মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন আদালতের রায়ে!

প্রকাশিত:সোমবার, ২৬ অক্টো ২০২০ ০৯:১০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন আদালতের রায়ে!

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে সুপ্রিমকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দেশটির নির্বাচন ৩ নভেম্বর শেষ হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন আদালতের রায়ের মাধ্যমে আরও বেশ কয়েকদিন পর। নির্বাচনের রায় আদালত পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন মেনে না নেওয়ার হুমকি এবং নানান মন্তব্য। তার প্রেক্ষিতে দেশটির অধিকাংশ রাজ্যে সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রতিরোধ শিবির।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‌’প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট প্রদানের বিরোধিতা করে বলেছেন, এই ব্যবস্থায় জালিয়াতি হবে’। সত্যিকার অর্থে এসব বলার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার পথ সুগম করে রাখছেন। নির্বাচনী ফলাফল নিজের পক্ষে না হলে রিপাবলিকানরা আইনি লড়াইয়ে নামবে এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার। আর এ কারণেই ভোটের আগে সুপ্রিম কোর্টের শূন্য আসনে বিচারপতি নিয়োগের বিষয়টিকে তারা এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন।

নির্বাচনের মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি রুথ বেদার গিন্সবার্গের মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির পদ শূন্য হয়। ডেমোক্র্যাটদের দাবি ছিল, নির্বাচন সামনে রেখে এই পদে নিয়োগ স্থগিত রাখা। সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তোড়জোড় করে ট্রাম্প মনোনয়ন দিয়েছেন বিচারপতি এমি কোনি ব্যারেটকে।

নির্বাচনের আগেই এই পদে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। লক্ষ্য সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের আধিপত্যকে আরও শক্ত করা। এই তৎপরতার বিরুদ্ধে গত শনিবার ওয়াশিংটনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেন বলছেন, আর মাত্র অল্প কয়েক দিন পরেই নির্বাচন। ফলে সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ এই নিয়োগটি নতুন প্রেসিডেন্টের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। তিনিসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা জোড়ালোভাবে এই নিয়োগের বিরোধিতা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তি, তিনি চার বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। সেই মেয়াদ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ফলে তার মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেওয়াটাই তার সাংবিধানিক দায়িত্ব। ‌’আমি  দায়িত্ব পালন করছি। সর্বোচ্চ আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কোনো অভিপ্রায় আমার নাই।’

বিচারপতি এমি কোনি ব্যারেট সিনেট শুনানিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার আগে থেকে কোনো যোগাযোগ হয়নি। যদি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আদালত পর্যন্ত যায়, তাহলে তিনি কি সেই বিচার থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবেন? এই প্রশ্নটি অবশ্য এড়িয়ে যান ট্রাম্প মনোনীত এই বিচারপতি।

 

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ