|
সর্বশেষ
সিঙ্গাপুরে ভাষা শহিদ স্মরণে কবিতা প্রতিযোগিতা         মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফ্রান্সে ভাষার মেলা         অমিতাভের সঙ্গে টুইটার কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ         গ্রেস মুগাবের পিএইচডি নিয়ে দুর্নীতি, উপাচার্য গ্রেপ্তার         মালয়েশিয়া বিএনপির উদ্যোগে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু         কানাডায় বাংলাদেশি তরুণীর কৃতিত্ব         আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আগের অবস্থান থেকে সরে আসছেন ট্রাম্প         জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে ইন্টার্ন নারী চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ         খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না : ফখরুল         উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে জিএসপি সুবিধা পাবো : বাণিজ্যমন্ত্রী         জীবনে জীবন মেলাবার গল্প         ভাষার প্রতি ভালোবাসা         নেককার বান্দাদের জন্য জান্নাতের নেয়ামতের ঘোষণা         যে কারণে পেয়ারা খাবেন         মাতৃভাষা দিবসের নাটকে ঈশানা ও নিলয়        
প্রকাশিত হয়েছে : 12:47:26,অপরাহ্ন 03 February 2018 |

মিয়ানমারে গণকবরের খবরে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র-জাতিসংঘ

মিয়ানমারের রাখাইনে গণকবর পাওয়ার নতুন খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)বৃহস্পতিবার রাখাইনের গু দার পাইন গ্রামে ৫ টির বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানানোর পর এ উদ্বেগ জানালো যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘ।

 

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাক্ষাৎকার এবং সরবরাহ করা সময়-চিহ্নিত মোবাইল ফোন ভিডিও’র ভিত্তিতে গণকবরের সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এপি।

 

এ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট বলেছেন, “আমরা গণকবরের খবরে খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা ঘটনাটি খুবই সতর্কতার সঙ্গে নজরে রাখছি। মানবাধিকারের অপব্যবহার ও তা লঙ্ঘনে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে সহযোগিতা করাই আমাদের লক্ষ্য।”

 

তিনি বলেন, গণকবরের সন্ধানের এ খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এখন উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নৃশংসতার অভিযোগের একটি স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা করাটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

 

ওদিকে, জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফানে দুজারিকও বলেছেন, “ গণকবরের খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ খবরই প্রমাণ করে রাখাইনে জাতিসংঘের প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন। এমন খবর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

 

মিয়ানমার সরকার রাখাইনে গু দার পাইন গ্রামের মত গণহত্যা চালানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।চলতি বছর জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো রাখাইনের ইনদিন গ্রামে দশ রোহিঙ্গার মাত্র একটি গণকবরের কথা স্বীকার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

 

কিন্তু এপির প্রতিবেদনে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে এবং আরো অনেক গণকবরে শতাধিক মানুষের লাশ থাকতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

 

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের সপক্ষে গণকবরগুলো এক নতুন আলামত। মিয়ানমার গু দার পাইন গ্রামে কাউকে প্রবেশাধিকার দেয়নি। সেকারণে, সেখানে কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে ডিজিটালগ্লোব থেকে পাওয়া স্যাটেলাইট ছবি এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ভিডিও থেকে একটি গ্রামকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে।

 

শরণার্থী শিবিরের কমিউনিটি নেতারা এ পর্যন্ত ৭৫ জন নিহতের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তবে গ্রমবাসীরা নিহতের সংখ্যা ৪শ’ হতে পারে বলে হিসাব দিয়েছে। নিহতদের স্বজনদের সাক্ষাৎকার এবং চোখে দেখা গণকবর ও লাশের ভিত্তিতে তারা এ হিসাব দিয়েছে। বেঁচে যাওয়া অনেকের দেহেই বুলেটের ক্ষতচিহ্ন আছে।

 

এপি’র সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রায় প্রতিটি গ্রামবাসী জানান, তারা গু দার পাইনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রবেশ পথের মূল রাস্তার কাছে তিনটি বড় গণকবর দেখেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, সেনারা সেখানে রোহিঙ্গাদের জড়ো করে হত্যা করেছে।

 

গ্রামের পার্বত্য এলাকার কবরস্থানের কাছে আরও বড় দুটি গণকবর থাকার কথা জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। ওই এলাকা থেকে কিছুদূরেই একটি স্কুলে ঘাঁটি গেড়েছিল ১শ’র বেশি সেনা।

 

এছাড়া গ্রামজুড়ে বেশ কিছু ছোট ছোট গণকবর থাকার কথাও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। বেঁচে যাওয়ারা বলছেন, সেনারা খুব সতকর্তার সঙ্গেই পরিকল্পনা করে ২৭ অগাস্টের হামলা চালিয়েছে এবং তারপর ইচ্ছাকৃতভাবেই তাদের কৃতকর্ম ধামাচাপা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*