মুরাদনগরের শ্রীকাইল কলেজে সকল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয়করন করা হচ্ছে না

প্রকাশিত:রবিবার, ১৪ আগ ২০১৬ ০৮:০৮

মুরাদনগরের শ্রীকাইল কলেজে সকল সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জাতীয়করন করা হচ্ছে না

ইয়াসমীন রীমা,কুমিল্লা
নান্দনিক সৌন্দর্যের শান্তি নিকেতন হিসেবে এশিয়ায় পরিচিত ,অবকাঠামো ,প্রচুর সম্পদ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্বেও ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীকাইল কলেজটি আজও জাতীয়করন করা হচ্ছেনা। কলেজ সূত্রে জানা যায় , কলেজেটির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি , প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শনে আসেন । কুমিল্লা ও বি-বাড়ীয়া জেলার মধ্যবর্তী ১০৫ কিলোমিটর বিস্তৃত অঞ্চলের সবুজ শ্যামলীমায় ঘেরা এক মনোরম পরিবেশ শ্রীকাইল কলেজের অবস্থান। কলেজটির উত্তরে নবীনগর ,দক্ষিনে দেবীদ্বার, পশ্চিমে বাঞ্ছারামপুর এবং কসবা উপজেলা রয়েছে । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক চির কুমার ক্যাপ্টেন নরেন্দ্রনাথ দত্ত কুমিল্লা জেলার উত্তরাঞ্চলের খেঁটে খাওয়া মানুষের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শ্রীকাইল গ্রামের নামে তৎকালীন সময়ে কোটি টাকা ব্যায়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠাতা এ কলেজের নামে ৪৬ একর এবং তাঁর বাবার নামে ( কে কে দত্ত মেমোরিয়েল ট্রাষ্ট গঠন করে ) ৪১ একর ৫৮ শতক সম্পত্তি দান করেন। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডিগ্রি কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কলেজ ক্যাম্পাসটির আয়তন প্রায় সাত একর , মূল ভবনে পাঠদান উপযোগী ৩৬টি কক্ষ ,তাছাড়া শিক্ষক মিলনায়তন, পর্যাপ্ত ব্যবহারিক সামগ্রীসহ সুপরিসর গবেষনাগার , অধ্যক্ষসহ শিক্ষক পরিবার বসবাসের উপযোগী ৩৮টি আবাসিক ভবন , গ্রন্থাগার ভবন, মসজিদ , সোনালী ব্যাংক , পোষ্ট অফিস , ছাত্রাবাস , ছাত্রীনিবাস , খেলার মাঠ, শিক্ষক পাঠাগার , কম্পিউটার ল্যাব,শিক্ষক ক্লাব , মিলনায়তন , মার্কেট , সাতটি দিঘী , ক্যাম্পাস সম্মুখে সূদৃশ্য শাঁনবাঁধা দীঘি রয়েছে। গ্রন্থাগারটিতে এমন দুর্লভ দুস্পাপ্য বই রয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়েও দুর্লভ, চিকিৎসা বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ,এনসাইক্লোপেডিয়া ও ব্রিটানিয়ার মত দুস্প্রাপ্য ৪০টি বই সহ শিক্ষার্থীদের উপযোগী ৭৫ হাজার বই রয়েছে। ৪২ জন শিক্ষক ও ১৪০০ ছাত্র-ছাত্রী আছে।
১৯৪৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ কলেজের ছাত্র “অরুন দত্ত ”কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম স্থান অধিকার করে। সে থেকে এ- কলেজে ভালো ফলাফলের ধারা আজও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কলেজটি ৭৪ বছর যাবত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিলেও আজও জাতীয়করন হচ্ছে না।
কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক আক্তার হোসেন সরকার বলেন, গ্রামীন পরিবেশে এত সুবিশাল পরিসরে বিশাল সম্পত্তি সম্পন্ন কলেজটি অনেক উত্তাল বন্ধুর পথ পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে , অবকাঠামোগত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা , অসংখ্য সম্পদ , পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী , সন্তোষজনক ফলাফল থাকা সত্বেও এ কলেজটি জাতীয়করন হচ্ছে না, অথচ এ কলেজের সমসাময়িকের মধ্যে চাখার শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কলেজ, কাননগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ , নওয়াব ফয়জুন্নেসা কলেজকে অনেক আগেই জাতীয়করন করা হয়েছে। কলেজটি জাতীয়করন করা হলে শিক্ষার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি ও অসংখ্য সম্পদ রক্ষা পাবে ।
কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া সরকার বলেন, কলেজটিতে পর্যাপ্ত সম্পদ ও ভবন রয়েছে । ইচ্ছে করলে বিশ্ববিদ্যালয়েও রূপান্তর করা যাবে। যেহেতু এ- উপজেলায় সরকারী কোনো কলেজ নেই । কলেজের অধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ চন্দ্র পোদ্দার বলেন, কলেজটি জাতীয়করনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পৌছানো অব্যাহত রয়েছে । কলেজের সভাপতি কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশানক (সার্বিক ) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, রাজনৈতিক কারনেই কলেজটি জাতীয়করনে বিলম্ব হচ্ছে।
কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, স্থানীয় নেতাদের কর্তৃত্ব চলে যাওয়ার ভয়ে কলেজটি জাতীয়করনের ব্যাপারে আজও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
কুমিল্লা -৩ মুরাদনগর আসনের এমপি ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন বলেন, উপজেলার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত শ্রীকাইল কলেজটি একটি ঐতিহ্যবাহী সুপ্রাচীন কলেজ । এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যন্ত অবহেলিত ঐ অঞ্চলের শত শত ছেলে-মেয়ে ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে। এ কলেজের নামে প্রচুর সম্পদও রয়েছে । কলেজটি জাতীয়করনের ব্যাপারে আমার যথেষ্ট ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে । দীর্ঘ সময়ে হলেও আমি এ কলেজটি জাতীয়করন করার পাশাপাশি অনার্স এবং মাষ্টার্স কোর্স চালু করার চেষ্টা করব।

এই সংবাদটি 1,241 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •