মাননীয় প্রধান বিচারপতি- মন্ত্রী শার্ট আপ———প্লিজ! ইটস এনাফ ইজ এনাফ!

আহমদ ফয়সল চৌধুরী

লেখার শুরুতেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ক্ষমাই মহত্বের লক্ষন। সীমা লংঙ্গনকারীকে নাকি আল্লাহ তালাহ পছন্দ করেননা। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক এখন সব কিছু ছাড়িয়ে গেছে। ভদ্রতা সিষ্টতা বলতে বাংলাদেশে অবশিষ্ট আর কিছু আছে বলে মনে হয়না। বর্তমান বিচারপতি এসকে সিনহার বক্তব্য রাজনৈতীক নেতাদেরকে ও হার মানায়। তিনি কারনে অকারনে এত বেশী কথা বলেন যে মাননীয় অর্থমন্ত্রীকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি! পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কি এসকে সিনহার মত শ্রদ্ব্ভাাজন? বিচারপতি রয়েছেন? আমি জানিনা। আমি যে দেশে বসবাস করি সে দেশের চীফ জাস্টিসের নাম মানুষ জানেনা, চেনেওনা। যারা জানেন তারা নিশ্চয়ই আইন পেশার সাথে জড়িত। লর্ড টমাস নামে বৃটেনের যে চীফ জাস্টিস রয়েছেন তাকে আমি একদিন দেখেছিলাম এক পার্টিতে, কথা বলতে চেয়েছি, বলতে চেয়েছি আমাদের দেশের এসকে সিনহা সাহেব যেভাবে কথা বলেন যেভাবে তিনি রাজনৈতীক বক্তব্য দিয়ে বেড়ান সেটা কি বিচারপতিদের কোড অব কন্ট্রাক্টে পড়ে? লর্ড টমাস আমার সাথে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাননি। সাবেক এটর্নি জেনারেল ডমনিক গ্রীনের সাথে বাক্তিগত পরিচয় রয়েছে ডমেনিক গ্রীন এটর্নি জেনারেল থাকা-অবস্থায় তাকে কোনো বাজে কথা বলতে শুনিনি। ডমোনিক গ্রীনের পর এখন এটর্নী জেনারেল হয়েছেন জেরেমি রাইট, তিনিও তার কাজ করছেন। বাংলাদেশে এটর্নী জেনারেলরাও মাঝে মধ্যে দলীয় কথা বার্তা বলেন। একবার বছর চারেক আগে বাংলাদেশের এক এটর্নী জেনারেল সাহেবকে নিয়ে আমার টক শো ষ্ট্রেইট ডায়লগে বসেছিলাম। তিনি আওয়ামলীগের সময় এটর্নী জেনারেল ছিলেন, যে সব কথা তিনি লাইভ প্রোগ্রামে বলেছেন তা শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে বার বার অনুরোধ করেছিলাম ব্যাক্তিগতভাবে তিনি যেন কাউকে আক্রমন না করেন , কিন্তু কে শোনে কার কথা। অফকমের দোহাই ও দিয়েছিলাম তিনি বলেছিলেন তাকে কোনো কিছু না শেখাতে তিনি বৃটেন থেকে আমার জন্মের বছর বার-এট-ল করেছেন।

সে যাক কথার পিঠে কথা আসে। একজন লর্ড চ্যান্সেলের ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থেচারের সময় নাম ছিল লর্ড হেডলার্মস্যাম, তিনি বলেছিলেন “ডেমোক্রেসী হচ্ছে এক ধরনের ইলেকটেড ডিক্টেটরশীপ“ এর বাইরে কোনো কথা বলেননি। মর্ডান হিষ্ট্রিতে এর কোনো নজীর নেই। ১৯৫০ এর দশকে লর্ড ডেনিং নামে একজন বিচারপতি ছিলেন বৃটেনে, তিনি অনেক বিচার করেছেন অনেক জাজমেন্ট দিয়েছিলেন, জাজমেন্টের মাধ্যমে তিনি মানুষের অনেক উপকার করেছেন কিন্তু কোনো বাজে মন্তব্য করেননি! বাংলাদেশের যে সংবিধান রয়েছে সেটিতো লিখিত সংবিধান। অলিখিত সংবিধান দিয়ে গোটা পৃথিবী শাসন করেছে বৃটেন। কোথায় কোনো সমস্যা তো হয়নি। যত সমস্যা বাংলাদেশে। লিখিত সংবিধানে যত রকমের কাটকাটি করেছেন আমাদের শাসক গোষ্টী ক্ষমতার স্বার্থে তা বোধহয় পৃথিবীতে বিরল।

 

 

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক বলেছেন পিপুলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ থেকে নাকি জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশে পরিনত হতে চলছে বাংলাদেশ। কথাটির মর্ম অনেক। যদিও তিনি সমালোচনা করেছেন বর্তমান প্রধান বিচারপতির তারপরও বলতে হয় বাংলাদেশ যদি জাজেস রিপাবলীক অব বাংলাদেশ হয় তাতে তো ক্ষতি নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে জাজেস রিপাবলীক অব বাংলাদেশ তো হচ্ছেনা, খুন গুম সন্ত্রাস চাাদবাজীতে ভাসছে স্বদেশ। একটি দেশে জুডিশিয়ারী, এক্সিকিউটিব ও লেজিসলেচারী থাকে। জুডিশিয়ারী হচ্ছে আইন, এক্সিকিউটিব হচ্ছে সরকার, লেজিসলেচারী হচ্চে পার্লামেন্ট। বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন বর্তমান পার্লামেন্ট ইমিচিউর। তিনি রায়ে বলেছেন“এমপি হওয়ার আগে তাদের কনসিডার করা উচিৎ তারা এমপি হওয়ার যোগ্য কিনা? এ ব্যাপারে সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক সাহেব বলেছেন এখন যদি এমপিরা প্রশ্ন তুলেন জাজরা বিচারপতি হওয়ার যোগ্য কিনা? তখন কি হবে? এমপি হওয়ার যোগ্য কি-না? সেটি তো বিচার করবে জনগন! আর জাজ সাহেবরা জাজ হবেন কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে? তারা যদি অযোগ্য হন তাহলে তাদেরকে মনিটর করবে কে? একজন জাজ যদি তিনি বিএনপি আওয়ামীলীগ হন তাকে কে রক্ষা করবে? বাংলদেশের মত দেশে এসব বিচারপতি রাজনীতিবীদ এমপি মন্ত্রীরা পার পেয়ে যাচ্ছেন, আজে বাজে কথা বলে, বাংলাদেশ যদি ইউরোপের কোনো দেশ হতো তাহলে কি হতো এসব মন্ত্রী এমপি বিচারপতিদের অবস্থা? বৃটেনের ব্রেক্সিট বিল নিয়ে হাইকোট কি রায় দিয়েছিল তা সবার জানা, আমি আশা করেছিলাম ব্রেক্সিট বিল নিয়ে বৃটেনের হ্ইাকোর্ট, বৃটেনের আইনজীবী, রাজনীতিবীদ, বিচারপতি সিনহা সাহেবের মত আজে বাজে কথা বলবেন! আমির হোসেন আমু সাহেবের মত অকথ্য ভাষায় বিচারপতির চরিত্র হনন করবেন। অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত সাহেবের মত রাবীস, ননসেস, ষ্টুপিড বোগাশ বলবেন। কিন্তু না তার কিছ্ইু হয়নি। হাইকোর্টের মতামত দিয়েই তারা তাদের কর্তব্য শেষ করেছেন। বিচারপতি এসকে সিনহা যেমন বিতর্ক সৃষ্টি করতে ভালোবাসেন তেমনি সাবেক বিচারপতি খায়রুল হক সাহেব ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। আমি খায়রুল হক সাহেবের বক্তব্য শুনেছি এবং পড়েছি। তিনি বলেছেন “আমার বক্তব্য স্পষ্ট, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সঙ্গে ইন্ডিপেন্ডেন্ডস অব জুডিশিয়ারীর সে রকম কোনো পার্থক্য নেই, বরং এটি ইন্ডিপেন্ডেস অব জুডিশিয়ারির মোড়কে হাতিয়ার হিসেবে করা হচ্ছে“ খায়রুল হক সাহেব প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তার কাছে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা মাননীয় বিচারপতি আপনাকে ও তো এ জাতী চেনে। আপনিও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন, একজন তো হাইকোটের দরজায় লাতী মেরেছিলেন। আমার জানতে খুবই ইচ্ছে করে সুপ্রিম জুডিশিয়ারির কি কোনো কালার আছে? ইন্ডিপেন্ডেস জুডিশীয়ারির কোনো কালার নেই। একজন জাজকে হতে হবে সাদা শুধুই সাদা, তিনি কোনো আজে বাজে কথা বলতে পারেননা। তিনি কোনো দলের পক্ষে কথা বলতে পারেননা। তিনি বলতে পারেননা এমপিরা অযোগ্য অপদার্থ, তিনি স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারেননা। স্বাধীনতায় কার কি অবদান জাতী এবং বিশ্ববাসী তা জানে। এটা নতুন করে বলার কোনো বিষয় নেই। বিচারপতিরা যদি রানা প্লাজার ঘটনার পর কোনো সংশোধনী নিয়ে কথা বলতেন তাহলে ভালো হতো। মানুষ তাদের মনে রাখতো। বাংলাদেশে এমন কোনো বিচারপতি কি আছেন যিনি এমন একটি আইন অথবা এমন একটি সংশোধনীর ব্যাপারে কথা বলেছেন জাতী তা শ্রদ্বার সাথে স্বরন করবে? আমার কাছে অথবা আমার জানামতে নেই। এসব বিতর্ক আর কুতর্ক না করে কি ভালো কোনো কাজ কি করা যায়না মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ? এই যে এত ক্রস ফায়ার হলো কোনো বিচারপতি কি পুলিশের প্রধান অথব্ ার‌্যারেব প্রধান কে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করেছেন কেন ক্রস ফায়ার হচ্ছে? কেন মাঠে নিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে? ব্যারিষ্টার তাফস সাহেব কি করে জানলেন যে রায় লিখে দিয়েছেন একটি ইংরেজী পত্রিকার সম্পাদক! তার মানে কি আমাদের বিচারপতিরা রায়ও লিখতে জানেননা? এর আগে ওয়ার ক্রাইম এর রায় নিয়েও কথা হয়েছিল, ব্রাসেলস থেকে জিয়াউদ্দিন নামক এক ব্যাক্তি নাকি স্কাইপের মাধ্যমে রায় লিখতে সহযোগিতা করেছিলেন! পরবর্তীতে সেই বিচারপতিকে অপসারন করা হয়েছিল! রায়ের পর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী বিচারপতির বাসায় কেন গিয়েছিলেন? সেখানে গিয়ে কি তিনি এচিভ করলেন? এটা কি আওয়ামী বিএনপির সংলাপ?

প্রিয় পাঠক এই রায় নিয়ে রাজনীতিবীদ মন্ত্রী এমপিরা এমন ভাষায় কথা বলছেন ব্যাক্তিগত আক্রমন করছেন একজন আরেকজনকে, দেখে মনে হচ্ছে তারা জাতিকে উদ্বার করছেন! আসলে তাদের এই কুতর্ক থেকে জাতীর শেখার কিছুই নেই। বিএনপির সময় আজিজ সাহেব নামে এক সিইসি ছিলেন, জাতী তাকে মনে রাখবে অনেকগুলো বছর। তিনিও তো একজন বিচারপতি ছিলেন। সেই বিচারপতি আজিজ সাহেবের মনে অসংখ্য অপরাধ প্রবনতা, অসংখ্য রঙ্গ বেরঙ্গের চিন্তা হয়তো আজ তাকে তাড়িত করে। তিনি কি দিনের শেষে শান্তীতে ঘুমাতে পারেন? আমি জানিনা, মানুষ তার কৃতকর্মের জন্য সুস্থভাবে বেচে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.