়ে অপরিপক্ক পাট কেটে নেওয়াতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে তারা জানিয়েছে। তবে আখ ও আউশ ধান কাটার যোগ্য না হওয়ায় ধানচাষীরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ, বাহাদুরপুর, মোকারিমপুর ও বাহিরচর ইউনিয়ন ও দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর. ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়ন পদ্মা নদী তীরবর্তী ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের চাষীরা কৃষি নির্ভর। তারা চরাঞ্চলে ফসল ফলিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পুরন করে থাকে। বন্যা ও বৃষ্টি এদের জন্য প্রতিবছর আর্শিবাদ হয়ে দেখা দিলেও এবছর আগাম বন্যা হওয়ায় তা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছর পাট ও আউশ ধানসহ বিভিন্ন ফসল কৃষকরা ঘরে তুলার পরপরই বন্যা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে তারা তেমন ক্ষতির সন্মুখীন হোন না। কিন্তু এবছর ধান ও পাটসহ অন্যান্য ফসল ঘরে তোলার আগেই বন্যার হানা। তাই দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে ওই সকল ইউনিয়নের চরাঞ্চলের চাষীরা। দৌনতপুরের চিলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের নিচু এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যার কারনে কৃষকরা অপরিপক্ক পাট কেটে নিয়ে তা পচন করছে। তবে পানিতে তলিয়ে যাওয়া আউশ ধানটা এবছর কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেনা।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, বন্যার পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির ফলে তার ইউনিয়নের চরাঞ্চলের নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় চাষকরা ফসল কৃষকরা কেটে নিচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে প্রতিদিনই চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষক সাজেদুল জানান, পদ্মা নদীতে পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার ফলে চরের নীচু এলাকার ফসল ডুবে গেছে। তবে কৃষকরা সেসব ফসল কেটে ঘরে তুলছে। এভাবে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা কবলিত দৌলতপুরের ৪টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মানুষের ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জীবন যাত্রা দূর্বিসহ হয়ে পড়বে।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল মারুফ জানান, উপজেলার জুনিয়াদহ, বাহাদুরপুর, মোকারিমপুর ও বাহিরচর ইউনিয়নে পদ্মা নদীতে বন্যা ও বৃষ্টির পানি বৃদ্ধির ফলে ফসল ডুবে গেছে। এবছর প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় নিম্ম অঞ্চলের ফসল ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ