যুক্তরাষ্ট্রে এখনো গৃহঋণের ফাঁদে ৫০ লাখ মানুষ

স্কুল বাসচালক মাইকেল পেনি নিউইয়র্ক শহরে এক বহুতল ভবনের ৩০ তলায় ভাড়ায় থাকতেন। কিন্তু ভবনটির অবস্থা ছিল খুবই বেহাল। পরিস্থিতি এমন ছিল যে ভবনটির ভাঙা জানালাগুলো বোর্ড দিয়ে ঢেকে দিয়েছিলেন বহুতল ভবনটির মালিক।

এ অবস্থায় পেনি ও তার স্ত্রী গেইল পেনসিলভানিয়ার পর্বতমালার কাছে দুই লাখ ডলারের একটি নতুন বাড়ির বিজ্ঞাপন দেখে আকর্ষণ অনুভব করেছিলেন। তারা তাদের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে অব্যাহতির পথ খুঁজচ্ছিলেন। তাই মধ্যবয়সী এ দম্পতি সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট ও একটি ক্লাব হাউজের সঙ্গে আধুনিক সুবিধাসহ চার বেড রুমের বাড়িটি এক লাখ ৬৮ হাজার ডলার ঋণ নিয়ে বন্ধক দেন। ৬১ বছর বয়সী পেনি বলেন, এটা আসলে ‘আমেরিকান ড্রিমের’র মতো। যে কারণে এখন আমাদের ধনী বলে মনে হচ্ছে। আজকের এমন বাড়ির দাম অর্ধেকেরও কম। যা গুঁড়া নীল রঙের বিভাজক স্তরের সঙ্গে তুলনা করা চলে। যদিও ১২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের অবস্থা জমজমাট ছিল।
রয়টার্সকে এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, নিউইয়র্কের ৮০ মাইল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিউইয়র্ক শহরের কাছে মনোরি কাউন্ট্রি ও পেনসিলভানিয়ার আশপাশের এলাকাকে আবাসন খাতের বাজারের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক বলে ধরা হয়। এ ছাড়া মনোরি কাউন্ট্রি এক-চতুর্থাংশের বেশি বাড়ির মালিক রয়েছে ‘পানির নিচে’। এর মানে তারা ধনীর চেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় আছে।
২০০৮ সালে বিশ্বমন্দার ১০ বছর পর বিশ্ব কিছুটা সেই অর্থনৈতিক সংকট থেকে সরে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের লাসভেগাস, রাস্ট বেল্ট শহরের পিটসবার্গ ও ক্লিভল্যান্ডের ভাগ্যের উন্নতিও হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে পেনির মতো আরও প্রায় ৫১ লাখ বাড়ির মালিক এখনো আবাসন খাতের ঋণের কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছে। এ কারণেই ১০ বছর আগে ‘মহাকাব্যিক’ মন্দার সৃষ্টি হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এটিটিওএম ৩০ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হিসাব অনুযায়ী বলছে, প্রতি ১০ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একজন গুরুতরভাবে গৃহঋণের জালে বন্দি। এ ছাড়া তাদের বন্ধকী সম্পত্তির বর্তমান মূল্য পূর্বে নির্ধারণ করা মূল্যের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। ২০১২ সালে এ অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তখন গড় মূল্য হ্রাস ছিল নিম্নমুখী। এ সময় গুরুতর নেতিবাচক সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২৯ শতাংশ। যা সংখ্যায় এক কোটি ২৮ লাখ বাড়ি। অপরদিকে বর্তমানে আবাসান খাতের অবস্থা দিগুণ ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করছে বিশ্লেষকরা।
ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এটিটিওএম’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেরেন ব্লমকুইস্ট বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছেন, আবাসন খাতের বাজার পুনরুদ্ধার করতে আমরা ভুলে গেছি। আর্থিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান মুডি’র প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডি বলেন, উপকূলীয় বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ফিরে এসেছে। অর্থ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকলে জিনিসের এখনো মূল্য আছে। এদিকে যারা এখনো গৃহঋণের জালে আটকে আছেন তারা ক্রমশই হতাশ হয়ে পড়ছেন বলে রয়টার্সের অনুসন্ধানে জানা গেছে। রয়টার্স