যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বেরুলেই জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ‘পুলিশি অভ্যর্থনা’

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেওয়া উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ দূতাবাসের দরজা থেকে বের হতে পারেন। তবে বের হওয়া মাত্রই পুলিশের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন তিনি। জেরেমি হান্ট বলেন, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে চাই।

 

চলতি সপ্তাহে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো’র লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে আলোচনায় উঠে আসে অ্যাসাঞ্জের বিষয়টি। ইতোপূর্বে অ্যাসাঞ্জকে একজন হ্যাকার এবং উত্তরাধিকারসূত্রে সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন লেনিন মরেনো। উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার ব্যাপারে তার অস্বস্তি স্পষ্ট। যদিও এই ইকুয়েডরের যুক্তরাজ্য দূতাবাসেই ২০১২ সাল থেকে বন্দি রয়েছেন অ্যাসাঞ্জ।

 

এদিকে সম্প্রতি অ্যাসাঞ্জকে ‘মুক্ত পৃথিবীর’ পক্ষে একজন লড়াকু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক বেওয়াচ তারকা পামেলা অ্যান্ডারসন। কিছুদিন আগে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করতে যান অ্যান্ডারসন। সে সময় সংবাদমাধ্যমে তাদের দুজনের প্রেমের গুঞ্জন উঠে। কিন্তু অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, অ্যাক্টিভিজম বা লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা শেখার জন্যই অ্যাসাঞ্জের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন অনলাইন সাময়িকী ব্রিংকওয়ারের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পামেলার এমন মন্তব্য। তিনি বলেন, তরুণরা অ্যাসাঞ্জকে খুবই পছন্দ করে।

 

সুইডেনে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।তার আশঙ্কা, সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে।

 

কিছুদিন আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো খবর করেছিল, মার্কিন অভিনেত্রী পামেলা অ্যান্ডারসন এবং জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের জীবনে বসন্ত চলছে। তাদের মধ্যে প্রেমের গুজবও উঠেছিল। ডেইলি মেইলে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, টিভি তারকা গত চারমাসে একাধিকবার দেখা করেছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে তার লন্ডনের ইকুয়েডোরিয়ান দূতাবাসে।

 

সম্প্রতি দ্য ডেইলি বিস্টকে দেওয়া সাক্ষাতকারে বর্তমানে অধিকারকর্মী পামেলা বলেন, একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে নিজেকে শক্তিশালী করতে আরও অনেক কিছু শিখতেই তিনি অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, তরুণরা অ্যাসাঞ্জকে পছন্দ করেন। তথ্য এখন অনেক দ্রুত ছড়ায়। তাই আমাদের অ্যাসাঞ্জের মতো কাউকে প্রয়োজন এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য। আমি জানি না তাকে কেন শত্রু মনে করা হয়।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.