Sun. Sep 15th, 2019

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

রাজশাহীতে কোরবানির পশুর ঘাটতি

1 min read

১২ আগস্ট ঈদুল আযহা। দুয়ারে কড়া নাড়ছে। শুরু হয়েছে কোরবানির পশু নিয়ে হিসেব নিকেশ। তৎপর গরু ব্যবসায়ী হাটের ইজারাদাররা। মাসের বেতন হাতে পেয়ে কোরবানিদাতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। বেশিরভাগ কোরবানিদাতার আগ্রহ দেশি গরুর প্রতি হলেও এবার এক্ষেত্রে রাজশাহীতে সুখবর নেই। এবারো রাজশাহী জেলায় কোরবানি পশুর ঘাটতি রয়েছে।

 

২০১৭ সালে একেবারে শেষ মুহূর্তে বানের পানির মত ভারতীয় গরু আসায় কাঙ্খিত দাম পায়নি স্থানীয় খামারি আর বাড়িতে লালন পালনকারীরা। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হয়েছে। এরপর গো-চারন ভূমি না থাকা, খাদ্যের দাম বেশি এবং বিভিন্ন কারণে খামার কমে যাওয়ায় কাংখিত পশু উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

 

 

 

অতিরিক্ত জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার বলেন, চলতি বছর জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে চার লাখ সাড়ে ৪ হাজার পশুর। নয় উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় সতের হাজার সাতশটি খামার রয়েছে। গতবার জেলায় পশু জবেহ হয়েছিল তিন লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯টি। যার মধ্যে গাভী ও বকনা দুই হাজার ৯৮১টি, ষাড় ও বলদ ৭১ হাজার ২৫৬টি, মহিষ ৭৪৫টি, ছাগল তিন লাখ ১৭ হাজার ৬৯৪টি ও ভেড়া তিন হাজার ৮৪৩টি।

 

এখন পর্যন্ত খামার ও গৃহস্থ ঘরে কোরবানীর জন্য সম্ভাব্য মজুত রয়েছে তিন লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৪টি। যার মধ্যে গাভী ও বকনা ছয় হাজার ১৮টি, ষাড় ও বলদ ৭১ হাজার ৮৩১টি, মহিষ দুই হাজার ৬৭৫টি, ছাগল দুই লাখ ৭৪ হাজার ৭৫টি ও ভেড়া ১৩ হাজার ৬৭৫ টি এবং অন্যান্য এক হাজার ১৩৬টি। প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে প্রতিবছর ২শতাংশ বৃদ্ধি ধরে সম্ভাব্য চাহিদা নিরুপন করা হয়। এতে আগামী ঈদে ৩৪ হাজার ৮৭৫টি পশুর ঘাটতি রয়েছে।

 

অপরদিকে দেশীয় বিক্রেতাদের স্বার্থে ঈদুল আজহার আগ পর্যন্ত সীমান্ত পথে বৈধ ও অবৈধভাবে সব ধরনের গবাদিপশুর প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খানের সভাপতিত্বে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে কোরবানির পশুর সংখ্যা নিরূপণ, হাটে স্বাস্থ্যসম্মত পশুর ক্রয়-বিক্রয় ও স্বাস্থ্যসেবা, বিক্রেতাদের নিরাপত্তা এবং পশুবাহী গাড়ি ছিনতাই রোধের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

 

 

 

বুধবার সিটি বাইপাস হাটে সরজমিনে দেখা যায়, প্রতিবারের মতো এবারোও ভারতীয় গরুর আগ্রাসনে পড়েছে দেশি গরু। রাজশাহীর সীমান্ত এলাকা কড়াকড়ি থাকলেও আশেপাশের জেলার সীমান্ত দিয়ে অবাদে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করেছে। আর এতে দেশি গরু বাজার হারাচ্ছে।

 

গরুর বাজারে বুধবার দেশি ছোট গরু ৩৯ হাজার টাকাতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। বড় দেশি গরু নেই বললেই চলে। যা দু’একটি আছে ক্রেতা তার দামই বলেনি।

 

তবে গরু ব্যবসায়ী আনিকুল ইসলাম বলেন, এখনো কোবানির হাট বলা যাবে না। বরাবরের মতই আজকের হাট। তিন মণ (১২০ কেজি) দেশি ষাড় বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ হাজার টাকায়। আর ওই ওজনের গরু বলদ হলে ৬০-৭০ হাজার এবং ভারতীয় হলে থেকে ৫৫-৬০ হাজার দামে পাইকারদের কিনতে দেখা গেছে।

 

ভারতীয় গরু-মহিষ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য বলেন, যে পশুগুলো আমরা ভারতীয় বলি সেগুলো আজ থেকে প্রায় বছর খানেক আগে থেকে গৃহস্থ বাড়িতে পালন করা হয়। আর এখন তো রাজশাহীর ঘাট বন্ধ। তবে বিভিন্ন পথে দু’একটি পশু আসা অস্বাভাবিক নয়। এগুলো কাটাইয়ের জন্য পাইকার ও কসাইরা কেনেন। ঈদুল আযহা আসতে আরো বেশ কিছুদিন বাকি।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Developed By by Positive it USA.

Developed By Positive itUSA