শার্শায় মাচায় ঝুলছে বারোমাসি জাতের কালো- হলুদ তরমুজ

প্রকাশিত:রবিবার, ২০ ডিসে ২০২০ ০৮:১২

শার্শায় মাচায় ঝুলছে বারোমাসি জাতের কালো- হলুদ তরমুজ

মসিয়ার রহমান কাজল,বেনাপোল :
কালো-হলুদ-তরমুজ কাটলেই ভেতরে টকটকে লাল।শার্শায় তরমুজের বানিজ্যক ভাবে শুরু হয়েছে চাষ।অসময় এই তরমুজের চাষ করে প্রতি বিঘা জমিতে আয় করছেন লাখ টাকা।
যশোরের শার্শায় এই প্রথমবার কালো-হলুদ তরমুজ চাষ কওে সফল হয়েছেনউপজেলার কাঠশাকরা গ্রামের মোমিনুর রহমান ও সুবর্ণখালি গ্রামের আলি রেজা।বারোমাসি জাতের কালো- হলুদ জাতের তরমুজ চাষ করে তারা সফল হয়েছেন।
কম খরচে বেশি ফলন ও বাজাওে চাহিদা থাকায় তাদেও দেখাদেখি অনেকে আগ্রহ হচ্ছে এ চাষে।শাার্শার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মুস্তফিজুর রহমান বলেন,উপজেলায় এই প্রথম ৪০ বিঘা জমিতে বানিজ্যিক ভাবে তরমুজের চাষ হয়েছে।মাচায় ঝুলছে কলো-হলুদ তরমুজ।
এক বিঘা ১২ কাটা জমিতে পরীক্ষামুলক চাষে সফল হয়েছেন রেন্টু হোসেন।তিনি বলেন কালো-হলুদ তরমুজ চাষে প্রথম ধাপে খরচ হয় লাখ টাকা।প্রথম পর্যাযে খরচ একটু বেশি হয়।কারন মাচা তৈরী করতে হয়।একবার মাচা তৈরী করলে তিন বার ব্যাবহারকরা করা যায়।তরমুজ গুলো সাধারণত তিন থেকে চার কেজি ওজন হয়।খরচ খরচা বাদে তিনগুন লাভের আশা করছি।আমরা মাঠ থেকে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকি।তরমুজ বছরে তিবার ফলন পাওয়া যায়।প্রতি বিঘায় ফলন হয় ১০০ থেকে ১২০ মণ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তরুণ কুমার বালা বলেন,চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে প্রদর্শনী প্লটের -মাধ্যমে কাঠশাকরা গ্রামের মোমিনুর রহমান ও সুবর্ণখালি গ্রামের আলি রেজা ১৫ শতক জমিতে পরীক্ষামুলক ভাবে এতরমুজের চাষ শুরু করেন বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন তারা।আলি রেজা বলেন ,প্রথমবার লাগিয়ে ৯ হাজার টাকা খরচ করেছিলাম আম্পান ঝড়ে সব নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।তার পরেও ২৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।দ্বিতীয়বার আবারো লাগিয়েছি।এর মধ্যে ৪৫ হাজার টাকা ভাল হয়েছে।বাদ বাকি যা আছে তা ৫০ -৫৫ হাজার টাকা বেচা বিক্রি আশা করছি।
মোমিনুর রহমান জানান,অন্য জাতের তরমুজের মৌসুম শেষ হওয়ার পর মে থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত মাটির ঢিবি তৈরী করে পলিথিন দিয়ে এবং মাচা তৈরী করে কালো ও হলুদ জাতের তরমুজের চাষ করা যায়।মাত্র ৫৫- ৬০ দিনেই প্রতিটি তরমুজ প্রায় আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত।এই জাতীয় তরমুজ বিক্রি করে বিঘা প্রতি জমিতে দুই মাসে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভাব।বেকার যুবকদের জন্য এটা একটা নতুন বার্তা।তারা এচাষে এগিয়ে এলে তাদের হতাশার দিন শেষ হবে।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌতম কুমার শীল বলেন ,বর্তমানে ধান,গম,পাট সহ অন্য ফসল চাষে ফলন ভালো হলেও কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেনা।তাই কৃষি বিভাগ থেকে লাভজনক চাষের জন্য সব সময় উ™¦ুদ্ধ করা হয়।বর্তমানে শার্শার কৃষকরা এসব ফসলের – পাশাপাশি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক ফসল চাষে ঝুকছেন।কালো-হলুদ তরমুজ চাষে সফল হওয়ায় এর চাষ বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।ব্লাক বেবি ও হলুদ জাতের তরমুজ প্রথম চাষ হয় চুয়াডাঙ্গায়।এরপর জয়পুরহাট,মেহেরপুর ও ঢাকার ধামরাইয়ের চাষিরাও এ তরমুজ চাষ করেন।আর শার্শায় ব্লাক বস,জাতটি চাষ করা হচ্ছে।

এই সংবাদটি 1,235 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ