লিবিয়ায় কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে?

প্রকাশিত:শনিবার, ৩০ মে ২০২০ ০৮:০৫

লিবিয়ায় কে কার বিরুদ্ধে লড়ছে?

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকাঃ  লিবিয়া এখন বিভক্ত। একটি দেশ দুটি সরকার। একটি ওয়ারলর্ড জেনারেল হাফতারের বাহিনী নিয়ন্ত্রিত; অপরটি জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত ত্রিপলি সরকার। এখন দুটি সরকার হলেও বছরখানেক আগে সেখানে আরো কয়েকটি সরকার ছিল। কারো ওপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের সৈন্যবাহিনীর নেই উন্নত অস্ত্র। বহুলালোচিত গাদ্দাফির পতনের পর সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার লুট হয়ে যায়। বিদ্রোহীদের হাতে পড়ে সেগুলো। আফ্রিকার বোকো হারাম ও আল শাবাব বাহিনী সস্তায় কিনে নেয়। ত্রিপলি অস্ত্র চোরাচালান ও বিকিকিনির আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। এখন জাতিসঙ্ঘ বলছে ত্রিপলি সরকারের জন্য অস্ত্র দরকার। অস্ত্রের যোগানদাতার অভাব নেই। প্রচুর তেল রয়েছে লিবিয়ায়। বলতে গেলে তেলই লিবিয়ার শত্রু শতাব্দীর পর শতাব্দী লিবিয়া বিদেশীদের উপনিবেশ বা কলোনি ছিল।

১৯৫১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। তেলকূপ আবিষ্কারের পর লিবিয়া প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হয়ে ওঠে। কর্নেল গাদ্দাফি ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করেন এবং চার দশক ক্ষমতায় থাকেন।
ন্যাটো বাহিনীর ছত্রছায়ায় ফ্রান্সের বোমারু বিমানের ঝাঁক, ২০১১ সালে বোমা মেরে গাদ্দাফির কনভয়কে ধ্বংস করে এবং বিভিন্ন মতবাদের বিদ্রোহীরা তাকে ঘিরে ধরে আহত অবস্থায় মেরে ফেলে। এমনকি তার লাশটাকে অসম্মান করে অর্থাৎ তার লাশ উলঙ্গ করে রেখে দেয়। গাদ্দাফিকে যে জন্য উৎখাত করা হয়, অর্থাৎ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন, লিবিয়া সাত বছরেও তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি বরং বিভিন্ন দল-উপদল সবাই নিছক ক্ষমতার জন্য যুদ্ধ করছে। লিবিয়ায় গাদ্দাফি যে উন্নয়ন ও অবকাঠামো তৈরি করেছিলেন সেগুলো ক্রমান্বয়ে ধ্বংস হচ্ছে। অবশ্য সিরিয়ার চেয়ে তীব্রতা কম। বাইরের বিশ্ব এসব কাহিনী পড়তে পড়তে ক্লান্ত। লিবিয়ার সাধারণ নাগরিকেরা জানে না, কেন গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়েছিল, বিদ্রোহীরা কে কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে আর তাদের লক্ষ্যইবা কী?
গাদ্দাফি সম্পর্কে অনেক কথা বলা যায়। এখানে এতটুকু বলছি যে, তিনি আরব জাতীয়তাবাদকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। তার সমর্থক ছিলেন মিসরের জামাল আবদুল নাসের, ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং পিএলওর ইয়াসির আরাফাত। পশ্চিমারা তাই এই নেতাদের দৃশ্যপট থেকে মুছে দিয়েছে। আরাফাতকে বিষ প্রয়োগ করে, সাদ্দামকে ফাঁসি দিয়ে এবং গাদ্দাফিকে বোমা ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এজন্য ফ্রান্স, আমেরিকা, ইতালি, ব্রিটেন ও ন্যাটো অনেক বছর ধরে কাজ করেছে। গাদ্দাফি শুধু জাতীয়তাবাদের প্রবক্তাই ছিলেন না। তিনি মুসলিম বিশ্বে তরুণদের দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সবুজ বিপ্লব করতে চেয়েছিলেন এবং ত্রিপলিতে সরকারি অর্থে কাজ শুরু করে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছিলেন। তাই তাকে অসময়ে যেতে হয়েছে। গাদ্দাফিকে হত্যার পর বিভিন্ন অস্ত্রধারী দল ক্রিসেন্ট অয়েল ফিল্ড দখলের জন্য দিনরাত যুদ্ধ করছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইটালি ও যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষ তেলক‚পগুলো ত্রিপলির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের, এনওসির হাতে দেয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছে।

লিবিয়ার মঞ্চে এখন সবচেয়ে ক্ষমতাধর হলেন, জেনারেল খলিফা হাফতার। তিনি তৈরি করেছেন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি। তার বিরোধী দলও অনেক। হাফতারের মূল লক্ষ্য হলো, তেলক‚পগুলো অধিকার করা তারপর দেশের কথা। ফ্রান্স হাফতারকে সমর্থন দিলেও পরে বিরোধ দেখা দেয়। মিসর ও আরব আমিরাতও হাফতারের সহায়ক। তেলের দেশ আমিরাত লিবিয়ার তেল কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহ না করে বন্দরের ক‚প থেকে সংগ্রহ করার জন্য হাফতারকে সহায়তা করছে।
বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মূলত তেলকূপ নিয়ে বিরোধে ফি সপ্তাহে উভয় দিকে বিদ্রোহীরা মরছে। কখনো কখনো এই সংখ্য ৩০০ অতিক্রম করে যায়। এখন এসব যুদ্ধে জিতে হাফতারের দল বেশির ভাগ ক‚প দখল করে রেখেছে। কিন্তু হাফতার ত্রিপলির অয়েল করপোরেশনের মাধ্যমে রফতানি করতে চান না বরং বেনগাজির আরেক স্থান থেকে রফতানি করতে চান। বৈদেশিক মুদ্রা ত্রিপলির সেন্ট্রাল ব্যাংকে জমা না হয়ে হাফতারের কাছেই জমা হচ্ছে। এটা দিয়ে হাফতার অস্ত্র সংগ্রহ করছেন। লিবিয়ার সেনাবাহিনীতে এখন বড় জোর ৩০ হাজার সেনা রয়েছে। গাদ্দাফি হত্যার পরপর তা পুনর্গঠন করা হয় ২০১১ সালে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কূটনীতিকরা বলেছেন, লিবিয়ার বিদ্রোহী সেনা কমান্ডার জে. খলিফা হাফতারের হাতকে শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে রাশিয়া এ সেনা মোতায়েন করেছে। গত ৩ মার্চ হাফতারের বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র হারিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। বেনগাজি ডিফেন্স ব্রিগেডের যোদ্ধারা তার বাহিনীকে তেলক্ষেত্রগুলো থেকে হটিয়ে দিয়েছিল।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ