যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলেন আসিয়া বিবির স্বামী

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে কটূক্তির দায়ে করা মামলায় ফাঁসির দণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবির স্বামী যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

এ বিষয়ে এক ভিডিও বার্তায় আসিয়ার স্বামী আশিক মাসিহ বলছেন, ‘পরিবার নিয়ে আমি পাকিস্তানে বর্তমানে খুবই বিপজ্জনক অবস্থায় আছি। সে সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের স্বাধীনতার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।’ একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছেও বিষয়টি বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে বলছে, এ দিকে গত শনিবার (৩ নভেম্বর) আসিয়া বিবির আইনজীবী সায়িফ মুল্লুক প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তিনি দেশটিতে জীবননাশের শঙ্কায় ছিলেন উল্লেখ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মূলত আসিয়া বিবির প্রতিনিধিত্ব অব্যাহত রাখতেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি।

সংবাদে আরও বলা হয়, আসিয়া বিবির সম্পূর্ণ নাম আসিয়া নরিন। তিনি ২০০৯ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নিজ গ্রামে প্রতিবেশী কয়েকজন মহিলার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়েছিলেন। মূলত সেখান থেকেই শুরু হয় এই মামলার সূত্রপাত।

উল্লেখ্য, সে বছরই তার বিরুদ্ধে আদালতে তোলা হয় ধর্ম অবমাননা এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে দেশটির নিম্ন আদালত তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্যদিকে লাহোর হাইকোর্টও সেই একই রায় বহাল রেখেছিলেন। পরে শেষমেশ ২০১৫ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন এ নারী।

অবশেষে গত বুধবার (৩১ অক্টোবর) পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিয়া সাকিব নিসার, আসিফ সাইদ খোসা ও মাজহার আলম খান মিয়ানখেল বেঞ্চ আসিয়া বিবির বিরুদ্ধে করা ধর্ম অবমাননার দায় থেকে তাকে রেহাই প্রদান করেন।