মিরসরাই টুপি কারাখানা শ্রমিকদের মানববন্ধন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০ ০৯:০৫

মিরসরাই টুপি কারাখানা শ্রমিকদের মানববন্ধন

নাছির উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) ঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবী এবং অনৈতিকভাবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুড়ি পেলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিক্ষুদ্ধ কোরিয়ান মালিকানাধীন একটি টুপি কারাখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদারবাসা এলাকায় ফেনী-করেরহাট সড়কে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানাটির কার্যনির্বাহী পরিচালক চিয়াঙ্গ ওহ এর পদত্যাগ দাবী করেন। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানান, কোরিয়ান মালিকানাধীন পিএনজি বিডি নামক কারখানায় প্রায় ৮ শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। গত ১৬ মে বিনা নোটিশে হঠাৎ করে ৪’শ শ্রমিককে ছাঁটাই করে কর্তৃপক্ষ। কর্মরত শ্রমিকরা এ ব্যাপারে মি.চিয়াঙ্গ ওহ বরাবরে আবেদন করেও সুফল পাননি। শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন মি.চিয়াঙ্গ ওহ বাংলাদেশের শ্রম আইন মানেনা। এছাড়া শ্রমিকদেরকে নানাভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতনও করা হয়।
পোশাক কারখানার শ্রমিক ওবায়দুল হক, শিরিনা আক্তার, ফাতেমা বেগম বলেন, আমাদের চলতি মাসের ১৫ দিনের বেতন ২৫ রমজানের মধ্যে ঈদ বোনাসসহ পরিশোধ করতে হবে এবং অনৈতিকভাবে কোন কারণ ছাড়া একজন শ্রমিককেও ছাঁটাই করা যাবে না। তা নাহলে আমরা আরো কঠোর আন্দোলন করবো।
খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভঁইয়া ও করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন ছুটে যান। তারা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল বুধবার বকেয়া বেতন পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন সমাপ্ত করেন।
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, শ্রমিকদের দাবী ধাওয়া নিয়ে আমি কারাখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছি। কারখানার প্রসাশনিক কর্মকর্তা কামরুল আলম (দোবাসী) বলেছেনতারা আগামী কালকের মধ্যে চলতি মাসের ১৫ দিনের বেতনের ৬৫% পরিশোধ করবে। আপাতত করোনা ভাইরাসের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন শ্রমিককে বেতন না দিলেও ছাঁটাই না করার আশ্বাস দেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। এরপর শ্রমিকরা শান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •