মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে ভিসা এবং গ্রীন কার্ড প্রাপ্তি প্রসঙ্গে।

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে পৃথিবী বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে বিনিয়োগকারী ভিসা প্রদান করা হয়। বিনিয়োগকারী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্টান কে এই ক্ষেত্রে স্ব স্ব দেশ থেকে আইনানুযায়ী নিজের টাকা নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক সংস্থার মাধ্যমে আইনানুগ ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়।এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা যাক; বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিকভাবে চুক্তিভুক্ত রাষ্ট্র বিধায় বাংলাদেশ বণিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে ভিসা এবং গ্রিনকার্ড প্রাপ্তির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। নূন্যতম মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি গ্রীন কার্ড পেতে পারেন। আপনার নূন্যতম  পাঁচ লক্ষ  ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি গ্রীন কার্ড আবেদন করতে পারেন।

 

বিভিন্ন কন্সালটেন্সি ফার্ম, ল-ফার্ম এই ভিসা প্রসেসিং করা হয় উচ্চ হারে ফি এর বিনিময়ে। তবে, এই বিনিময় ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিনিয়োগকরিদের প্রচুর সতর্কতা অবলম্বন করে বিনিয়োগচুক্তি করতে হবে। বিনিয়োগ ব্যর্থ হলে তথা বিনিয়োগকৃত ব্যবসা ব্যর্থ হবে. একদিকে অর্থ ক্ষতি এবং অন্যদিকে গ্রিনকার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা বিলীন হয়ে যাবে।

 

আবার এল (L) এবং ই (E) ক্যাটাগরি ভিসা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকি এবং অপেক্ষাকৃত কম বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি পাওয়া যেতে পারে বিধায় বাংলাদেশ এর মতো গরিব দেশের মধ্যম শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের জন্য এল (L) এবং ই (E) ক্যাটাগরির ভিসা জনপ্রিয়।উভয় ক্যাটাগরির ভিসার জন্যই বাংলাদেশ থেকে নিজেস্ব একাউন্ট অথবা বাংলাদেশের বাইরে অন্য তৃতীয় কোনও দেশে গচ্ছিত  বা বিনিয়োগকৃত একাউন্ট থেকে বাংলাদেশের নাগরিক তার টাকা ব্যাংক চেক বা বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একাউন্টে ট্রান্সফার করতে পারেন।

 

বাংলাদেশ থেকে আইনি পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ হস্তান্তর জটিল বিধায় বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের যাদের সিঙ্গাপুর, দুবাই, সৌদি আরব সহ অন্যান্য রাষ্ট্রের অ্যাকাউন্ট রয়েছে তারা সহজেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের একাউন্টে অর্থ প্রেরণ করতে পারবেন। সেই লক্ষে বিনিয়োগকারীগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার সাথে যৌথবিষয়ক চুক্তির সাথে যুক্ত হয় ৫০% এর বেশি অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু পারেন বা ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ভিসা প্রার্থনা করতে পারেন।

 

বিনিয়োগ ভিসার জন্য অনেক আনুষ্ঠানিকতা, ব্যবসা প্লানিং, একাউন্ট প্রতিবেদন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, মার্কেট এনালাইসিস ইত্যাদি প্রয়োজন হয় বিধায় এটি একটি তুলনামূলক জটিল লিগ্যাল এবং ইমিগ্রেশন প্রসেসিং এক্ষেত্রে ল-ফার্মের বিকল্প নেই।

 

 

 

-লেখক বিশিষ্ট আইনজীবী:

 

মোহাম্মদ এন. মজুমদার

MA LLB (equivalent to US JD) LLM, (NY)

মোবাইল: ৯১৭-৫৯৭-৬৩৪৯