শিক্ষামন্ত্রীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট ব্যুরো:শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মনোনয়ন বাতিল সিলেটের বিয়ানীবাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়াম্যান আবুল কাশেম পল্লবের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মিছিলটি পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণবাজারস্থ জনতা মার্কেটের সামনে সভাস্থলে গিয়ে শেষে হয়। সভা শুরুর পূর্বে থানা পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায় বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চেয়ার ছূড়ে মারে। এতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদেরকে সভাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। ফলে পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়, তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে সংক্ষিপ্ত পথা সভা করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ ও চেয়ার ছুড়াছরির ঘটনায় ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার বেলা আড়াইটায় বিয়ানীবাজার পৌরশহরের দক্ষিণবাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী স্থানীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর মনোনয়ন বাতিলে দাবীতে বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগের বিবদমান পল্লব গ্র“পের পক্ষ থেকে ২ডিসেম্বর রবিবার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। পূর্ব নির্ধারীত কর্মসূচী উপলক্ষে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ব্যানারে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে যোগ দেন। বেলা সোয়া ২টায় শহরের দক্ষিণবাজার থেকে হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে মিছিলটি শুরু হয়ে কলেজ রোড দিয়ে পোষ্ট অফিস রোড ও উত্তর বাজার ঘুরে পুনঃরায় দক্ষিণবাজারস্থ সমাবেশ স্থলে এসে সমাপ্ত হয়। এ সময় বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ সমাবেশে বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের বাকবিতন্ডা ও হাতিহাতির ঘটনা ঘটে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর চেয়ার ছুড়ে মারে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে লাঠিচার্জ করে। শহরের দক্ষিণ বাজারে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশী বাধার মধ্যে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনিুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ মিনিট পর পুলিশ তাদেরকে সমাবেশ স্থল থেকে সরিয়ে দেয়। পরে সমাবেশকারীরা শহরের দক্ষিণবাজারস্থ সিএনজি ষ্ট্যান্ডের পাশে গিয়ে পুনঃরায় অবস্থান নিলে পুলিশ সেখান থেকেও তাদেরকে সরিয়ে দেয়। চেয়ার ছুড়াছুড়ি ও পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সুমন আহমদ এবং ছাত্রলীগ কর্মী জুয়েল আহমদ এর নাম জানা গেছে। আহত সুমনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পথসভায় বক্তব্যদান কালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব ও লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসনিার কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, এ আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মনোনয়ন বাতিল করে অন্য যে কাউকে মনোনয়ন দিতে হবে। অন্যথায় এখানে নৌকার ভরাডুবি ঘটবে। বক্তারা বলেন, আমাদের শান্তি পূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা না মেনে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ পৌরশহরে মিছিল বের। মিছিল করতে আমরা বারণ করেছি, বাধা দিয়েছি। তিনি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি, পুলিশের কেউ আহতও হয়নি।