লক্ষ্যের আহবানে প্রবাসের পানে

প্রকাশিত:শুক্রবার, ১৩ নভে ২০২০ ১২:১১

লক্ষ্যের আহবানে প্রবাসের পানে

মুমিনুর রহমান ইমন

আমার যুক্তরাজ্য যাওয়াটা হুট করেই হয়। সব মিলিয়ে ৩-৪ মাস সময়ের মধ্যে। আমি তখন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। শ্রদ্ধেয় শরিফ স্যারের কাছে হিসাববিজ্ঞান পড়তে যেতাম, সেখান পাপ্পুর মাধ্যমে জানলাম স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং প্রসেসিংও খুব ইজি। বাসায় এসে এ বিষয়ে আলাপ করে তেমন কোন সাড়া পেলাম না আমি।সবার ইচ্ছে ছিলো অনার্স শেষ করবো,তারপর। আর রাঙ্গা ভাইয়ার ইচ্ছে ছিল অষ্ট্রেলিয়া এবং এ ব্যপারে উনি খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তবে যাওয়া অনার্স শেষ করার পর। তখন আমারও তেমন আগ্রহ ছিল না। এরই মধ্যে আমাদের বড় দুলাভাই উনার সংক্ষিপ্ত যুক্তরাজ্য ভ্রমণ থেকে দেশে ফিরলেন, তিনি আমাকে উৎসাহ দিলেন। বাসায় আবার আলাপ করি দুলাভাই এর রেফারেন্সে এবং উনাকে সামনে রেখে কথা বলি। বড়ভাইয়া রাজি হলেন, “বললেন তুমি খুব করে যেতে যাইছ, তাই রাজি হলাম। তা না হলে হয়ত তোমার মনে সারা জীবন আফসোস থাকবে লন্ডন গেলে অনেক কিছুই করতে পারতাম”। বড়ভাইয়া রাজি মানে সব রাজি! কারণ আমাদের পারিবারিক সকল সিদ্ধান্ত বড়ভাইয়া নেন।আব্বাকে কিছু বললে তিনি বড়ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করতে বলেন। মাসুদ ভাইকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম সিলেটে পুরো বিষয় সম্পর্কে খুঁটিনাটি বুঝার জন্য।

বিশ্বব্যাপি তখন অর্থনৈতিক মন্দা, খবরে এবং যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ হলে তারা করুণ পরিস্থিতির কথা জানান। আর তখন আমি ভিসার জন্য অপেক্ষায়। দুটানায় পরে গেলাম। আমি তখন মাত্র ২১ বছরের যুবক বড় ভাইয়েরা কিভাবে এরকম অজানা পরিস্থিতিতে ফেলবেন তার জন্য খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু আমি ছিলাম খুবই আত্মবিশ্বাসী। আমি যেদিন ফ্লাইট ধরবো তার আগের রাতে ছাদে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম আমি বড়ভাইয়া, রাঙ্গা ভাইয়া ও ভাইয়া (লিমন ভাইয়া); নানা অনিশ্চয়তার পরও তারা সাহস দেবার চেষ্টা করলেন। বড়ভাইয়া বললেন, “হারাবার কোনকিছু নেই, যাও। যেয়ে দেখ কি হয়, যদি মনে কর সম্ভব না,চলে এসো। মানুষ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে লন্ডন যাওয়ার চেষ্টা করেও ভিসা পায় না। মনে কর ভিজিট করে আসলে, আর নতুন একটা দেশ দেখে আসলে, কিছু অভজ্ঞতা অর্জন করবে আরকি”। জানালেন উনার বন্ধু বেলাল ভাই আসবেন এয়ারপোর্টে পিকআপ করতে আর আপাতত থাকার ব্যবস্থাটা উনার বাসাতেই হবে।

এতো টাকা খরচ করে চরম একটি অনিশ্চয়তার পথে পা দিলাম পরের দিন ভোরে। খুবই যে আনন্দ ছিল তা না, আবেগটা ধরে রাখলাম। বড় ভাইয়া লিভিং রুমে সোফায় শুয়েছিলেন বাইরে আসলেন না, শুধু বললেন, “যাও”। কারণ খুবই সোজা আমার সাথে সবচেয়ে বেশি সময় কেটেছে উনার। রাত জেগে দুজনে টিভি দেখতাম, গল্প করতাম এবং ব্যাসায়িক কাজ করতাম।
আব্বা খুবই শক্ত মানুষ, উনার কষ্ট উনি কাউকে বুঝতে দেন না। এমনকি যেদিন মেঝ ভাইয়া মারা যান তিনি সবাইকে সামলেছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। আব্বা হাসি মুখে বললেন, “যাও, কোন চিন্তা করো না, আল্লাহ ভরসা”।আমিও বেরিয়ে পড়লাম অচেনা এক শহরে অজানা এক গন্তব্যে…
(চলবে)

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ