লাশ সৎকারে অনন্য দৃস্টান্ত স্থাপন করেছে আগৈলঝাড়ায় মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত:বুধবার, ২৩ সেপ্টে ২০২০ ১১:০৯

লাশ সৎকারে অনন্য দৃস্টান্ত স্থাপন করেছে আগৈলঝাড়ায় মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশন

রুবিনা আজাদ, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) :
মানবতার অনন্য দৃস্টান্ত নিয়ে আগৈলঝাড়ায় করোনায় আক্রান্ত ২৬টি লাশের অন্তোষ্টিক্রিয়ায় সম্পন্ন করলো মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের মৃত ধনঞ্জয় মন্ডলের বড় ছেলে নারদ মন্ডল (৭৫) করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৭সেপ্টেম্বর) সকাল সাতটায় মারা যান।
মৃত নারদ মন্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাশের অন্তোষ্টিক্রিয়ার জন্য “মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশন”র সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সাহায্যে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
নারদের মৃতদেহ বৃহস্পতিবার বিকেলে বারপাইকা গ্রামে পৌঁছালে মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সদস্যরা ওই বাড়ির পারিবারিক শ্মশানে নারদ মন্ডলের অন্তোষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় ঘটক জানান, বিশ্বব্যাপি প্রাণঘাতী করোনা মাহামারীতে মৃত্যুবরণকারী লোকজনের পরিবার সদস্যদের লাশের সৎকারের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তারা লাশের সৎকারে এগিয়ে এসছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ২৬টি লাশের সৎকার করেছে তাদের সংগঠনের সদস্যরা। শুধু আগৈলঝাড়া উপজেলায়ই নয়; ঢাকায় বসবাসকরা আগৈলঝাড়া উপজেলার মৃত ব্যক্তির লাশের সৎকার করেছেন পোস্তগোলা মহাশ্মশানেও। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে মৃতর স্বজনেরা লাশের ধারে কাছেও যেতে যায় না, সেখানে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে বিবেকের মানবতাবোধ থেকে তাদের সদস্যরা যথাযথ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও সরকারের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনের মাধ্যমে লাশের সৎকার করে আসছেন। সংগঠনের আর্থিক সমস্যা থাকলেও সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য তাদের পাশে দাড়িয়ে মানবিক সাহায্য ও মনোবল দৃঢ় করেছেন এলাকার অনেক মহতী ব্যক্তিবর্গ।
মৃত নারদ মন্ডলের পরিবার সদস্যরা জানান, ঢাকায় বসে তিনি মারা যাবার পরে লাশ বাড়ি নেয়া থেকে সৎকারের জন্য তারা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। মনোরঞ্জন ঘটক ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাদের ডাকে সারা দিয়ে এগিয়ে এসে লাশের সৎকার করায় তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রইচ সেরনিয়াবাত বলেন, বিশ্বব্যাপি মহামারি করোনা ভাইরাসে বিস্তারের প্রথম থেকে লাশ সৎকারের ও দাফনের জন্য হিমশিম খাচ্ছিল ঠিক সেই মুহুর্তে ‘মনোরঞ্জন ঘটক চ্যারিটি ফাউন্ডেশন’র একদল যুবক কোন রকম প্রশিক্ষন ছাড়াই লাশ সৎকার ও বারপাইকা আল মদিনা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দাফনে এগিয়ে এসে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অনেকে যুবকেরাই যেখানে নিজেদের অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত রখেছে, সেখানে লাশ সৎকারের মতো কাজে এগিয়ে এসেছে তারা। তাদের পিপিই, মাস্কসহ অন্যন্য উপকরণ প্রদান করার কতা জানিয়ে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এই সংবাদটি 1,232 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •