রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি

প্রকাশিত:সোমবার, ০৭ সেপ্টে ২০২০ ০৩:০৯

রাজশাহীতে মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শাস্তি দাবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলেকে মারধরকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতাল সংলগ্ন লক্ষ্মীপুর মোড়ে মানববন্ধন করে সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

মানববন্ধন থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এসব দাবি পূরণ না হলে রাজশাহীবাসী রামেক হাসপাতাল ঘেরাও করে দাবি আদায় করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলীর সভাপতিতে এবং সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খানের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাংগাঠনিক সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, মোহনপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, মুক্তিযোদ্ধা হাকিম আতাউর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, উন্নয়নকর্মী সুব্রত পাল।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রামেক হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর মৃত্যু, মুক্তিযোদ্ধা ও তার ছেলের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনে নামবে রাজশাহীবাসী।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা চিকিৎসা ছেড়ে নিজেদের কক্ষে বসে হিন্দি সিনেমা দেখেন। রোগীর স্বজনরা ডাকলে বিরক্ত হন। সিনেমার শেষ দৃশ্য শেষ করে ওয়ার্ডে যান। ততক্ষণে রোগী মারা যায়। প্রতিবাদ করলে জোটে মারধর। হস্তান্তর করা হয় পুলিশে।

তারা বলেন, সম্প্রতি এমন ঘটনায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তে যে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে, তা নিরপেক্ষ না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা সকলেই চিকিৎসক। তাই অচিরেই বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে রাজশাহীবাসী।

গত ২ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধা ইসাহাক আলীর স্ত্রী পারুল বেগমের (৬৫) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে ইসাহাক আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এরপর তার বিরুদ্ধে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন। পরে বিকেলে আদালত থেকে জামিন নিয়ে রাকিবুল ইসলাম তার মায়ের দাফনের কাজে অংশ নেন।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ