রৌমারীতে বালুখেকোদের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে রাস্তা তৈরি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০৭ জানু ২০২১ ০৭:০১

রৌমারীতে বালুখেকোদের ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে রাস্তা তৈরি

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বালু জন্য ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে কর্তিমারী নৌকাঘাট এলাকায় তৈরি হচ্ছে ৩০০ মিটারের একটি বালুর রাস্তা। স্থানীয় বালু উত্তোলনকারী, বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজার মেশিন মালিকরা যৌথভাবে নিজেদের খরচে এ রাস্তা তৈরি করছেন। চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সুবিধার্থে রাস্তা তৈরির কথা জানালেও তাদের উদ্দেশ্য নদের বুক থেকে বালু উত্তোলন করে পরিবহন করা।
স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী ও বালু পরিবহনকারী ট্রলির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল করতে পারছে না। যাতায়াতের জন্য চরাঞ্চলের মানুষকে অনেক কষ্ট করতে হয়। ফসল ঘরে তুলতে এবং জমিতে গিয়ে কাজ করতে প্রতিদিন তাদেরকে চর এলাকায় যাতায়াত করতে হয়। চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সুবিধার জন্য ৩০০ মিটার বালুর রাস্তাটি নির্মাণ করা হচ্ছে।’
‘রাস্তা নির্মাণে চরের লোকজন সাধ্যমতো সহায়তা করছে। আমরা কয়েকজন মিলে বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করছি’ এমনটি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হবে।’
নদের বুক থেকে বালু তুলে নির্মিত রাস্তা বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি জানান, তারা রাস্তা নির্মাণে খরচ করছেন এবং তা কোনো না কোনোভাবে তো তুলতে হবে।
বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মেশিনের মালিক শামিম মিয়া জানান, চরের লোকজনের যাতায়াত সুবিধার জন্য নদের বুকে বালুর রাস্তা নির্মাণে তারা আর্থিক সহায়তা করছেন। রাস্তাটি দিয়ে স্থানীয়রা চলাচল করতে পারবে আর নদের বুক থেকে বালু তুলে তা পরিবহনও করা হবে। তারা দুর্গম চর থেকে বালু তুলেন। এতে নদের কোনো ক্ষতি হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
অপর ড্রেজার মেশিন মালিক মমিন আলী জানান, নদের বুকে দুর্গম চর থেকে বালু উত্তোলন করার কাজে চরের অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। বালুর রাস্তাটি চরের মানুষের অনেক উপকারে আসবে।
তিনি বলেন, ‘নদের বুকে বালুর রাস্তা নির্মাণ করে দিচ্ছি, এটা আমাদের ভালো কাজ। রাস্তার আশি শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, বাকি বিশ শতাংশ কাজ আগামী তিন-চারদিনে করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
কর্তিমারী নৌকাঘাটের ইজারাদার বাহেজ আলী জানান, নদে পানি কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই তার সাথে কথা বলে নৌকাঘাটের পাশে নদের বুকে বালুর রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে যত বালু পরিবহনের গাড়ি চলাচল করবে প্রতি গাড়ি বাবদ ২০ টাকা করে তাকে টোল দিতে হবে।
যাদুরচর ইউনিয়নের ওর্য়াড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, ১৪-১৫টি কাকড়া গাড়ি (ট্রাক্টর) মালিক মিলে নদ থেকে বালু তুলে বিক্রি করার উদ্দ্যেশে এই রাস্তা নির্মাণ করছেন। এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসী কোনো চাঁদা দেয়নি। বালু ব্যবসায়ীরা নিজেদের টাকায় এ রাস্তা নির্মাণ করছে। এটা বন্ধের ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, ‘নদের বুক থেকে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করলে কোনো ক্ষতি হবে না। তবে অপরিকল্পিতভাবে উত্তোলন করলে তা ভাঙনের কারণ হবে। এর আগেও, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদের ভাঙনে অনেক বসতভিটা, আবাদি জমি, ফলের বাগান ও স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। নদের বুক থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হলে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তা প্রতিহত করা হবে।’
রৌমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম ফেরদৌস বলেন, ‘ এব্যাপারে ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করুন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, যে সব ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নদের বুকে রাস্তা নির্মাণ করছিল, সে সব ড্রেজারে অভিযান চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ কাঁকড়া (ট্রাক্টর) গাড়ি দিয়ে মাটি এনে রাস্তা নির্মাণের কাজ করে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,227 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •