মৌলভীবাজারের মনু নদীতে চলছে মাছ ধরা উৎসব ‘মাছ হাট’

প্রকাশিত:মঙ্গলবার, ২২ ডিসে ২০২০ ০৩:১২

মৌলভীবাজারের মনু নদীতে চলছে মাছ ধরা উৎসব ‘মাছ হাট’

হুমায়ুন রহমান বাপ্পী, মৌলভীবাজার ঃ
মৌলভীবাজারের মনু নদীতে চলছে মাছ ধরা ও কেনাবেচা উৎসব “মাছ হাট”। মৌলভীবাজার জেলার অন্যতম নদী মনু নদীতে চলমান এ মাছ ধরা উৎসবটি স্থানীয়ভাবে ‘মাছ হাট’ উৎসব নামে পরিচিত। মাছ হাটে আহরিত নানা প্রজাতির মাছ বিক্রি করা হয় উৎসব উপভোগ করতে আসা দর্শকদের কাছে। তাই, মাছ হাট উৎসবটি মাছ ধরা ও কেনা বেচা উৎসব। মাছ ধরা ও কেনাবেচা উৎসব মাছ হাট চলছে জেলার কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান মনু নদীর কুলাউড়া উপজেলা অংশে। ৩ দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নানা শ্রেণী পেশার সৌখিন ও পেশাদার মানুষ। আর তা দেখতে ভীড় করছেন দূরদূরান্ত থেকে আগত নানা শ্রেণী পেশার সৌখিন মানুষ। ১২ ডিসেম্বর শনিবার কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নস্থিত মনু নদী এলাকার মাহতাবপুর থেকে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। ওইদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ ধরার নানা ফাঁদ নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামেন। প্রচন্ড শীতের মাঝেও উৎসবের আমেজ তখন নদীর দুই পাড়ে। সৌখিন ও পেশাদার শিকারীরা পলো, কুচা, ঝাকি জাল, প্লেন জাল, টানা জালসহ নানা জাতের ফাঁদ নিয়ে তারা নদীতে মাছ শিকারে নামেন। কেউ নৌকায়, কেউ বা কলাগাছের ভেলায় চেপে। অনেকেই আবার নদীর চর জাগা অথবা শুকনো স্থান থেকে ঝাকি জাল দিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নদীতে নেমেও মাছ ধরেন। ‘মাছ হাট’ উৎসবটি নদীর বিভিন্ন বাঁকে যেসব স্থানে ডহর (গভীর) রয়েছে সেসব স্থানেই চলে মাছ হাট উৎসব। এ দৃশ্য দেখতে জেলার নানা স্থান থেকে লোকজন ভীড় করেন ওই স্থানগুলোতে। মাছ ধরার দৃশ্য দেখার পাশাপাশি মাছ ক্রয়ও করেন তারা। মনু নদীর মাছ সুস্বাদু ও সতেজ থাকায় তা ক্রয়ে মানুষের আকর্ষণও বেশি। প্রতিবছরই পালিত হয়ে আসা এ উৎসবটি স্থানীয় ঐতিহ্যেরই অংশ। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার বিবাহিত নারীরা পিত্রালয়ে নাইওর আসেন। অনেকেই আবার নতুন বরকে দিয়ে মাছ ধরাতে এ উৎসবে নিয়ে আসেন। তাই উৎসবটি স্থানীয়দের কাছে ব্যতিক্রমী উৎসব। প্রথম দিনই সাইফ আহমদ, কালাম মিয়া, তায়েফ আলী, কামরুল ইসলামসহ অনেকেই বড় বোয়াল, আইড় ও কাতলা মাছ ধরেন। তারা জানান- অন্যান্যদের জালে ও ফাঁদে আইড়, ঘাঘট, বোয়াল, রুই, কাতলা, বাচা, বাঁশপাতা, চেলাপাতা, টেংরাসহ নানাজাতের দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তারা মাছ পাওয়ায় বেজায় খুশি। দ্বিতীয় দিন সুজাপুর ছৈদল বাজার ডহরে মাছ ধরা হয়। গতকাল ১৪ ডিসেম্বর সোমবার শেষদিন হাজীপুর, শরীফপুর, পৃথিমপাশার ধলিয়া ও বেলেরতল ডহরে মাছ ধরার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৩ দিনের এ মাছ ধরা উৎসব ‘মাছ হাট’।

এই সংবাদটি 1,234 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •