শাহজাদপুর রাউতারা বাধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২০ ১১:০৬

শাহজাদপুর রাউতারা বাধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) :
নানা অনিয়ম ও দূর্ণীতির মাধ্যমে ড্রেজারের বালু দিয়ে তৈরী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইচ গেট সংলগ্ন ১ হাজার ২৫০ মিটার রিং বাঁধটি অবশেষে মঙ্গলবার বন্যার পানির চাপে ভেঙ্গে গেছে। ফলে শাহজাদপুর উপজেলা সহ চলনবিল অঞ্চলের ৫ জেলার ১৪টি উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। জেলা গুলি হল,পাবনা,সিরাজগঞ্জ,নাটোর,নওগাঁ ও বগুড়া। উপজেলা গুলি হল শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, শেরপুর, নন্দিগ্রাম, রাণীনগর ও আত্রাই। এতে তেমন ফসলহানী না হলেও শুকনো খর,সবজি ক্ষেত ও বিস্তৃর্ণ গো-চারণ ভূমি আগাম বন্যার ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত ২০ বছর ধরে প্রতি বছরই ফসল রক্ষার নামে এই বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হয়। প্রথম দিকে এর ব্যয় ৯৯ লক্ষ টাকা হলেও গত কয়েক বছর ধরে এ ব্যয় বেড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকায় দাড়িয়েছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার হরিলুট হচ্ছে। এই লুটেরা চক্রের সাথে খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু ঠিকাদাররা জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ চক্রটি গত ২০ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্তত ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ্র নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম স্থানীদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ কাজে কোন অনিয়ম-দূর্ণীতি হয়নি। সিডিউল অনুযায়ী কাজ হয়েছে। শাহজাদপুর সহ চলনবিল অঞ্চলের ফসল রক্ষার্থে গত ২০ বছর ধরে অস্থায়ী ভাবে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ বছরও করা হয়েছে। এ বাধেঁর মেয়াদ কাল ধরা হয়েছিল ৩১ মে পর্যন্ত। এ অঞ্চলের জমি থেকে সব ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বাঁধটি ভেঙ্গে গেলেও কৃষকের কোন ক্ষতি হয়নি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, এ বছর বাঁধটির নির্মাণ কাজ অনেক দূর্বল হলেও আগে থেকে ব্যবস্থা নেওয়ায় তেমন কোন বড় ধরণের ফসলহানী হয়নি। বেশ কিছুদিন আগেই এ এলাকার সব ধান কাটা হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন রাউতারা স্লুইচ গেট সংলগ্ন রিং বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,আশপাশের লোকজন ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধের বাঁশ খুটি যে যার মত তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বাধের ৩টি পয়েন্ট দিয়ে হু হু করে বন্যার পানি বাঁধ অভ্যান্তরে প্রবেশ করছে। আগাম এ বন্যার পানিতে অধিকাংশ নিচু জমি, কাচা রাস্তাঘাট ও নিচু বাড়িঘর ডুবে গেছে। শত শত লোক সেখানে দাড়িয়ে ভাঙ্গণের তান্ডব দেখছে।

এই সংবাদটি 1,228 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •