যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে বিরাট ম্যুরাল

যুক্তরাষ্ট্রে হ্যামট্র্যাক এলাকার বাসিন্দারা রবিবার সকালে দেখতে পাবেন একটি চমৎকার বড় আকারে ম্যুরাল। যাতে দেখা যাবে চা বাগানের উপর দিয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশের লাল-সবুজ রঙয়ের পতাকা গায়ে একটি হাস্যোজ্জ্বল মেয়ে। সঙ্গে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্বিত পদচারণা।

যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খোলা স্থানে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ইতিহাস নিয়ে এটাই প্রথম ম্যুরাল বলে মনে করা হচ্ছে। এই ম্যুরালে বাংলাদেশিদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। বাংলা গান ও বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজনে স্থানীয় সময় রবিবার দুপুরে ম্যুরালটির উদ্বোধন করা হবে।

ম্যুরালটি আঁকার কাছে স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করেছেন চিকিৎসক ফারহান হক। তিনি বলেন, এটি আমাকে বাংলাদেশি ঐতিহ্যে গর্বিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বড় কিছু করার কথা মনে করিয়ে দেয়।

৫৫ ফুট প্রস্থ ও ৪৬ ফুট উচ্চতার ম্যুরালটি এঁকেছেন মেক্সিকান-আমেরিকান চিত্রশিল্পী ভিক্টর কুইনোনেজ। তিনি মার্কা২৭ নামেও পরিচিত। বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে ছবিটিতে ব্যবহার করা হয়েছে শাপলা ফুল, চা বাগান, নকশি কাথার বুনন এবং বাংলা বর্ণ। অনেক বিবেচনার পর এসব উপাদান নির্বাচন করা হয়েছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্য।

এই কাজের উদ্যোক্তা স্থানীয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়ান হ্যামট্র্যাকের অ্যাক্টিভিস্ট বিল মেয়ের। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগের ফলে মানুষ একে অপরের কাছাকাছি আসবে ও জানবে। তিনি জানান, নগর সরকারের ‘শ্বেতাঙ্গ ক্ষমতা কাঠামোতে’ স্থানীয় কমিউনিটির বেশির ভাগই নিজেদের প্রান্তিক মনে করেন। বিল মেয়ের বলেন, এই মানুষগুলোর ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ন্যায় বিচার ও সততা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়টের কাছে ছোট একটি শহর এই হ্যামট্র্যাক। শহরটির কাউন্সিল মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এবং এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই অভিবাসী। বেশিরভাগ অভিবাসীই ইয়েমেন ও বাংলাদেশের। জীবনযাত্রার ব্যয় কম, খোলা জায়গা, ছোট কারখানায় কাজের সুযোগ থাকার কারণে অনেক বাংলাদেশি সেখানে বাস করছেন। নতুন দোকান, বাণিজ্য ও প্রার্থনার স্থান গড়ে তোলে শহরটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছে এই কমিউনিটি।

মেয়ের জানান, ম্যুরালটি আঁকার কাজ সম্পন্ন করতে তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সঙ্গে কাজ করেছেন। যে ব্যয় হয়েছে সেটার প্রায় অর্ধেক ৫৬ হাজার ডলার দিয়েছেন স্থানীয় কমিউনিটির সদস্যরা। গত চার বছরে প্রকল্পটি অনেকবারই আটকে গেছে শিল্পী ও বিষয়বস্তু নির্বাচন বিতর্কে। কিন্তু আবু হানিফ নামের একজন মূল উদ্যোক্তা মারা যাওয়ার পর এই বিষয়ে ঐকমত্য আসে। এই ম্যুরালটি আবু হানিফের স্মরণে করা হচ্ছে। হানিফের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, হানিফের স্মরণে বাংলা ম্যুরাল প্রকল্পটি উদ্বোধন করার জন্য।

আবু হানিফের মেয়ে সুভা হানিফের কাছে ম্যুরালটি উদ্বোধন করা ব্যক্তিগতভাবে গর্বের। কিন্তু এটা বাস্তবায়নে একজন কর্মী ভূমিকা রাখা ছিল আরও বেশি কিছু। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল শিক্ষার্থী সুভা বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে আমি বাংলাদেশি-আমেরিকান পরিচয় সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পেরেছি এবং বাবার অকস্মাৎ মৃত্যুর কারণে শোকের মধ্যদিয়ে যেতে হচ্ছে।’ তিনি আশা করেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান শিশুরা এই শিল্পের দিকে তাকাবে এবং এটা তাদের পরিচয় বহন করে বলে অনুভব করবে। বুঝতে পারবে একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশি ও আমেরিকান হতে পারে।

আবু হানিফের মেয়ে বলেন, তাদেরকে কোনও একটি পরিচয় বেছে নিতে হবে না।হ্যামট্র্যাকে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে ম্যুরালটি এমন সময়ে উন্মোচিত হলো যখন দেশটির বিভিন্ন স্থানে অনেক অভিবাসী গোষ্ঠী বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন।ফারহান হক বলেন, আমি আশাকরি এর ফলে বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা ও উপলব্ধির সুযোগ তৈরি করবে।