যুক্তরাষ্ট্র-চীনে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও উস্কে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল সোমবার থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে তৃতীয় দফায় শুল্ক্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিক পরাশক্তির দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলাকালে চীনের বিরুদ্ধে আরোপ করা সবচেয়ে বড় শুল্ক্ক আরোপের ঘটনা এটি। এই শুল্ক্ক আরোপের কারণ হিসেবে চীনের অন্যায্য বাণিজ্যনীতিকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনও পাল্টা ৬০ বিলিয়ন ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক্ক আরোপ করেছে। চীনের অভিযোগ, আন্তঃদেশীয় অর্থনীতিতে সর্বকালের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর বিবিসির।

 

প্রায় ছয় হাজার পণ্যের ওপর এই শুল্ক্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন থেকে এত বেশি পণ্যের ওপর আগে কখনও এত বিশাল আকারের শুল্ক্ক আরোপ করা হয়নি। হাতব্যাগ, চাল ও কাপড়ের ওপর এই শুল্ক্ক আরোপিত হবে। তবে স্মার্ট হাতঘড়ি ও চেয়ারের মতো পণ্য শুল্ক্কের আওতায় পড়বে না। জুলাই মাসে শুল্ক্ক আরোপ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক্ক আরোপ করা হলো। যেসব চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক্ক আরোপ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠান সেসব পণ্য আমদানি করতে চাইলে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক্ক দিতে হবে। দেশ দুটির মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ২০১৯ সালের শুরু থেকে এই শুল্ক্কের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ছোট আকারের বিমান, কম্পিউটার ও টেক্সটাইল পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক্ক আরোপ করেছে চীন। রাসায়নিক দ্রব্য, মাংস, গম ও মদের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০ শতাংশ শুল্ক্ক।

 

চলতি বছর এ পর্যন্ত তিন দফায় মোট ২৫০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাই মাসে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর গত মাসে দ্বিতীয় দফায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক্ক আরোপ করা হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক্ক আরোপ করে চীন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক কৃষকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন- যুক্তরাষ্ট্রের এমন সব পণ্যের ওপর শুল্ক্ক আরোপ করেছে চীন। ট্রাম্প বলেন, চীনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও মেধাসম্পদের অন্যায্য হস্তান্তর বন্ধ করতে এবং নিজ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের শুল্ক্ক আরোপ করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক তর্জন-গর্জন করে বিভিন্ন দেশকে ভয় দেখানোর চর্চা করছে। এটা করে বিশ্ব অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে তারা।

 

সম্প্রতি ট্রাম্প আরও ২৬৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ‘স্বল্প সময়ের নোটিশে’ শুল্ক্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে চীনের সব পণ্যের ওপরই শুল্ক্ক আরোপ করা হবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক্ক নীতির বিরুদ্ধে চীন কী ভূমিকা নেবে, তা স্পষ্ট নয়।