Fri. Dec 13th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

যে কারণে বারবার ‘ইত্যাদি’তেই ফিরতে হয় দর্শকদের!

1 min read

বিনোদন ডেস্কঃ দর্শকনন্দিত ইত্যাদি বরাবরই দুর্দান্ত অতুলনীয়। এরকম বিশেষণও খুব ছোটই মনে হয় এমন একটি অনুষ্ঠানের জন্য। কারণ এত এত বিনোদন ডিভাইসের যুগে সারাবিশ্বের বাঙালি দর্শকদের হূদয়ের কড়া নাড়ানোর অনুষ্ঠান এখনো ইত্যাদিই দেখিয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন বারবার বিভিন্ন আলোচনায় বলি, নেতিবাচক, অশ্লীল, মানহীন, বিতর্কিত বিষয় ছাড়া নাকি কোনো কিছুই ভাইরাল হয় না আজকাল। অথচ সত্যিকার অর্থেই ভাঁড়ামোবিহীন নান্দনিক ও সুস্থ বিনোদন যে দর্শক মনে কী দারুণ প্রভাব ফেলে, ফেসবুক-ইউটিউবে লাখ লাখ শেয়ার হয়; তার অনন্য উদাহরণ ‘ইত্যাদি’।

 

এবারে বান্দরবানের নীলাচলে ধারণকৃত ‘ইত্যাদি’ যেন মানবতাবোধের ডাক দিয়ে গেল, ছুঁয়ে গেল কোটি মানুষের হূদয়। এরই ভেতরে টাঙ্গাইলের এক নিঃস্বার্থ পরোপকারী ডা. এড্রিক বেকারকে নিয়ে ফলোআপ প্রতিবেদনটি সবার হূদয়ে নাড়া দিয়ে গেছে। টাঙ্গাইলের কাইলাকুড়ী হেলথ কেয়ার সেন্টার এবং এর পরিচালক ডা. এড্রিক বেকারকে নিয়ে ২০১১ সালে ‘ইত্যাদি’তে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। দীর্ঘ ৩২ বছর গ্রামের এই হাসপাতালে সেবা দেওয়ার পর ২০১৫ সালে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি চেয়েছিলেন, কেউ যেন তার এ প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন। তার আহ্বানে সুদূর আমেরিকা থেকে ছুটে আসেন ডাক্তার দম্পতি জেসিন-মেরিন্ডি।

 

গ্রামের পরিবেশেই তারা তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন, লালন-পালন করছেন তাদের সন্তানদের। হয়তো অনেক চিকিত্সকের কাছেই বিষয়টি মনঃপুত হবে না, কিন্তু বিনীতভাবে কি প্রশ্ন করতে পারি, আমাদের দেশের কোনো ডাক্তার ধরে নিলাম সেখানে গেলেন, তিনি কি সঙ্গে তার পরিবার নিয়ে যাবেন? নিয়ে যাবেন এমন ৪/৫ বছর বয়সের ৪টি শিশুকে? চিকিত্সকের স্ত্রী কি রাজি হবেন? রাজি হবেন কি স্বামীর সঙ্গে এমনি নিভৃত পল্লিতে থাকতে। কী হবে বাচ্চাদের লেখাপড়ার? কীভাবে কাটবে তাদের জীবন? এমন নানা প্রশ্নের কি উদয় হবে না? এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং জেসন-মেরিন্ডিকে নিয়ে করা ‘ইত্যাদি’র এই প্রতিবেদন ফেসবুক দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ইতিপূর্বে আর কোনো টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

 

 

বলা যায়, মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন এই ডাক্তার দম্পতি। আর্তমানবতার সেবায় যারা জীবনের অর্থ খুঁজে পান, ডা. এড্রিক বেকার ও জেসিন-মেরিন্ডি তাদেরই উদাহরণ। এই মানবিক প্রতিবেদনটি দর্শকদের হূদয় ছুঁয়ে যায় এবং মানবিক বোধে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়াও ‘রিয়েলিটি শো’র নামে সম্প্রতি কিছু ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের দিকেও বিদ্রুপের তীর ছুড়ে দিল ‘মামা-ভাগ্নে’ পর্বটি। ‘শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে এত ব্যবসা কেন?’ এমন প্রশ্নও তোলেন রেডিওতে সাক্ষাত্কার দিতে যাওয়া এক শিল্পী। পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশনার দর্শকমুগ্ধতা তো রয়েছেই। কিন্তু ত্রৈমাসিক একটি অনুষ্ঠান দেশের এত এত অনুষ্ঠানের ডামাডোলে বিবেকের দরজায় বারবার যে কড়া নাড়ছে, এ বিষয়টিই বিস্ময়বোধে দু চোখের পাতার দূরত্ব বাড়ায়! আর এ কারণে ‘ইত্যাদি’র মূল কারিগর দেশবরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হানিফ সংকেত ও তার ‘ইত্যাদি’ টিমকে ধন্যবাদ জানানোটাও দর্শকদের দায়বোধের মধ্যে পড়ে। ধন্যবাদ বিটিভিকেও। তাই অগণিত মানহীন ভাঁড়ামোর অনুষ্ঠানের ভিড়ে বারবার আমাদের মতো দর্শকদের ‘ইত্যাদি’তেই ফিরতে হয় সত্যিকার আনন্দ আহরণের জন্য।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.