যেভাবে বেড়ে ওঠেন মিডিয়া মোঘল রুপার্ট মারডক

রাশিদ রিয়াজ : গত ১১ মার্চ মিডিয়া মোঘল রুপার্ট মারডক বেশ ঘটা করেই জন্মদিন পালন করলেন। ১৯৩১ সালের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তারা বাবা কেইথ মারডক ছিলেন প্রখ্যাত ‘ওয়ার রিপোর্টার’ বা যুদ্ধ প্রতিবেদক। তিনি ছেলে রুপার্ট মারডককে শৈশব থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলেছিলেন। কেইথ মারডক ছিলেন হেরাল ও উইকলি টাইমস গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক। সাংবাদিকতার প্রতি মমত্ববোধ থেকেই তিনি তার ছেলেকে সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন এবং এজন্যে তিনি গর্ববোধ করতেন।
যে কারণে মিডিয়া জীবনে রুপার্ট মারডক অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩০টি সংবাদপত্রের মালিক হয়ে ওঠেন। নিউইয়র্ক পোস্ট, দি টাইমস, দি সানডে টাইমস বা ডেইলি টেলিগ্রাফ তার ব্যবস্থাপনার ফসল। নিউজ করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফক্সের নির্বাহী সহ-সভাপতি তিনি। হারপার কলিন্স, মাশরুম রেকর্ডস, ডো জোন্স’এর মত নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো তার। ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৫০টি দেশে মারডকের ৮’শ কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রথমে রুপার্ট মারডকের নাম রাখ হয় বাবা ও দাদার নামের সঙ্গে মিল রেখে কেইথ রুপার্ট মারডক। তার দাদার নাম ছিল রুপার্ট গ্রিনি। ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার দিকে ঝোঁক ছিল রুপার্টের। খরগোশ ধরে লোম ও কৃষকদের কাছে ঘোড়ার গোবর বিক্রি করতেন। মেলবোর্ন হেরাল্ডে পার্ট-টাইম কাজ করতে শুরু করেন। দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অরচেস্টার কলেজ, অক্সফোর্ড থেকে পড়াশুনা শেষে লেবার পার্টির সমর্থক হয়ে ওঠেন। লেবার ক্লাবের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অক্সফোর্ড স্টুডেন্ট পাবলিকেশন্স লিমিটেড, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান শেরওয়েল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন।
২১ বছর বয়সে মারডক বাবাকে হারান। পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব কাঁধে নেন। সানডে টাইমস, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া কিনে নেন। এক বছরের মাথায় শহরের ও প্রাদেশিক দৈনিকগুলোর শীর্ষে তার মিডিয়াগুলো বাজারে আত্মপ্রকাশ করে। রুপার্টই আধুনিক ট্যাবলয়েড পত্রিকার জনক। খেলাধুলা ও নজর কাড়ার মত হেডলাইন, পরকীয়ার মত বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ খবরের চেয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি নজর কাড়তে সমর্থ হন।আমাদের সময়.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *