মেঘনার পাড়ে ওদের কান্না…

প্রকাশিত:রবিবার, ২৫ অক্টো ২০২০ ১২:১০

মেঘনার পাড়ে ওদের কান্না…

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুরঃ

একদা এখানে ছিলো ফসলের মাঠ, কৃষক ও জেলেদের বসতবাড়ি। এখন শুধু পানি আর পানি। পাড় ভাঙে, বসতঘর ভাঙে-মেঘনার সীমানা বাড়ে। বাড়ে মানুষের কান্না। মেঘনা পাড়ের অসহায় মানুষের চোখের পানি আর নদীর পানি আজ একাকার। জমি, ঘর-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতে। ঠেকানোর সাধ্য নেই তাদের। শুধু তারা তাকিয়ে দেখছেন। ভাঙন ঠেকানোর দায়িত্ব যাদের তারা আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করবেন বলে প্রতিশ্রুতিই দিয়ে যাচ্ছেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে-এমন দৃশ্য দেখা গেলো লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার জালিয়ারচর, কুচিয়ামারা, চরপাঙ্গাসিয়া, চরইন্দ্রুরিয়াসহ ৪টি ইউনিয়নবাসীর। পানি বাড়তে শুরু করেছে মেঘনায়। আর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীর ভাঙন। অনেক পরিবার চলে গেছেন ভোলা, চরভৈরবি, হাইমচর, মেঘনারচর ও টুনুরচরসহ বিভিন্ন স্থানে।

ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন, দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন ও চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরো বহু ঘরবাড়িসহ বিস্তীর্ণ ফসলি জমি।

জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতি বছরই বর্ষায় ভাঙন দেখা দেয়। শতাধিক বসতঘরসহ মোল্লারহাট বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ না থাকায় তাদের এই মুহূর্তে তেমন কিছুই করার নেই।

সরেজমিন দেখা গেছে, মেঘনার ভাঙনে উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপির পাঁশ শতাধিক বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমির পাশাপাশি ভেঙে গেছে মোল্লারহাট বাজারের পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা। ভাঙনের মুখে পড়েছে মোল্লারহাট বাজারটি। নদী ভাঙনে আতংকিত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষেরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী বলেন,মেঘনা নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা ও ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙনরোধে ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।

রায়পুর উপজেলার দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজি, উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন আহাম্মদ, উত্তর চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ বিএসসি বলেন, ভাঙনরোধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই বর্ষায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান এ জনপ্রতিনিধিরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কিছু জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ করা হয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। সেটি পেলে আগামী অর্থ বছরে কাজ শুরু করা হবে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ