মুজিববর্ষে প্রত্যাশাঃ অসম্পূর্ন স্বপ্ন বাস্তবায়ন -ম. আমিনুল হক চুন্নু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৩ আগ ২০২০ ০৩:০৮

মুজিববর্ষে প্রত্যাশাঃ অসম্পূর্ন স্বপ্ন বাস্তবায়ন -ম. আমিনুল হক চুন্নু
প্রতিটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে থাকে অনেক আত্মত্যাগের
ইতিহাস। স্বাধীনতার জন্য রক্ত, জীবন, সম্ভ্রম দিতে হয়। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম করতে হয়।

১৯৪৭ সাল ১৪ আগষ্ট, ব্রিটিশ শাসিত ভারতবর্ষ থেকে বৃটিশ বিদায় নিয়ে চলে গেল।
ভারত শেষ পর্যন্ত দুটি দেশ হলো। ভারত ও পাকিস্তান। পাকিস্তান পূর্ব-পশ্চিম নামে দুই
ডানা নিয়ে উড়লেও তাতে নির্মল প্রাণজুড়ানো বায়ুর চেয়ে আগুনের হলকা ছিল বেশি।
তাই শুরু থেকেই পাকিস্তান নামের রাষ্ট্রটির হুইল চলে যায় সামরিক শক্তির অধীনে এবং
গনতন্ত্র নামটি অনেকটা নিষিদ্ধই ছিল পাকিস্তানের মানুষের কাছে। পাকিস্তানি সামরিক
স্বৈরাচারের নির্মম শাসন আর শোষণের নির্মম শিকার হয় প্রধানত পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী
জনগোষ্ঠী। পূর্ব পাকিস্তান সকল অর্থে আর স্বাধীন পাকিস্তানের স্বাধীন অঙ্গ ভাষার কোনো

সুযোগ থাকে না। কার্যত পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের একটি উপনিবেশে পরিণত
হয়। ব্রিটিশ বেনিয়ারা যেমন বানিজ্যের নামে ভারতবর্ষে তাদের শাসন কায়েম করে ২০০
বছর ভারতের সম্পদ, সুখ, স্বাধীনতা সবই লুটে নেয়। বিশে^র অন্য অনেক দেশের মতো
ভারত তাদের বিশাল এক উপনিবেশে পরিণত হয়। ২০০ বছর লড়াই-সংগ্রাম সহ জীবন

দান, নিপীড়ন-নির্যাতন সয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে পূর্ব পাকিস্তান ও ঠিক তেমনি পরিণতির
মুখোমুখি দাঁড়ায় পাকিস্তানের অংশ হয়ে। সেই ১৯৪৭ সালের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের
মানুষ এক মুহূর্তের জন্যও স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পারেনি। পাকিস্তান শোষন-বঞ্চনা,
অবজ্ঞা-অবহেলা-অসম্মানের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই বাঙালীদের আন্দোলন সংগ্রামে নামতে
হয়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সংগ্রাম আর জীবন দান করতে করতে অবশেষে
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধ করে ৩০ লাখ বাঙালী
জীবন দিয়ে দুই লক্ষাধিক মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ
স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। একাওরের মার্চ মাসকে আমরা বলি উওাল ও আগুন ঝরানো
মাস। ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ তেমন আগুন ঝরানো ছিল না। তবে এটা ঠিক, ১৯২০

বিরল। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়েরা খাতুন দম্পতির
তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ পৃথিবীতে এসে অল্পদিনেই
জানিয়ে দিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পরে তিনিই বাংলার আকাশের
আরেক ধূমকেতু। প্রতিবছর ১৭ মার্চ আসে একজন রাজনৈতিক কবির পংক্তি মালাকে
গভীর শেষ প্রেমের বিশ^াসে কন্ঠে নিতে, বাঙালীর অসমাপ্ত সাংস্কৃতিক মুক্তি সংগ্রামের

অভিযাএাকে এগিয়ে দিতে। কিন্তু ২০২০ সালের ১৭ মার্চ হবে সম্পূর্ন ভিন্ন। সারা পৃথিবী
স্মরণ করবে শেখ মুজিবকে তার শততম জন্মদিনে। শেখ মুজিব শুধু বাঙালী জাতির
অবিসংবাদিত নেতা নন, তিনি বিশে^র কাছে একটি অনুপ্রেরণার নাম। ১৯৩৯ সালে মাত্র
১৯ বছর বয়সে মিশনারী স্কুলে পড়ার সময়ই শেখ মুজিব ছাত্রদের সংগঠিত করে স্কুলের
ছাদ সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন- স্কুল পরিদর্শনরত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা
এ.কে ফজলুল হক এবং সোহরাওয়ার্দীর কাছে। নেতৃত্বের এই হাতে ঘড়ি এবং দাবি
আদায়ের অদম্য স্পৃহাই পরবর্তীতে তাঁকে বসিয়েছে বিশ^নেতার আসনে। ১৯৪৮ সালের
২৩ ফেব্রুয়ারি গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রণাথ দও
উত্থাপিত ’গনপরিষদের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভূক্তি’ সংশোধনী প্রস্তাব মুসলিম
লীগ দলীয় সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানী শোষক-

গোষ্ঠী বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। একই অধিবেশনে
গণপরিষদ পাকিস্তানের সংহতি রক্ষার অজুহাতে উর্দূকে একমাএ রাষ্টভাষা হিসেবে চাপিয়ে
দেওয়ার চেষ্টা করলে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সারা বাংলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম
পরিষদের আহবানে প্রতিবাদ দিবস পালিত হয়। শেখ মুজিব এই প্রতিবাদ দিবসে পূর্ব
পাকিস্তান সচিবালয়ের প্রথম গেটের সামনে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন এবং ফলশ্রুতিতে

গ্রেফতার হন। এই প্রতিবাদই পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির বিয়োগান্তক
কিন্তু সফল ভাষা আন্দেলনের শক্তি যোগায়, যার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাঙালী
জাতীয়তাবাদের ভিওি সুগঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে পূর্ব-পাকিস্তান
সাহিত্য সম্মেলনে ড. মুুহাম্মদ শহীদুল্লাহ উদ্ধৃত অবিস্মরণীয় বাণী ” আমরা হিন্দু বা
মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি”- কে অন্তরে ধারন করেই
শেখ মুজিব বাহান্নর পথ ধরে একাওরে উপনীত হয়েছিলেন। তার প্রতিটি বলিষ্ঠ উচ্চারনে
আমরা তাকে পাই জনতার কাতারে; তাঁর কন্ঠে উচ্চারিত হয় বিশ^ আজ দুটি ভাগে
বিভক্ত, শোষক ও শোষিত- আমি শোষিতের পক্ষে। বিশ^কবি রবিঠাকুর বিশ^কে
চিনিয়েছিলেন বাংলাভাষা, আর শেখ মুজিব চিনিয়েছিলেন বাাঙালিকে এবং বাংলাদেশকে।
অতঃপর ৫৪-এর নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লীগের তথা পূর্ব পাকিস্তানে ভরাডুবি হওয়ার
পর আবার তারা ষড়যন্ত্রে ল্পিত হয়। নির্বাচন বাতিল করে দেয় সরকার। অর্থাৎ পাঞ্জাবীরাই
দেশ শাসন করবে। অন্য জাতিরা প্রজা হয়েই থাকবে। পাকিস্তানিদের অসাম্প্রদায়িকতার
ফলে ১৯৬৬ সালের ৭ জুন শেখ মুজিব ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। এই দাবি
তিনি লাহোরে এক জনসভায় ঘোষণা করেন। ৭ জুন এই দাবিতে তৎকালীন পূর্ব
পাকিস্তানে হরতাল তাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়ের হতে থাকে। অবশেষে আসে
সেই ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। দীর্ঘদিন মামলা চলতে থাকে। তারা মামলার
অন্যতম আসামী সাজেন্ট জহিরুল হককে হত্যা করে চেয়েছিল আন্দোলন থামাতে। কিন্তু
এতে বাংলার জনগন ক্ষিপ্ত হয়ে আন্দোলন আরো তীব্রতর করে। এক সময় ১৯৬৯
সালের গনআন্দোলনে এই মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় আইয়ূব শাহী। প্রধান
আসামী শেখ মুজিবসহ সব বন্দীকে বিনাশর্তে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৬৯ সালের ২৩
ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রেইস কোর্সের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভায় শেখ
মুজিব-কে ”বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেয়া হয়। সেদিন থেকে তিনি ”বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব” নামে
বাংলার মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিতি লাভ করেন। পাকিস্তানের ইতিহাস সামরিক
শাসনের ইতিহাস। তাই আবার ২য় বারের মত সামরিক শাসন জারি করা হয় ১৯৬৯
সালে। আইয়ূব খান তার সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নেন।
তার ১০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
শুরু হয় পাকিস্তানের শাসকদের দ্বিতীয় দফা ষড়যন্ত্র। এক সময় ইয়াহিয়া খান ১৯৭০
সালের ৭ ডিসেম্বর সারা পাকিস্তানে সাধারন নির্বাচনের ঘোষনা দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করেন। এরই মধ্যে ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব
পাকিস্তানের দক্ষিনাঞ্চলে এক ভয়াবহ ঘূর্নীঝড় বয়ে যায় এবং রাতেই লক্ষ লক্ষ লোকের
প্রাণহানী ঘটে। ঝড়ের তিন দিন পর বিবিসি মারফত সারাদেশ ও বিশ^ সম্প্রদায় জানতে
পারে। এতেই প্রমানিত হয় আরেকবার বাঙালিরা কত অবহেলিত ছিল পাকিস্তানীদের
কাছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচন পেছানোর দাবি জানালেও বঙ্গবন্ধু মুজিব
অনড় থাকেন। নির্দিষ্ট তারিখে সেই নির্বাচনে অনুষ্টিত হয়। দুর্গত এলাকাতে পরে নির্বাচন
হয়। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সারা পুর্ব পাকিস্তানের ২ টি আসন ছাড়া সব আসনে জয়ী হয়
অর্থাৎ ১৬৭ টি আসন লাভ করে। আর চতুর জুলফিকার আলী ভুট্রোর পিপলস পার্টি পায়
পশ্চিম পাকিস্তানে ৮০ টি আসন। কিন্তু পাকিস্তানীরা কিছুতেই বাঙালীদের ক্ষমতা দেবেনা।
যে ভূট্রো এক সময় আইয়ূবের দালালি করেছে, সে গোঁধরে তাদেরও ক্ষমতার ভাগ দিতে
হবে। যদিও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে
দেখা করেন। যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের ”ভাবি প্রধানমন্ত্রী” বলে আখ্যায়িত
করেন। এক সময় ৭১-এর জানুয়ারিতে স্থগিত এলাকার নির্বাচন হওয়ার পরে ১৯৭১
সালের ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়। কিন্তু সেই চতুর ভূট্রো
আসবেন না বলে ঘোষণা দেন। অনেক জল্পনা-কল্পনার পরে হঠাৎ করেই ১ লা মার্চ
অধিবেশন স্থগিত ঘোষনা করাহয়। সেদিন থেকেই সারা পূর্ব পাকিস্তানে স্লোগান উঠে
স্বাধীকার নয়- আমরা স্বাধীনতা চাই। এ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু মুজিব ২৩ মার্চ ঢাকা শহরে
হরতালের ডাক দেন। ২ মার্চই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ানো হয়।
ছাএ সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পরিষদের পক্ষে ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে সভায় স্বাধীনতার
ইশতেহার পাঠ করা হয়। সেই সভায় বঙ্গবন্ধু মুজিব প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। তিনি
জনগণকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেন। অবশেষে আসে সেই ৭ মার্চ। ঐ দিনের জনসভায়
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৮ মিনিট ১১ সেকেন্ডের বক্তব্যে পাকিস্তানের ইতিহাস বর্ণনা করেন
এবং কিভাবে শোষন ও অন্যায় আমাদের প্রতি করেছে, সব কিছু ব্যাখ্যা করেন।
পরোক্ষভাবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির ডাক দেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের কাছে তিনি
যাতে ”বিচ্ছিন্নতাবাদী” নেতায় পরিণত না হন সেজন্য ৪ দফা দাবিও পাকিস্তানী
শাসকদের কাছে তুলে ধরেন। শেষ পর্যন্ত সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয় খান, চতুর ভূট্রো ও
ঢাকায় আসেন। কিন্তু আলোচনা ব্যর্থ হয়। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে সামরিক বাহিনী পূর্ব
পাকিস্তানের ঘুমন্ত জনগনের উপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তার
বাসভবন থেকে প্রেফতার করা হয়। প্রেফতারের আগেই পরিস্থিতি আঁচ করে তিনি চট্রগ্রাম
আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে ”স্বাধীনতার ঘোষনাপএ”- পাঠিয়ে দেন ওয়ারল্যাস
মারফত। চট্রগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে জননেতা হান্নান তা পাঠ করেন ২৬ মার্চ।
পরবর্তীতে ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়া ও সে ঘোষনা পূনরায় প্রচার করেন। তারপর
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উওরসুরী বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি
ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ভারতের ইন্দিরা গান্ধী সরকারের
সহযোগিতা, মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে
আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করি।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নির্বাচন করে এবং বাংলার জনগনের ৬ দফার ম্যান্ডেট দিয়ে জয়যুক্ত
করেন। তিনি জানতেন আন্দোলন কিভাবে করতে হয় ১৯৬৬ সাল থেকে ৭০, তারপর
একাওরের মুক্তিযুদ্ধ- সবই তার পরিকল্পনার ফসল এবং সবকিছু মিলিয়েই স্বাধীনতা। তবে
বঙ্গবন্ধু শুধু শুধু বঙ্গবন্ধু কেন বিশ^ বঙ্গবন্ধু হবেন না কেন? বন্ধু বন্ধু বিশ^বন্ধু। ১৯৭১-এর ৭
মার্চের ভাষণে যা বলেছিলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথ বলেছিলেন- পৃথিবীতে
মানুষ যতদিন পরাধনিতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে, ৭ মার্চের ভাষন প্রেরনার উৎস হিসেবে
কাজ করবে। মানুষের সংগ্রাম শেষ হয়নি, শোষনের বিরুদ্ধে মুক্তির আকাঙ্খায় প্রাণ
যতদিন চলমান থাকবে, ৭ মার্চের ভাষন ততদিন দেদীপ্যমান থাকবে উজ্জল সূর্যের মত।
১০ জানুয়ারী ১৯৭২ আমাদের জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। সবার দৃষ্টি তেজগাঁও বিমান
বন্দরের দিকে। তাকে নিয়ে ব্রিটিশ বিমানটি এখানেই এসে নামবে। নয় মাস ষোল দিন
আগে এই বিমান বন্দর দিয়েই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পাকিস্তানে।
আজ এখানেই বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পা রাখবেন স্বাধীন দেশের
মুক্ত নাগরিক হিসেবে। নিজের দেশ, নিজের প্রতিষ্টা করা স্বাধীন দেশে বিজয়ীর বেশে তার
এই ফিরে আসাকে ঘিরে দু’দিন ধরেই উদ্বোলিত ছিল আপামর মানুষ। ৮ জানুয়ারীতেই
খবর এসেছিল তার মুক্তির। পাকিস্তান থেকে তখন বাংলাদেেেশ আসার সরাসরি কোন
যোগাযোগ ছিল না। ভারতের সাথে ও ছিল তাদের বিচ্ছিন্নতা। তাই বঙ্গবন্ধু বেছে
নিয়েছিলেন লন্ডন হয়ে ঢাকায় আসার পথ। লন্ডন হয়ে আসতে দুদিন সময় লেগে
গিয়েছিল সেখানে তাকে কিছু আনুষ্টানিকতা সম্পন্ন করতে হয় এবং তাকে দেয়া হয়
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মর্যাদা। সরকারি সফর নয়, তবুও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন
হওয়া একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এর ভাবমূর্তি ব্রিটিশদের কাছে ভিন্ন মর্যাদায় অধিষ্টিত
ছিল। তাই সে মর্যাদা তারা বঙ্গবন্ধুকে দিতে কার্পন্য করে নি। তিনি বক্তব্য দিয়েছেন এক
সাংবাদিক সম্মেলনে, সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের
সাথে। ১০ জানুয়ারি প্রত্যুষ্যে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি বিশেষ বিমানে রওনা
হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। পথে যাত্রা বিরতি করেছেন। নয়াদিল্লিীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি
ডি ডি গিগি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিমান বন্দরে তাকে অর্ভ্যথনা জানিয়েছেন। ওই
দিন দুপুর ২ টায় দিল্লী থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান বাংলার মাটি স্পর্শ করলে সৃষ্টি
হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধের
সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি. ওসমানীকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসিক্ত নয়নে আবেগময় চেহারায়
জাতির প্রতি, জনগনের প্রতি অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন। বিকেল ৫ টায় রেসকোর্স
ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপস্থিতিতে ভাষন দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আবেগ আপ্লুত হয়ে
বলেছিলেন,-”নেতা হিসেবে নয়, ভাই হিসেবে আমি আমার দেশবাসীকে বলছি,-
আমাদের সাধারন মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, খাবার না পায়, যুবকরা যদি চাকরি বা কাজ
না পায় তাহলে আমাদের এ স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, পূর্ণ হবে না।” আমাদের এখন
তাই অনেক কাজ করতে হবে। বক্তৃতাদান কালে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ বারবার বাকরুদ্ধ হয়ে
আসছিল। রুমাল দিয়ে তিনি চোখ মুছে নিচ্ছিলেন। জাতির জনক রেসকোর্স ময়দানে প্রায়
১৭ মিনিট জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ন ভাষণ দেন, যা ছিল জাতির জন্য দিক-নির্দেশনা।
১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে সংগ্রামের কথা বঙ্গবন্ধু উচ্চস্বরে
উচ্চারণ করে বলেন,- বিশ^ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একটি হলো শাসক গোষ্ঠী, অন্যটি
হলো শোষিত গোষ্ঠী। আমি শোষিতদের পক্ষে। এটা শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে নয়। এটা
সারা বিশ^কে নিয়ে। সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কায়রোর আল আহরাম পএিকা সম্পাদকীয়
কলামে লেখা হলো, বাংলায় তার অর্থ হলো- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি মাএ গুলি না
ছুঁড়ে সারা বিশ^ মুসলিমদের মন জয় করে নিলেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন আজ সারা বিশে^। তাই
তিনি বিশ^বন্ধু কেনো নন।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ^ মানচিত্রে যে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়
ঘটেছিল ১৯৭১ সালে তার তিন বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে
জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস্য দেশের মর্যাদা পায়। এর আট দিন পর ১৯৭৪ সালের ২৫
অন্তঃস্থল থেকে। ১৫ আগষ্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি পরাজিত
শক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা পিছিয়ে দিয়েছিল। ঘাতকরা জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে
নির্মমভাবে হত্যা করে। আইনের শাসন রুদ্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় অর্থনীতির চাকাও।
সামরিক শাসন ও সৈ¦রতন্ত্র জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসে। শুরু হয় হত্যা
ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালীর ভোট ও ভাতের
অধিকার প্রতিষ্টার সংগ্রাম। অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জীবন দানের
বিনিময়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ শে জুন প্রতিষ্টা
বার্ষিকীর দিনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। তখন থেকে দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
ফিরে আসে। আওয়ামীলীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে শেখ হাসিনার ওপর একের পর এক
গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে
গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে নারী নেত্রী আইভী রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী
নিহত হন। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন
বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ লাখ-লাখ
নেতাকর্মী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার পাশে থাকবে এর মধ্য
দিয়েই বাংলাদেশ কাঙ্খিত গন্ত্যবে পৌঁছবে।
বিগত দিনের সমস্ত ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন স্বপ্নে জীবন ও সমাজকে সাজানোর প্রত্যাশায়
বুক বেঁধেছে বাঙালি জাতি। এ বছরটি বাঙালী জাতির আরো একটি উৎসবের বর্ষ।
তাহলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালী, অবিসংবাদিত মহান নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের
রূপকার, স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম-শতবার্ষিকী। ১৯২০
সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহন করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্মের শততম সাল হিসেবে ইতোমধ্যে
২০২০ সালকে ”মুজিববর্ষ” হিসেবে উদযাপনের সার্বিক আয়োজন ও প্রস্তুতি গ্রহণ করার
ঘোষনা দিয়েছেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ’মুজিববর্ষ’
উদযাপনে সরকারী ও বেসরকারি পর্যায়ে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
ইউনেস্কো ১৯৫ টি দেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী পালন করবে। তবে ২০২০ সালের ১৭
মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে। সরকারের আমন্ত্রনে সাড়া দিয়ে অনেক বিশ^ নেতাই
বাংলাদেশে যাবেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। ২০২০ সালের
সবচেয়ে উওম পন্থা হচ্ছে, শেখ মুজিবের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যুগোপযোগী করে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটের লুইস সেপুলভেদার এর নেতৃত্বে ৫ জন স্টেট সিনেটর সদ্য
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকে একটি ঐতিহাসিক সফর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং
সরকারের আতিথেয়তার প্রশংসা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন- নিউইয়র্কের রাজধানী
আলবেনী-তে ২০২০ সালের বাংলাদেশ দিবসে আগামী ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশী
কমিউনিটির জন্য একটি ”সারপ্রাইজ” দেয়া হবে বলে জানান লুই সেপুলভেদা। তাছাড়া
নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহীন আজমল একান্ত সাক্ষাতে
বলেন, সফল হোক মুজিববর্ষ এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষ যেনো গাইতে পারে সুখ￾শানিÍ-সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জয়গান। অন্যদিকে আরেকজন সৎ ও
নিষ্ঠাবান,সমাজ সেবক ও যুক্তরাষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আব্দুর রহিম বাদশা বলেন,
প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শর্তবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতির অগ্রগতি প্রায় শেষ এবং তিনি আরো
বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন অসাম্পদায়িকতায় বিশ^াসী ছিলেন। সবধর্মের সমন্বয় এবং
পারষ্পারিক সম্প্রীতি ছিল এই জ্যোতির্ময় নেতার জীবন দর্শন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায়
তিনি এই জীবন দর্শন থেকে কখনই বিচ্যুত হননি। তার আদর্শকে লালন এবং নতুন
প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান। মুজিববর্ষ সফল হোক সাধারন মানুষের
আন্তরিক প্রত্যাশা।
ভারতবর্ষে কত সম্রাট ই তো এলেন এবং গেলেন কিন্তু দু’জন সম্রাটকে মানুষ এখনও মনে
রেখেছে। একজন মগধের সম্রাট অশোক এবং আরেকজন দিল্লীর সম্রাট আকবর। অশোক
ও আকবর বর্ষ পালিত হয় না বটে, ইতিহাসে এই দু’টি নাম স্মরণীয় হয়ে আছে।
সম্রাট অশোকের রাজদন্ডের চক্র অশোকচক্র এখন স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতীক। পন্ডিত
নেহেরু বলেছেন,”আধুনিক ভারতীয় জাতির স্রষ্টা সম্রাট আকবর।” কথাটা সঠিক।
অশোক এবং আকবর দু’জনেই ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। দু’জনেই শানিÍ ও মৈত্রীর বার্তা প্রচার করে গেছেন।
ব্রটেনের একজন রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক টনি বেন (লর্ড ওয়েজউড বেন) লিখেছেন
”নেহেরু জিন্নাহ দু’জনেই পশ্চিমা দেশে এসে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, ব্রিটিশ
সেকুলার রাজনীতিতে দীক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে ধর্মের ভিওিতে ভারতকে হিন্দু ভারত ও
মুসলিম ভারতে ভাগ করেছিলেন।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু মুজিব বিদেশে এসে শিক্ষা লাভ না করেও দেশের মাটিতে বড় হয়ে
উপমহাদেশে প্রথম একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্টা করে গেছেন। তিনি শুধু
বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, সমগ্র ভারতের ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে থাকার মতো নেতা।
এ কথাটি যে কত সত্য, তার প্রমান, এককালে বিশে^র মানুষ গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথের নামে
ভারতকে চিনত (এখনও চেনে)। এখন মুজিব বললেই সারা বিশে^র মানুষ চেনে স্বাধীন
বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ মানেই মুজিব। মুজিব মানেই বাংলাদেশ। শেষ কথা- বঙ্গবন্ধু
আজ আর শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি বিশে^র নেতা, বিশ^বন্ধু।
বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কাঠামোর সকল স্তরে, জাতীয় পতাকায়,
জাতীয় সঙ্গীতে, শস্য ক্ষেতে দোল খাওয়া ফসলে, নদীর কলতানে, পাখির কুজেনে তিনি
আছেন এবং থাকবেন। বঙ্গবন্ধু আছেন এবং থাকবেন বাঙালির মননে, চেতনায়,
ভালোবাসায় অমর অক্ষয় এবং অব্যয় হয়ে। বাস্তবে ফুুল ফুটুক , সৌরভ ছড়াক বঙ্গবন্ধুর
সোনার বাংলাদেশের। জয় হোক মানবতার, জয় হোক সভ্যতার। সফল হোক মুজিব
জন্মশতবর্ষ উদযাপন। অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাক আমাদের মাতৃভূমি। ২০২০ সালটি
একান্তভাবেই মুজিববর্ষ। উপমহাদেশে অশোক বর্ষের পর আর কোনো বর্ষ নেই। যুক্ত
হলো মুজিববর্ষ। আমাদের গর্বের ও গৌরবের সীমা নেই। লেখক, প্রফেসর ম. আমিনুল
হক চুন্নু, প্রতিষ্টাতা অধ্যক্ষ, নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সিলেট। পিএইচডি ফেলো।

ছিল। তাই সে মর্যাদা তারা বঙ্গবন্ধুকে দিতে কার্পন ̈ করে নি। তিনি বক্তব ̈ দিয়েছেন এক সাংবাদিক সম্মেলনে, সৌজন ̈ সাক্ষাৎকারে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে। ১০ জানুয়ারি প্রতু ̈ষে ̈ ব্রিটিশ রয় ̈াল এয়ারফোর্সের একটি বিশেষ বিমানে রওনা হয়েছেন ঢাকার উদ্দেশে ̈। পথে যাত্রা বিরতি করেছেন। নয়াদিল্লিীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি ডি ডি গিগি এবং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিমান বন্দরে তাকে অভ র্̈থনা জানিয়েছেন। ওই দিন দুপুর ২ টায় দিল্লী থেকে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান বাংলার মাটি ̄úর্শ করলে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম.এ.জি. ওসমানীকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসিক্ত নয়নে আবেগময় চেহারায় জাতির প্রতি, জনগনের প্রতি অভিব ̈ক্তি প্রকাশ করেছিলেন। বিকেল ৫ টায় রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের উপি ̄’তিতে ভাষন দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন,-”নেতা হিসেবে নয়, ভাই হিসেবে আমি আমার দেশবাসীকে বলছি,- আমাদের সাধারন মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, খাবার না পায়, যুবকরা যদি চাকরি বা কাজ না পায় তাহলে আমাদের এ ̄^াধীনতা ব ̈র্থ হয়ে যাবে, পূর্ণ হবে না।” আমাদের এখন তাই অনেক কাজ করতে হবে। বক্ত…তাদান কালে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ বারবার বাকরুদ্ধ হয়ে আসছিল। রুমাল দিয়ে তিনি চোখ মুছে নিচ্ছিলেন। জাতির জনক রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১৭ মিনিট জাতির উদ্দেশে ̈ ̧রুত্বপূর্ন ভাষণ দেন, যা ছিল জাতির জন ̈ দিক-নির্দেশনা। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ার জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে সংগ্রামের কথা বঙ্গবন্ধু উচ্চ ̄^রে উচ্চারণ করে বলেন,- বিশ^ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একটি হলো শাসক গোষ্ঠী, অন ̈টি হলো শোষিত গোষ্ঠী। আমি শোষিতদের পক্ষে। এটা শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে নয়। এটা সারা বিশ^কে নিয়ে। সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কায়রোর আল আহরাম পএিকা সম্পাদকীয় কলামে লেখা হলো, বাংলায় তার অর্থ হলো- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি মাএ ̧লি না ছুঁড়ে সারা বিশ^ মুসলিমদের মন জয় করে নিলেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন আজ সারা বিশে^। তাই তিনি বিশ^বন্ধু কেনো নন। বঙ্গবন্ধুর নেত…ত্বে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ ̈ দিয়ে বিশ^ মানচিত্রে যে বাংলাদেশের অভু ̈দ্বয় ঘটেছিল ১৯৭১ সালে তার তিন বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতিসংঘের ১৩৬ তম সদস ̈ দেশের মর্যাদা পায়। এর আট দিন পর ১৯৭৪ সালের ২৫
বাংলাদেশে যাবেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। ২০২০ সালের সবচেয়ে উওম পন্থা হচ্ছে, শেখ মুজিবের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যুগোপযোগী করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট সিনেটের লুইস সেপুলভেদার এর নেত…ত্বে ৫ জন স্টেট সিনেটর সদ ̈ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকে একটি ঐতিহাসিক সফর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সরকারের আতিথেয়তার প্রশংসা করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন- নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনী-তে ২০২০ সালের বাংলাদেশ দিবসে আগামী ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশী কমিউনিটির জন ̈ একটি ”সারপ্রাইজ” দেয়া হবে বলে জানান লুই সেপুলভেদা। তাছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহীন আজমল একান্ত সাক্ষাতে বলেন, সফল হোক মুজিববর্ষ এবং দেশের ১৬ কোটি মানুষ যেনো গাইতে পারে সুখ-শানিÍ-সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জয়গান। অন ̈দিকে আরেকজন সৎ ও নিষ্ঠাবান,সমাজ সেবক ও যুক্তরাষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আব্দুর রহিম বাদশা বলেন, প্রবাসে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শর্তবার্ষিকী উদযাপনের প্র ̄‘তির অগ্রগতি প্রায় শেষ এবং তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু আজীবন অসাম্পদায়িকতায় বিশ^াসী ছিলেন। সবধর্মের সমন্বয় এবং পারষ্পারিক সম্প্রীতি ছিল এই জে ̈াতির্ময় নেতার জীবন দর্শন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি এই জীবন দর্শন থেকে কখনই বিচু ̈ত হননি। তার আদর্শকে লালন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহবান জানান। মুজিববর্ষ সফল হোক সাধারন মানুষের আন্তরিক প্রত ̈াশা। ভারতবর্ষে কত স¤্রাট ই তো এলেন এবং গেলেন কিন্তু দু’জন স¤্রাটকে মানুষ এখনও মনে রেখেছে। একজন মগধের সম্রাট অশোক এবং আরেকজন দিল্লীর স¤্রাট আকবর। অশোক ও আকবর বর্ষ পালিত হয় না বটে, ইতিহাসে এই দু’টি নাম ̄§রণীয় হয়ে আছে। স¤্রাট অশোকের রাজদন্ডের চμ অশোকচμ এখন ̄^াধীন ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতীক। পন্ডিত নেহেরু বলেছেন,”আধুনিক ভারতীয় জাতির ্̄রষ্টা স¤্রাট আকবর।” কথাটা সঠিক। অশোক এবং আকবর দু’জনেই ছিলেন অসাম্প্রদায়িক। দু’জনেই শানিÍ ও মৈত্রীর বার্তা প্রচার করে গেছেন।
ব্রিটেনের একজন রাজনীতিবিদ ও দার্শনিক টনি বেন (লর্ড ওয়েজউড বেন) লিখেছেন ”নেহেরু জিন্নাহ দু’জনেই পশ্চিমা দেশে এসে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে, ব্রিটিশ সেকুলার রাজনীতিতে দীক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে ধর্মের ভিওিতে ভারতকে হিন্দু ভারত ও মুসলিম ভারতে ভাগ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মুজিব বিদেশে এসে শিক্ষা লাভ না করেও দেশের মাটিতে বড় হয়ে উপমহাদেশে প্রথম একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের প্রতিষ্টা করে গেছেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, সমগ্র ভারতের ইতিহাসে ̄§রনীয় হয়ে থাকার মতো নেতা। এ কথাটি যে কত সত ̈, তার প্রমান, এককালে বিশে^র মানুষ গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথের নামে ভারতকে চিনত (এখনও চেনে)। এখন মুজিব বললেই সারা বিশে^র মানুষ চেনে ̄^াধীন বাংলাদেশকে। বাংলাদেশ মানেই মুজিব। মুজিব মানেই বাংলাদেশ। শেষ কথা- বঙ্গবন্ধু আজ আর শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি বিশে^র নেতা, বিশ^বন্ধু। বঙ্গবন্ধু মৃতু ̈ঞ্জয়ী। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের কাঠামোর সকল ̄Íরে, জাতীয় পতাকায়, জাতীয় সঙ্গীতে, শস ̈ ক্ষেতে দোল খাওয়া ফসলে, নদীর কলতানে, পাখির কুজেনে তিনি আছেন এবং থাকবেন। বঙ্গবন্ধু আছেন এবং থাকবেন বাঙালির মননে, চেতনায়, ভালোবাসায় অমর অক্ষয় এবং অব ̈য় হয়ে। বা ̄Íবে ফুুল ফুটুক , সৌরভ ছড়াক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের। জয় হোক মানবতার, জয় হোক সভ ̈তার। সফল হোক মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন। অভীষ্ট লক্ষে ̈ এগিয়ে যাক আমাদের মাতৃভূমি। ২০২০ সালটি একান্তভাবেই মুজিববর্ষ। উপমহাদেশে অশোক বর্ষের পর আর কোনো বর্ষ নেই। যুক্ত হলো মুজিববর্ষ। আমাদের গর্বের ও গৌরবের সীমা নেই। লেখক, প্রফেসর ম. আমিনুল হক চুন্নু, প্রতিষ্টাতা অধ ̈ক্ষ, নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, সিলেট। পিএইচডি ফেলো

 

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •