রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতা রায়ান

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতা, কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান নিজের আসনে পুনরায় নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

২০১৯ সালের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার পদ থেকেও সরে যাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

 

রায়ানের এ অপ্রত্যাশিত ঘোষণা কংগ্রেসনাল নির্বাচনের আগে দলের অন্যান্য সহকর্মী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ধাক্কা হয়ে দেখা দেবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

 

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই ডেমোক্রেটদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রিপাবলিকানরা। এর মধ্যেই রায়ানসহ নিম্নকক্ষের আরো প্রায় ৩০ জন সদস্য চলতি বছরের মধ্যেই অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে মাত্র ২৩টি আসন দরকার ডেমোক্রেটদের।

 

বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রায়ান জানিয়েছেন, তার এ সিদ্ধান্ত পরিবারকে কেন্দ্র করে।

 

তিন সন্তানের পিতা ৪৮ বছর বয়সী এ রাজনীতিক জানিয়েছেন, তিনি ‘শুধু সাপ্তাহিক ছুটির দিনের বাবা’ হতে চান না।

 

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রায়ান একথা বললেও নিজের চাকরি নিয়ে হতাশ তিনি, এর আংশিক কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

ট্রাম্প ওভাল অফিসের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৫ মাসে কেবল কর ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সফল হতে পেরেছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানরা। বিভিন্ন বিষয়ে ‘অস্থির’ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টানাপোড়েন থাকার পরও গত ডিসেম্বরের ওই কর সংস্কার বিল পাসে রায়ান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।

 

ট্রাম্প এবং তার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দক্ষিণপূর্ব উইসকনসিন থেকে পুনঃনির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে কতটুকু প্রভাব রেখেছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রায়ান বলেছেন, “একটুও না।”

 

নিম্নকক্ষের বর্তমান এ স্পিকার পরে মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘ঘনিষ্ঠতা ছিল’; প্রেসিডেন্ট কম টুইট করুক এমনটাও তার প্রত্যাশা।

 

“জনসম্মুখে বিবাদের কথা উন্মোচন না করে ব্যক্তিগত আলোচনাই ভালো ফল এনে দেবে,” ট্রাম্পকে পরামর্শ রায়ানের।

 

ট্রাম্পের মেয়াদকালের দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই ওয়াশিংটন হোয়াইট হাউসের অসংখ্য কর্মকর্তা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের বরখাস্ত কিংবা সরে যাওয়া প্রত্যক্ষ করেছে। রায়ানের ঘোষণা সেই ধারাবাহিকতার সাম্প্রতিক সংযোজন।

 

২০১৬ সালেও ট্রাম্প রায়ানের কড়া সমালোচনা করে তাকে ‘খুবই দুর্বল ও অকার্যকর নেতা’ অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও বুধবার তার টুইটে ছিল ভিন্ন সুর।

 

“স্পিকার পল রায়ান সত্যিকার অর্থেই একজন ভালো মানুষ। তিনি যদি পুনঃনির্বাচনে অংশ নাও নেন, তাও প্রশ্ন করা যাবে না এমন অসামান্য কৃতিত্বের উত্তরাধিকার বহন করবেন। তোমার সাথেই আছি পল,”বলেছেন ট্রাম্প।

 

২০১২ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন রায়ান। সেবার হারলেও ২০২০ সালে বা তার পরের নির্বাচনে দলের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে চান, এমন ধারণা চাউর হলেও সে সম্ভাবনাও বাতিল করে দিয়েছেন রায়ান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.