মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক

ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের মহাপুরুষ, বিশ্ব শান্তির দূত মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।

সারা বিশ্বে মুক্তিকামী মানুষের অন্যতম প্রেরণার উৎস ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক। তার আদর্শ, জীবন ও শিক্ষা সবার জন্য অনুকরণীয়। তিনি ছিলেন সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রেরণার উৎসব।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির উদ্যোগে ‘মহাত্মা গান্ধী এবং বিশ্ব শান্তি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী’র সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) নবনীতা চক্রবর্তী, সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী। সেমিনারের মূল প্রবদ্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক অধ্যাপক আবুল মকসুদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর কোশারী।

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, মহাত্মা গান্ধী ছিলেন সারা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রেরণার উৎসব। তিনি সমগ্র মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিলেন, আজও তিনি মানুষের হৃদয়ে আছেন। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক। তার আর্দশ, জীবন ও শিক্ষা সবার জন্য অনুকরণীয়। তার অহিংস আন্দোলন, মানবতাবাদী দর্শন ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক আলোকবর্তিকা। তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়নি। তথাপি বিশ্ব শান্তির কথা আসলেই প্রথমে তার নাম চলে আসে।

ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সচিব নবনীতা চক্রবর্তী বলেন, আমরা মহাত্মা গান্ধীকে লালন করি। তিনি শুধু ভারতে নয়, সারা বিশ্বের শান্তির দূত, আদর্শের প্রতীক। আমরা তার জীবন আদর্শ ও চর্চায় বছরব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের মহাপরিকল্পনা নিয়েছি। আজ থেকে আগামী বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার আদর্শ জীবন তুলে ধরব। মহান এ মানুষটি বাংলাদেশের নোয়াখালীতেও এসেছিলেন। তিনি এসেছিলেন শান্তির বার্তা নিয়ে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে। তিনি সমগ্র জাতির, সব ধর্মের, সব মানুষের আদর্শ ছিলেন।

আবুল মকসুদ বলেন, মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল ছিলেন। তিনি অতিসাধারণ জীবনযাপন করতেন। তার নিজের পরিধেয় কাপড় ছিল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ধুতি এবং শাল, যা তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন। আত্মশুদ্ধি এবং প্রতিবাদের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য উপবাস থাকতেন। আজ তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে সর্বপ্রথম মিয়ানমারে গিয়ে সূচিসহ অপরাধীদের বলতেন, রোহিঙ্গাদের ওপর তোমাদের বর্বরতা বন্ধ কর এবং করতে হবে। মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার এক উজ্জল নক্ষত্র।

প্রতিপাদ্যে বলা হয়, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর গান্ধী সমগ্র ভারতব্যাপী দারিদ্র দূরীকরণ, নারী স্বাধীনতা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, বর্ণবৈষম্য দূরীকরণ, জাতির অর্থনৈতিক সচ্ছলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন। কিন্তু এর সবগুলোই ছিল স্বরাজ অর্থাৎ ভারতকে বিদেশি শাসক থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে। ১৯৩০ সালে গান্ধী ভারতীয়দের লবণ করের প্রতিবাদে ২৪৮ মাইল দীর্ঘ ডান্ডি লবণ কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন। এটি পরবর্তীতে ১৯৪২ সালে ইংরেজ শাসকদের প্রতি সরাসরি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়।