মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে একনেক

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ০২ আগ ২০১৬ ১২:০৮

মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে একনেক

রহিম বাদশা:
চাঁদপুর জেলা শহরে চালু হতে যাচ্ছে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি। আজ সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।
চাঁদপুর শহরের ডাকাতিয়া সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের পাশে ডাকাতিয়া নদীতীরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠছে মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোপূর্বে এর ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। গতকালের এই অনুমোদনের ফলে চাঁদপুর মেরিন টেকনোলজি ইনস্টিটিউট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, গতকাল অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো : চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলায় ৫টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। জামালপুর ও শেরেপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ঢাকা মহানগরীতে ১১টি মাধ্যমিক এবং ৬টি মহাবিদ্যালয় (সরকারি) স্থাপন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২০ কোটি ৫ লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ এবং বৃক্ষরোপন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। মহিলা কারারক্ষীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
এছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ১১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও ৬টি মহাবিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের সংশোধনীসহ ৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
এম এ মান্নান বলেন, ঢাকায় শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত প্রকল্পের একটি। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- ঢাকা মহানগরীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ভর্তির সুযোগ বৃদ্ধি করা, ঢাকা মহানগরীর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ উপকরণ সরবরাহ করা, মহানগরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা এবং ঢাকা মহানগরীতে ক্রমবর্ধনশীল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষা সুবিধা বৃদ্ধি করা।
ঢাকা মহানগরীতে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ২৯৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারি। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি ২০১০ সালের জুলাই হতে জুন ২০১৮ সালে বাস্তবায়িত হবে। ঢাকা মহানগরীতে মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ সুবিধার বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ১৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ ৪তলা পর্যন্ত শেষ হয়েছে ও শিক্ষা কার্যক্রম সূচি শুরু হয়েছে। ৫ম ও ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রম, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, ৬তলা ভিতের উপর ৬তলা পর্যন্ত একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, বাউন্ডারী ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, যানবাহন ক্রয়, জনবলের বেতন ভাতা, আসবাবপত্র, অফিস ইক্যুইপমেন্ট, কম্পিউটার ও প্রিন্টার, স্কুল ও কলেজের জন্য ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট, বইপত্র, রেফারেন্স ও লানিং, ম্যাটেরিয়েলস, খেলার সামগ্রী, ডিজিটাল ক্লাস রুমের জন্য যন্ত্রপাতি এবং শিক্ষক প্রশিক্ষন ইত্যাদি।

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •