Wed. Jan 22nd, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

শরীয়তপুরে অর্ধশতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ

1 min read

শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর জেলায় অর্ধশতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ। ছাত্র-শিক্ষকরা আতংকিত। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা আশংকা রয়েছে। এখনো ৮৭টি স্কুল ঝুকিপূর্ন রয়েছে। এ সকল স্কুলে ঝুকি নিয়ে পাঠদান চলছে। অনুমোদনের জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে,শরীয়তপুর জেলার ৬টি উপজেলায় ১৯৯১-৯২ ও ১৯৯৪-৯৫ সালে নির্মানাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। এ কারনে ছাত্র-শিক্ষকরা ভয়ে আতংকিত রয়েছে । জীবনের ঝুকি নিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে।এরমধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৮৬নং দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৭নং দক্ষিন কেবল নগরসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় , ৪৮ নং কাশিপুর হিন্দুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলিয় পালং সরকারী , আংগারিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধানুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ,কাগদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাহমুদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০টি । নড়িয়া উপজেলার পন্ডিতসার, লোনসিংহ,কলারগাও ,সালধ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,সহ ১৯টি ,ভেদরগঞ্জ উপজেলারকবিরাজ কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিন সখিপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্রালয়, মিয়া ঢালির কান্দি সরকারী প্রাথমিমক বিদ্যালয় ২২টি ,ডামুড্যা উপজেলার ডামুড্যা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুলকুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশাকুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ ১৬টি গোসাইরহাট উপজেলার ইত্তর মলংচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরজালালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পশ্চিম কোদালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৯টি ,জাজিরা উপজেলার মনাই ছেয়ালের কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম নাওডোবা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামন্তসার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় গুলোর কলাম ও দেয়াল ফাটল ধরেছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ছাদের আস্তর ও দেয়ালের প্লাষ্টার খসে খসে পড়ছ্।ে অধিকাংশ বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম পরিত্যক্ত ঘোষনা করে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান করানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাতœক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করার পরেও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।যে কোন মূহুর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।
দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র উদয় মন্ডল, ৫ম শ্রেণীর ছাত্রি হৃতিকা বিশ্বাস ও পল্লব মন্ডল বলেন, আমাদের স্কুলটি অত্যন্ত ঝ’কিপূর্ন। মাঝেমধ্যে আস্তর পড়ে আমাদেও বইখাতা বিনষ্ট হয়। আমরা আতংকে আছি। জরুরী বিদ্যালয়টি সংস্কার করা দরকার।
কাগদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টির ভবন ১৯৪০ সালে নির্মান করা হয়েছে। এরপর আর কোন সংস্কার করেনি। ভবনটি ঝুকিপূর্ন ও জারাজীর্ন। ভবনের আস্তর ও দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। আমরা ঝুকি নিয়ে ক্লাসে পাঠদান করছি। জরুরী ভাবে সংস্কার করা দরকার।
দক্ষিন মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আকতার বলেন, দীর্ঘু তিন বছর যাবত আমাদের স্কুলে ভবনটি জরজীর্ন ও ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। মাঝে মধ্যে দেয়ালের আস্তর ও প্লাস্টার খসে পড়ে ছাত্র ছাত্রিরা আহত হয়। আমি তিনবার লিখিতভাবে জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। তারা বলেছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো। আমরা আতংকে আছি।
শরীয়তপুরজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের জেলায় ইতোপূর্বে শতাধিক স্কুল ঝুকিপূর্ন ছিল। এখন কিছু স্কুল অনুমোদন আসার পর কাজ চলছে। এখনো ৮৭টি স্কুল ঝুকিপূর্ন রয়েছে। এ সকল স্কুলে ঝুকি নিয়ে পাঠদান চলছে। ছাত্র শিক্ষকরা আতংকে থাকে। আশা করবো এ সকল স্কুল গুলো জরুরী ভাবে নির্মানের জন্য অনুমোদন দেয়া হবে।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.