|
সর্বশেষ
সিঙ্গাপুরে ভাষা শহিদ স্মরণে কবিতা প্রতিযোগিতা         মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ফ্রান্সে ভাষার মেলা         অমিতাভের সঙ্গে টুইটার কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ         গ্রেস মুগাবের পিএইচডি নিয়ে দুর্নীতি, উপাচার্য গ্রেপ্তার         মালয়েশিয়া বিএনপির উদ্যোগে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু         কানাডায় বাংলাদেশি তরুণীর কৃতিত্ব         আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আগের অবস্থান থেকে সরে আসছেন ট্রাম্প         জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে ইন্টার্ন নারী চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ         খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না : ফখরুল         উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে জিএসপি সুবিধা পাবো : বাণিজ্যমন্ত্রী         জীবনে জীবন মেলাবার গল্প         ভাষার প্রতি ভালোবাসা         নেককার বান্দাদের জন্য জান্নাতের নেয়ামতের ঘোষণা         যে কারণে পেয়ারা খাবেন         মাতৃভাষা দিবসের নাটকে ঈশানা ও নিলয়        
প্রকাশিত হয়েছে : 11:04:21,অপরাহ্ন 29 January 2018 |

শরণার্থী থেকে ব্রিটিশ দূত

নিপীড়নের মুখে নিজের দেশ ইরান থেকে সাত বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন ক্যানবার হুসেইন বোর। সেই শরণার্থী শিশুটিই আজ যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন একজন কূটনীতিক হিসেবে।

সাঁইত্রিশ বছর বয়সী হুসেইন বোর বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে ডেভিড অ্যাশলের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। মঙ্গলবার অ্যাশলেকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি ক্যানবারকে বরণ করে নেবে হাই কমিশন।হুসেইন বোরের পরিবার যখন শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়ে সাউথ্যাম্পটনে বসবাস করতে শুরু করে, সে সময় তিনি বা তার মা কেউই ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না।

লন্ডনের পিয়ারসন কলেজে এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বোর বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যে তাকে এবং তার পরিবারকে যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল, সেটাই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।হুসেইন বোর রেকটরি কমপ্রিহেনসিভ স্কুল ও হ্যাম্পটন গ্রামার স্কুলের পর আইন পড়েছেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশাতেও তিনি যুক্ত ছিলেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্লগে হুসেইন বোর লিখেছেন, তিনি কূটনীতিকের পেশায় চাকরির জন্য আবেদন করেছেন শুনে প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

শরণার্থী হিসেবে আসা কোনো পরিবারের কেউ কোনোদিন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি পেতে পারে- তা ছিল তাদের ধারণার বাইরে। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই ধারণা দূর হয়েছে। এখন যুক্তরাজ্যই হুসেইন বোরের দেশ; ব্রিটিশ মূল্যবোধই তার মূল্যবোধ।

“আমাকে এবং আমার পরিবারকে আপন করে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে আমার দেশ শুধু কাউকে মেনে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্পই দেখায়নি, এর মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা রয়েছে- তা হল নিরপেক্ষতা, সহনশীলতা এবং বাক স্বাধীনতার মত ব্রিটিশ মূল্যবোধগুলো শুধু মুখের কথা না, এগুলোই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্কট কিংবা অনিশ্চয়তার সময়ে শুধু গালভরা কথা নয় এসব।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর হুসেইন বোর মিশরে ব্রিটিশ মিশন ছাড়াও লাইবেরিয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তরুণ বয়সেই এতটা সাফল্যের পেছনে মায়ের উৎসাহ আর অবদানের কথা সবসময় স্মরণ করেন তিনি।

ব্লগে তিনি লিখেছেন, “আমি সব সময়ই আমার সমস্যগুলোকে কঠিন ভাবি। সব সময় আমি ভাবি, অনেকের মত আমার মাও তো এখানে এসেছিল একা, একটা ইংরেজি শব্দও বলতে পারত না। নিজের পরিবার ছেড়ে… কারও সঙ্গে পরিচয় নেই…। তাকে এখানে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছে।শরাণার্থী জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো হুসেইন বোর এমন এক সময়ে বাংলাদেশে আসছেন, যখন রোহিঙ্গা সঙ্কট পুরো বিশ্বের জন্যই একটি আলোচিত বিষয়।

মিয়ানমারে দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছেন বাংলাদেশের কক্সবাজারে। তাদের পেছনে ভয়াবহ নির্যাতনের স্মৃতি, সামনে অনিশ্চিত অভিষ্যত। গত ১৪ নভেম্বর ব্র্যাডফোর্ডে কার্টলটন বোলিং কলেজে এক বক্ততৃায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়েও কথা বলেন এই ব্রিটিশ কূটনীতিক।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৭৪ হাজার শরণার্থীকে জরুরি খাদ্য সহায়তা, ৬০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশুকে পুষ্টি সহায়তা, নিরাপদ খাবার পানি, সাবান, রান্নার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার কথা ওই ব্ক্তৃতায় জানিয়েছিলেন ক্যানবার হুসেইন বর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*