রাজবাড়ীর কালুখালীতে ট্রলার ডুবিতে নারী ও শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার, ০৬ আগ ২০১৬ ১২:০৮

RAJBARI PHOTO 2
রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের হরিণবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে ট্রলার ডুবিতে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কালুখালীর চররামনগর গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী হালিমা (৪৫) ও মেয়ে ফরিদ (২০)া, একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীর হোসেনের স্ত্রী ছয় মাসের অন্ত¡সত্ত্বা বেগম (২০), আলোকদিয়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের দুই ছেলে রাহুল(৭) ও রাজু (৫) এবং পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের সাদারচর গ্রামের আকমল শেখের ছেলে দুলাল শেখ (৩৫)। শুক্রবার সন্ধ্য সাড়ে ৬টার দিকে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। শনিবার রাজশাহী থেকে আসা ডুবুরি দল পর্যায়ক্রমে তাদের লাশ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা যায়নি এখনও পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলারটি । রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জিনাত আরা, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম, কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হরিণবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর ঘাট থেকে পাংশা উপজেলার সাদারচর ও চররামনগর ঘাটে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় মানুষ আসা যাওয়া করে থাকে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হরিণবাড়িয়ার ওই ঘাট থেকে ২০/২২ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি যাত্রা শুরু করে। কিছু দূর গিয়েই ট্রলারটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। ট্রলারের চালক ইঞ্জিন পুনরায় চালু করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়। এভাবে ট্রলারটি ভাসতে ভাসতে হরিণবাড়িয়া ব্রীজের সাথে সজোরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। ওই সময় একটি পিকনিকের নৌকার যাত্রীরা ট্রলারটি ডুবতে দেখে এগিয়ে এসে যাত্রীদের উদ্ধারে সাহায্য করে। ১৫/১৬ জন যাত্রী উদ্ধার হলেও নিখোঁজ থেকে যায় সাত জন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালুখালী থানার পুলিশ ও স্থানীয় জনগণ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকা ও ট্রলার দিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা করে।
শনিবার ভোরের দিকে রাজশাহী থেকে আসা একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাংশা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের সহযোগিতায় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
ডুবুরি দলের টিম লিডার মোহাম্মদ নুরুন্নবী জানান, ¯্রােতের কারণে মৃতদেহগুলি ভাসিয়ে অনেক দূর নিয়ে গিয়েছিলো। ঘটনাস্থলের দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূর থেকে লাশগুলি উদ্ধার করা হয়।
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পর থেকে তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন। প্রথমে সাতজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পেলেও তাদের মধ্যে থেকে একজন জীবীত উদ্ধার হয়েছে। বিষয়টি আজ (শনিবার) নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম জানান, পুলিশ বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। এব্যাপারে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ট্রলারটি ১৪/১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরকে দিয়ে চালানো হচ্ছিল বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ট্রলার মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জিনাত আরা জানান, ট্রলার ডুবিতে নিহত ছয় জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ২০ হাজার টাকা সাহায্য দেয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •