যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ জনশুমারিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের আহবান জর্জিয়া স্টেট সিনেটর রহমানের

প্রকাশিত: ৩:৫১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ জনশুমারিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের আহবান জর্জিয়া স্টেট সিনেটর রহমানের

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন ২০২০ সালের জনশুমারিতে স্বস্তির সাথে নির্ভয়ে অংশগ্রহণের জন্যে প্রথম বাংলাদেশি জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান চন্দন যুক্তরাষ্ট্রের সকল অঙ্গরাজ্য ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আমেরিকান নাগরিকত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশিসহ সকল অভিবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারিতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা অংশ নেয়ায় সেইসব কমিউনিটির জনসংখ্যার হিসাবটি সঠিকভাবে সরকার বা বিভিন্ন সংস্থায় নথিভুক্ত রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারের পক্ষ থেকে এইসব অভিবাসীদের জন্যে বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত নানা সুযোগ সুবিধা এমনকি নানা আর্থিক সহযোগিতা, অনুদান বা তহবিলের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তারা তাদের অধিকার আদায় করে নিতে পারছে। অথচ অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, “জর্জিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের সকল ষ্টেটগুলিতেই বাংলাদেশি অভিবাসীদের জনশুমারিতে অংশগ্রহণের অনাগ্রহ ও উদাসীনতার কারণে সরকারি হিসেবের খাতায় আমাদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। আমি বিভিন্ন রেকর্ড থেকে জানতে পেরেছি যে, জর্জিয়া রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ত্রিশ হাজার বা ততোধিক বাংলাদেশির বসবাস বলে অনুমান করা হচ্ছে। আবার সোনালী একচেঞ্জের গ্রাহক সংখ্যার অনুপাতকে বিবেচনা করলেও কমপক্ষে পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী এই রাজ্যে বসবাস করছেন বলে কেউ কেউ নিশ্চিত হয়েছেন। অথচ বর্তমানে এই রাজ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা অফিসিয়ালী মাত্র ছয় থেকে সাত হাজারের বেশি নয়, যা সত্যি হতাশা জনক”।

শেখ রহমান বলেন, “এর ফলে অন্যান্য অভিবাসীদের মতো বাংলাদেশিরা রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন সুযোগ সুবিধা অর্জন বা আর্থিকভাবেও যে কোন তহবিল পেতে কিংবা যে কোন অধিকার আদায়ের ব্যাপারেও শক্তিশালী কমিউনিটি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে না”।

শেখ রহমান বিবৃতিতে আরও বলেন, “একারণেই আমাদের কমিউনিটি জনসংখ্যার দিক থেকে সমৃদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এদেশের মূলধারার সকল কর্মকাণ্ডেই আমরা পিছিয়ে আছি। তাই আসুন, আমরা আসন্ন ২০২০ সালের জন শুমারিতে আমাদের সঠিক সংখ্যার তথ্য দিয়ে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাজ্যের বাংলাদেশিরা মিলে নিজেদের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করি এবং অস্তিত্বকে আরও জোরদার করে তুলি”।

শেখ রহমান পরে জর্জিয়া বাংলা ডট কমকে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “অনেকেই মনে করেন, জনশুমারিতে আমাদের তথ্য বা হিসাব দিলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে, এজন্যে ভয়ে জনশুমারিতে এরা এগিয়ে আসেন না। আবার অনেকেই ব্যাপারটিকে পাত্তা দিচ্ছেন না বলেও এত অধিক জনসংখ্যার বাংলাদেশিরা এদেশে বসবাস করার পরও খুবই নাজুক ও দুর্বল অবস্থান নিয়ে আমাদেরকে অস্তিত্বের সংকটের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কাজেই আমাদের সবাইকে এই জনসংখ্যাকে শক্তিতে পরিনত করতে আসন্ন জনশুমারিতে অংশ নিতে হবে”

এছাড়া যে সমস্ত বাংলাদেশি আইনসংগতভাবে এখনও অভিবাসী হন নি, তাদের জন্যেও আসন্ন জনশুমারিতে অংশ নেয়া সম্পুর্ন নিরাপদ বলে শেখ রহমান আশ্বস্ত করেন। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র গোপনীয়তার মাধ্যমে সকলের তথ্য কেবল মাত্র সেনসাস কর্তৃপক্ষের কাছেই গচ্ছিত থাকবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার বা কাউন্টি সরকারসহ কোন প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই এইসব তথ্য সংগ্রহ করা মোটেই সম্ভবপর নয় বলে তিনি দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, এর কয়েকদিন আগে গত ২১ জুলাই আটলান্টার নন প্রফিট কমিউনিটি সেবা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর প্যান এশিয়ান কমিউনিটি সার্ভিস (সিপ্যাকস) আয়োজিত এক সভায় সিনেটর শেখ রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি কমিউনিটির বেশ কয়েকজন সংগঠক অংশগ্রহণ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ২০২০কে সফল করতে জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের শতভাগ গণনার আওতায় আনতে প্রতিনিধিরা মত বিনিময় করেন ওই সভায়। আদমশুমারি সংস্থার প্রতিনিধি ও পরিচালক টিনা নেগুইন এতে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধান আলোচক হিসাবে সিনেটর শেখ রহমান বাংলাদেশিদেরকে জনশুমারিতে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সিপ্যাকস কর্তৃপক্ষকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। সিপ্যাকসের পরিচালক ভিক্টোরিয়া হুইন এব্যাপারে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের মাধ্যমে এই কর্মসূচীকে এগিয়ে নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে মত বিনিময়ে অংশ নেন গুইনেত কাউন্টি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ওকি গোবে, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল মাহমুদ, আসাল জর্জিয়া অঞ্চলের সভাপতি আলী হোসেন, সহসভাপতি ইলিয়াস হাসান, সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলম, ডোরাভিল সিটি কাউন্সিলর এম ডি নাসের, বাংলাধারার সভাপতি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, সাংবাদিক ও বাংলাধারার সহ সভাপতি রুমী কবির, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, মূলধারার সংগঠক আহমাদুর রহমান, মিসেস শেখ রহমান, মিসেস আলী হোসেন, জিএসসিও’এর সভাপতি মোহন জাব্বার ও সাধারণ সম্পাদক সায়ীদ আলম, ডোরাভিল সিটি কাউন্সিলর এম ডি নাসের, বাংলাধারার সভাপতি মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, সাংবাদিক ও বাংলাধারার সহ সভাপতি রুমী কবির, জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, মূলধারার সংগঠক আহমাদুর রহমান, মিসেস শেখ রহমান, মিসেস আলী হোসেন, জিএসসিও’এর সভাপতি মোহন জাব্বার ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম দে ও জর্জিয়া বাংলাদেশ সমিতির অর্থ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বিউরো নিউজ

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •