লকডাউন শিথিল নয়, কঠোর হওয়া জরুরী।।

প্রকাশিত:শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ ১২:০৫

লকডাউন শিথিল নয়, কঠোর হওয়া জরুরী।।

সাইফুর রহমান কায়েস:- লকডাউন উঠে গেলে সংক্রমণের হার বেড়ে যাবে। মানুষ মৃত্যুর পর জানবে তার দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিলো। পুঁজিবাদ মানুষের চেয়ে পুঁজির গুরুত্ব বেশি দেয় বলেই এই মহামারীকালে লকডাউন তুলে নিয়েছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র হচ্ছে পুঁজিবাদের দাস। পুঁজি যেদিকে মোড় নিতে বলে রাষ্ট্রও সেদিকেই মোড় নেয়, তার সকল পরিকল্পনা রাষ্ট্রকে ঘিরে। বলা হচ্ছে লকডাউন সীমিতভাবে খুলে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মানুষ সেই সীমার মধ্যে নিজেদেরকে তো সীমিত রাখছে না। মিজেরা হামলে পড়ছে বাজারে। যেনো এবার যদি বাজারে হামলে পড়া না যায় তবে পরে কিছুই পাওয়া যাবে না।

এর সাথে তাল মেলাতে রাষ্ট্রও উগ্রপন্থা অবলম্বন করছে। আমাদের নিয়তির সাথে রাষ্ট্র করোনাকে লেপ্টে দিতে চাইছে। রাষ্ট্র যেনো বা দায়মুক্তি চাইছে। জনপণ একদিকে পাচ্ছে না চিকিৎসা অন্যদিকে পাচ্ছে না খাবার। যাও পাবার ছিলো তাও চালচোর আর অর্থ তছরূপকারীদের পাল্লায় পড়ে তাদের যে হাটু সেই কপাল দশা যেনো আর পিছু ছাড়ছে না। আমরা ক্রমশঃ মৃত্যুর দিকে একপা দুপা করে এগুচ্ছি। অফিস আদালত,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, গণপরিবহন উন্মুক্ত করে দেবার ফলে মৃদু সংক্রমণ এখন গণসংক্রমণে রূপান্তরিত হবে। মৃত্যুর হারও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। ফ্রান্সে স্কুলগুলোকে খুলে দেবার ফলে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে। আমরাও সেইপথে অগ্রসর হচ্ছি। আমেরিকার মতো উন্নত দেশও যেখানে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হতে দেখেছে সেখানে আমাদের মতো পশ্চাৎপদ দেশ কিভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে সেটাই এখন ভাবার বিষয়। তাই লকডাউন তুলে নেবার সময় এখনও হয় নি। বরং সরকারকে কারফ্যু’র মতো কঠিন আইনী পদক্ষেপ নেবার মতো অবস্থায় উপনীত হবার সময় এসেছে। দেশের মানুষকে বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই বলেই সচেতন মহল মনে করছেন।

লেখকঃ কবি ও প্রাবন্ধিক
উপদেষ্টা সম্পাদক, শব্দকথা।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ