রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার নির্মাণসহ ১৭ প্রকল্প অনুমোদন

রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার নির্মাণসহ ১৭ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে ১১ হাজার ১৯৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে আসবে ২ হাজার ৮১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে আসবে ১৯৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে, চলতি সপ্তাহেই মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) একনেকের বৈঠকে আরও ২০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ মুস্তফা কামাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজশাহী মহানগরের পানি সরবরাহের কাভারেজ ৭১ শতাংশ এবং রাজশাহী ওয়াসা মোট পানি উৎপাদনে ৯৬ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার করে। ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে অস্বাভাবিক হারে পানি উত্তোলনের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্থিতিতল প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ মিটার নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর বিরূপ প্রভাব তৈরি হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, রাজশাহী মহানগরীর পানির কভারেজ ৭১ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে উন্নীত করতে চীন সরকারের আর্থিক সহায়তায় জি-টু-জি ভিত্তিতে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের জন্য এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরেও পানি সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড় কাটা বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পাহাড় কাটার কারণে যেন কোনো মানুষ মাটি চাপা পড়ে মারা না যায়।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের সব পরিচ্ছন্নকর্মীর বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। ঢাকা শহরে সাত হাজার পরিচ্ছন্নকর্মীর মধ্যে তিন হাজার কর্মীর বাসস্থানের ব্যবস্থা এরই মধ্যে করে দেওয়া হয়েছে। এখন আরও ১১০০ জনের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

আগের একনেক বৈঠকের একদিন পরই আরেকটি একনেক বৈঠক আয়োজনের কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এর কারণ দু’টি। প্রথমত, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে ১৮ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগ কম হচ্ছে। তাই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৪টি মঙ্গলবার পাওয়া গেছে। কিন্তু আজকেরটি নিয়ে ১০টি একনেক হচ্ছে। সরকারি ছুটি ও প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় বাকি চারটি একনেক বৈঠক করা সম্ভব হয়নি। তাই আজকের এই বৈঠককে বাড়তি একনেক বৈঠক বলা যায় না।

এদিকে, একনেকে গুলশান-বনানী লেক উন্নয়নের একটি প্রকল্প উত্থাপন করা হলেও তা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হলে ওই এলাকার ১২ হাজার মানুষকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে হবে। তাদের কোথায় পুর্নবাসন করা হবে, সেটি আগে ঠিক করতে বলা হয়েছে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থিত পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা; চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা; ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ২৫৪ কোটি ১০ লাখ টাকা; ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ১ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা; বৈরাগীপুল (বরিশাল)-টুমচর-বাউফল (পটুয়াখালী) জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ৩০২ কোটি ১৬ লাখ টাকা; ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নন্দিগ্রাম (ওমরপুর) –তালোর -দুপচাঁচিয়া-জিয়ানগর –আক্কেলপুর গোপীনাথপুর জেলা মহাসড়ক এবং নন্দীগ্রাম (কাথম) কালিগঞ্জ-রাণীনগর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এছাড়া, বিদ্যমান চত্বরে একটি বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা; বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম জোন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৫১ কোটি ৯১ লাখ টাকা; যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা; খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা; বঙ্গবন্ধু দারিদ্র বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স (বর্তমান বাপার্ড), কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা; বৃহত্তর ঢাকা জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা; রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদর উপজেলায় যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা; উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা; দ্য প্রজেক্ট ফর দ্য ইমপ্রুভমেন্ট অব রিসোর্স ক্যাপাসিটিজ ইন দ্যা কোস্টাল অ্যান্ড ইনল্যান্ড ওয়াটারস প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি নতুন বাফার গোডাউন নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।