মাননীয় প্রধানমন্ত্রীঃ দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের কান্না কি শুনবেন ?

প্রকাশিত:সোমবার, ০৩ আগ ২০২০ ১১:০৮

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীঃ দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের কান্না কি শুনবেন ?

মাহবুবুর রহমান বাবুঃ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর শীর্ষ ১০ দেশের একটি৷ বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পযর্ন্ত এক কোটিরও বেশি বাংলদেশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গেছেন৷ তারা সবমিলিয়ে দুই লাখ ১৭ হাজার মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় পাঠিয়েছেন৷ তবে করোনার কারণে পুরো অভিবাসন খাতটা সংকটে পড়েছে৷ তার আরেকটি কারন ছুটিতে এসে আটকে পড়া প্রবাসী ক্ষর্মক্ষেত্রে ফিরতে না পারা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ছুটিতে দেশে gআসা দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী একই দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন ৷ কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আবার কবে তারা কাজে যোগ দিতে পারবেন বা আদৗ পারবেন কী না জানেন না অনেকই ৷ এখন তাদের অনেকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ৷ কয়েকদিন আগেও যেখানে তারা নিজের পরিবার চালিয়ে আত্মীয় সজন পাড়া প্রতিবেশীর খেয়াল রাখতেন আজ তারা কিভাবে পরিবার নিয়ে সামনের দিনগুলোতে চলবেন সেই দুশ্চিন্তায় আছেন ৷

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীগণ সাধারণত বছরে এক মাসের ছুটি পান। কিন্তু প্রতি বছর ছুটি দেননা নিয়োগকর্তা তাই বাধ্য হয়ে দুই থেকে তিন বছর পর একবার ছুটিতে আসেন। এমনিতে সামান্য বেতন তারউপর টানাপোড়েনের সংসার দুইয়ের সমন্বয় ঘটাতে দিনরাত হাহাকার। পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে গাধারমত খেটেই যাচ্ছেন। অনেক আবেগ আর ভালবাসা বুকে নিয়ে যখন এসকল মানুষ কয়েকটি দিনের জন্য দেশে আসেন তখন অনেক বিড়ম্বনার শিকার হলেও দেশে টাকা পয়সা খরচের ব্যাপারে তাখেন উদার।  মনে মনে ভাবেন কয়েকটি দিনের জন্য এসেছি আবার ফিরে গেলে টাকার অভাব হবেনা। কিন্তু অনেককেই দেখেছি ছুটি শেষে বিদেশে ফেরার সময় গাড়ি ভাড়ার টাকা ধার করতে।

মহামারী করোনা পূর্ববর্তী  যে সকল প্রবাসীগন ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন তাদের অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছুটির আমেজে তাকা কেউই ভাবতে পারেননি এভাবে আটকা পড়েবেন।  বিগত দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে চলতে গিয়ে সহায় সম্বল সব শেষ। এমনকি প্রিয়জনের গহনাগাঁটি অনেকে বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন ফেরত যাওয়ার জন্য টিকেটের প্রয়োজন, এয়ারলাইনসগুলো পুরাতন টিকেটে ভ্রমনের সুযোগ দিচ্ছেনা। নতুন টিকেটের মূল্য আকাশচুম্বী।

তারপর মরার উপর খাঁড়ার গা হয়ে দেখা দিয়েছে করোনা টেস্টের বিড়ম্বনা। সাধারণ মানুষ যেখানে ২০০ টাকায় করোনা পরীক্ষার ফি দেন সেখানে প্রবাসীদের জন্য সাড়ে ৩হাজার টাকা। শুধু টাকা দিয়েই শেষ নয় তাদেরকে তিন দিনই দৌড়াতে হয় বিভিন্ন জায়গায়। এদিকে ১লা আগষ্ট থেকে আবার যুক্ত হয়েছে নতুন ট্যাক্স।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ৭৫ শতাংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে৷ এককভাবে শুধু সৌদি আরবেই আছেন ২০ লাখ বাংলাদেশি৷ আরব আমিরাতে আছেন অন্তত ১৫ লাখ৷ এছাড়া কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইনের গড়ে তিন থেকে চার লাখ বাংলাদেশি আছেন৷ একে তো করোনা তার ওপর জ্বালানি তেলের দাম একেবারেই কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট তৈরি হয়েছে৷ ওদিকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরাও একইভাবে নানা সংকটে৷

এই যে প্রবাসীরা নানা সংকটে, তার ছাপ পড়েছে প্রবাসী আয়েও৷ বাংলাদেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান৷ বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ২২ শতাংশ কমেছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বিভিন্ন সেক্টরে বিপুল পরিমান প্রনোদণা দিয়ছেন। দেশের রাজস্বের একটি বড় অংশ আসে ফরেন রেমিট্যান্স থেকে। এজন্য দয়া করে অন্তত দেশে আটকে পড়া এসব অর্ধমৃত প্রবাসীদের দিকে তাকান, উনাদের সহজে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যেতে সাহায্যের হাত প্রসারিত করুন।

 

এই সংবাদটি 1,301 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •