শায়েস্তাগঞ্জ হতে বাল্লা পর্যন্ত পরিত্যক্ত রেলপথে চলছে লুটপাট

প্রকাশিত:রবিবার, ২৭ সেপ্টে ২০২০ ০৯:০৯

শায়েস্তাগঞ্জ হতে বাল্লা পর্যন্ত পরিত্যক্ত রেলপথে চলছে লুটপাট

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) :
হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশন থেকে সীমান্ত এলাকা বাল্লা পর্যন্ত রেলপথটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারনে লুটপাট হচ্ছে শতশত কোটি টাকার রেলসম্পদ। জানাযায়, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের একমাত্র শাখা রেলপথ চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা বাল্লা থেকে হবিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১৯২৮ সালে বৃটিশ শাসনামলে প্রায় ৪৫ কি.মি. দীর্ঘ এ রেললাইনটি স্থাপিত হয়। হবিগঞ্জ জেলাধীন সীমান্ত এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষের জেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র যোগসূত্র ছিল এ ট্রেন। রেল সূত্রে জানাযায়, ২০০৩ সালে হঠাৎ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যয় শঙ্কোচনের অজুহাতে এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের অনেক শাখা রেলপথ বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই অংশ হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের এই আলোচ্য রেলপথও বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তে এ দেশে শতশত কি.মি. রেলপথ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে লুটপাট হতে থাকে শতশত কোটি টাকার রেলওয়ের সম্পদ।
এ সুযোগে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের দখলে চলে যায় রেলওয়ের মহা মূল্যবান শতশত একর ভূ-সম্পত্তি। ২০০৫ সালে সরকার কর্তৃক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ বাজার থেকে শায়েস্তাগঞ্জ জংশন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কি.মি. রেলপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়। এই পরিত্যক্ত রেলপথের অস্থাবর সম্পত্তি বলতে এখন আর অবশিষ্ট কিছুই নাই, উপরন্তু এখন চলছে ভূ-সম্পত্তি দখলের মহোৎসব।
এদিকে শায়েস্তগঞ্জ থেকে বাল্লা পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কি.মি. রেলপথের ৭টি স্টেশনের অস্তিত্ব এখন বিলীনের পথে। স্টেশন বলতে আর অবশিষ্ট তেমন কোনো কিছু নাই। শুধু জরাজীর্ণ কাঠামোগুলো দাঁড়িয়ে এর অস্তিত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় ব্যক্তির ছত্রছায়ায় একটি মহল প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে রাতের আঁধারে এসব সম্পদ অদৃশ্য করে দিয়েছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথের রেল লাইনের পাত, কাঠের স্লিপার, পাথর, সিগন্যাল-পোস্ট, সিগন্যাল-তার, নাট-বল্টু ইত্যাদি অতি দক্ষতার সহিত উৎপাটন করে লুটপাট করা হয়েছে। স্থানে স্থানে এমন চাতুরতার সহিত এই চৌর্যকর্ম সম্পাদন করা হয়েছে যে, উক্ত স্থানে রেল লাইনের কোন চিহ্ন খোঁজেই পাওয়া যায়না। দেখলে মনে হয় এটা কোন গ্রাম্য মনোরম মেঠোপথ।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবিএম সাইফুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথ আবার চালু হবে কিনা এটি রেলমন্ত্রণালয় বলতে পারবে, আর রেলের মালামাল চুরির বিষয়টি পিডব্লিউআই এর বিষয়, আমরা এ বিষয়ে অবগত নই।
এ ব্যাপারে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপ-প্রকৌশলী (পথ) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আপাতত বাল্লা রেলপথ চালু হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলপথের মালামাল চুরি হবার বিষয়ে আপনারা কি পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি। আগে কি হয়েছিল আমি সে বিষয়ে অবগত নই। আমি জয়েন করার পর, এখন চুরি হচ্ছে না। চুরি রোধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।
অত্র অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে সিমান্ত এলাকা বাল্লা পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ রেলপথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের নামের সহিত সংযুক্ত জংশন শব্দটি ও আর থাকবেনা। জংশন হিসেবে শায়েস্তাগঞ্জের বৈশিষ্ট্য, গুরুত্ব ও মর্যাদা হারিয়ে যাবে চিরতরে। শায়েস্তাগঞ্জ জংশনের গৌরব, গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অক্ষুন্ন রাখার জন্য এ রেলপথটি অতি দ্রুত পুনরায় সচল করা আবশ্যক। এটি শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট, বাল্লা ও হবিগঞ্জ সদর এলাকার লাখো মানুষের প্রাণের দাবী।

এই সংবাদটি 1,239 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ