মোবাইলে কল করলে পৌছে যাচ্ছে ত্রান

প্রকাশিত: ৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২০

মোবাইলে কল করলে পৌছে যাচ্ছে ত্রান

হাতিয়া (নোয়াখালী) :

দিন কিংবা রাত মোবাইলে কল করলেই বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে ত্রান। এ জন্য ১৮যুবকের একটি টিম ৪টি মোটরসাইকেল নিয়ে সবসময় প্রস্তুত। প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৮এপ্রিল পর্যন্ত ২হাজার ৫শত পরিবারকে বাড়ী বাড়ী এ ত্রান পৌছে দেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হাতিয়া জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্যদের সম্পূর্ন স্বেচ্ছা শ্রমে ত্রান বিতরনের চিত্র এটি।
হাতিয়ায় ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৭লাখ লোকের বসবাস। এর মধ্যে অধিকাংশ দিনমজুর ও হতদরিদ্র। করোনা ভাইরাস মহামারিতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় জনজীবন অনেকটা বিপন্ন। সরকারী ভাবে গত দুই সপ্তাহে ত্রান দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৩শত ৫০জনকে।
এদিকে জনগনের এই দুর্দশার কথা চিন্তা করে হাতিয়া জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক এ্যডভোকেট ফজলে আজিম তুহিন তার বন্ধুদের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করে। গত ২৬মার্চ থেকে ৮এপ্রিল পর্যন্ত ২হাজার ৫শত পরিবারের মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে দুই কেজি চাল, এক কেজি আটা, এক কেজি আলু, এক প্যাকেট সবজি বীজ ও দুইটি সাবান দেওয়া হয়েছে।
এজন্য তারা সোসাল মিডিয়তে মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি হেল্প লাইন সার্ভিস চালু করেছে। যাতে কল করলে বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট ত্রান। এর মধ্যে অনেকে সামনে এসে ত্রান নিতে অপারগতা জানালে তার দেওয়া গোপন স্থানে ত্রান পৌছে দিচ্ছে পরিষদের সদস্যরা। এই সার্ভিস শুধু দিনেই নয় রাতেও ।
হোম সার্ভিস দেওয়া সদস্যদের মধ্যে একজন জিল্লুর রহমান (৩০) জানান মোবাইলে কল পেয়ে ত্রান নিয়ে যাওয়ার পর ভুক্তভ’গি সামনে আসেনি। পরে কল করে জানালেন উপজেলার চরকিং ৯নং ওয়ার্ডের খাসের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনে রেখে আসতে । কিছু সময় পর সে ত্রান পেয়ে নিশ্চিত করলেন। এভাবে গোপনে সার্ভিস নিয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক পরিবার।
৩০এর উর্দ্ধে হবেনা কারও বয়স । মোটরসাইকেলের সামনে লেখা জরুরী ত্রান সার্ভিস। প্রতিদিনই চুঠে যাচ্ছে হাতিয়ার প্রত্যান্ত অঞ্চলে। এদের মধ্যে কেউ ছাত্র , কেউ ব্যবসায়ী সবাই ব্যস্ত পরের উপকারে। কখনো প্রখর রোধ কিংবা গভীর রাত এই তরুনদের ক্লান্তিহীন ছটে চলা। দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে অনন্তদিন এটাই কাম্য সাধারন মানুষের।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •