যুক্তরাষ্ট্রে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের মতবিনিময় সভা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ‘সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় রাইপেন টাস্কফোর্সের প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন এ কে এ আব্দুল মোমেন।

 

সোমবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এ সভায় রাইপেন টাস্কফোর্সের সদস্য এ কে এ আব্দুল মোমেন এর প্রেক্ষাপট আলোচনা করেন।

 

যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন ও সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি রেজাউল বারি। নির্বাহী সদস্য লাবলু আনসার স্বাগত বক্তব্য দেন।

 

 

এ কে এ আব্দুল মোমেন জানান, ‘রাইপেন’ শীর্ষক এ টাস্কফোর্সের কার্যক্রম পরিচালিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে। এর প্রধান সমন্বয়কারী প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ। ‘রাইপেন’ টাস্কফোর্সের জন্যে প্রাথমিক বরাদ্দও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

প্রবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে এই টাস্কফোর্সে রয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এ কে এ মোমেন।

 

এ কে এ মোমেন বলেন, “প্রবাসীরা বাংলাদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আগ্রহী। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা দূরের কথা, বিনিয়োগের আবেদনপত্রও ফাইল চাপা দেয়া হয়। চিকিৎসক, শিক্ষক, আইটি বিশেষজ্ঞরাও বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার পরিবেশ খুঁজে পান না। এসব বিষয় গভীর বিশ্লেষণের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের একান্ত আগ্রহে এই টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে।”

 

 

মোমেন আরও বলেন, “রাইপেনের আর হচ্ছে রেমিটেন্স, আই হচ্ছে ইনভেস্টমেন্ট তথা বিনিয়োগ, ‘পি’তে ফিলনথ্রপি তথা সেবামূলক কর্মকাণ্ড, ই’তে এক্সপেরিয়েন্স তথা অভিজ্ঞতা এবং এন হচ্ছে নেটওয়ার্ক।”

মোমেন উল্লেখ করেন, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাংবাদিক, আইটি বিশেষজ্ঞরা প্রায় বছরই বাংলাদেশে যান। এ সংক্রান্ত একটি ‘সেল’ থাকলে, তার সাথে ওইসব প্রবাসীরা আগে থেকেই যোগাযোগ করে স্বদেশ ভ্রমণের সময় নির্দিষ্ট একটি সময়ে বিনামূল্যে সার্ভিস দিতে পারবেন। এছাড়া, অনেক প্রবাসী নিজ এলাকার হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসা-সরঞ্জাম, স্কুল-কলেজে কম্পিউটার, বই-পত্র, শীতবস্ত্র, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রেও ওই ‘সেল’ সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করবে।

 

মোমেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমরা শীঘ্রই কাজ শুরু করবো আনুষ্ঠানিকভাবে। এটি প্রবাসীদের উন্নয়নের ধারায় একিভূত করতে অবিস্মরণীয় একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছি।”

 

 

সভায় বিভিন্ন বিষয়ে মতামত দেন কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর, রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ও হারুন ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, মহিলা সম্পাদিকা সবিতা দাস, নির্বাহী সদস্য জাফরউল্লাহ, ফাহাদ সোলায়মান ও উইলি নন্দি।

বিশিষ্টজনদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম ও শো-টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *