শিক্ষার মান চাও শিক্ষকের মর্যাদা দাও

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলা ২০২০ ০৬:০৭

মোঃমোতালেব হাসান:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় দায়িত্ব পাওয়ার পর বলেছিলেন তিনি প্রাথমিক শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদার দাবি প্রতিষ্ঠিত করবেন। মন্ত্রী মহোদয় নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড ১০ম ও ১১তম দেওয়া হবে এবং তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে বলেন আপনাদের সব দাবি পর্যাক্রমে পূরণ করা হবে। সচিব মহোদয় গত রমযান মাসে নেতৃবৃন্দের সাথে বসে বলেছিলেন আপনারা ১১তম চান কেনো, আরও বোশী চান, আপনারা শিক্ষক, এত কম অাপনাদের বেতন হতে পারে না। রোযা মুখে তিনি স্পষ্ট ওয়াদা করেছিলেন মুজিব বর্ষের পূর্বেই আমাদেরকে সম্মানজনক গ্রেড দিবেন। তাছাড়া নির্বাচন পূর্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভয়েসকল এবং নির্বাচনী ইশতেহার সব জায়গায়ইতো প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন তথা মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এমনকি ডিসেম্বর ২০১৭ তে পবিত্র শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে পুরো ডিপার্টমেন্টের কর্তা ব্যক্তিগণ সচিব এবং ডিজির উপস্থিতিতে তদানিন্তন মন্ত্রী মহোদয় বলেছিলেন আপনাদের দাবীর যৌক্তিকতা পূরন করতে পারলে আমরা দিবো এবং ১৩তম গ্রেড নিলে এখনি দেবেন। আমরা সেদিন কেউ ১৩তম গ্রেড মানি নাই। অথচ আজ এত কিছুর পরেও ১১ ও ১৩তম গ্রেড কেনো ?? এটা দিয়ে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ানোর কোন প্রয়োজন নাই বলে আমি মনে করি।
জাতির জনক ১৯৭৩ সালে একই গ্রেডে শিক্ষকদের বেতন ভাতা দিতেন, তিনি তখন এটা দিয়ে কি তাহলে ভুল করে গিয়েছিলেন ?? আজ তারই সুযোগ্য কন্যা শিক্ষা বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে কেনো ১৩ তম গ্রেডের ঘোষণা করে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা হলো ?? আমরা ১৩ তম গ্রেড কিছুতেই কোন সহকারী শিক্ষক মন থেকে মানবেনা। আপনারা পুনর্বিবেচনা করুন দয়া করে।
আর নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণের নিয়মটা পাল্টান, এতে রাষ্ট্রের কোষাগারের কিছুই হবে না বরং এই নিয়মের কারণে চাকুরীজীবিদের অর্জিত ইনক্রিমেন্ট থেকে বেতন কাটা যায়। যা তার মাসিক বেতন ও পেনশন পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ করে। এটা আমাদের জন্য চরম ক্ষতিকর ও অপ্রত্যাশিত।
আমরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর একবার এই কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিগ্রস্থ, ২০০৬ ও ২০১৪ সালে আরও দুই বার অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এই কালো আইনের কারণে। আমরা আর ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাইনা।
আমরা পুরো প্রাথমিক শিক্ষক আজ হতাশ। হতাশা নিয়ে কখনও ভাল কিছু করা যায় না। বর্তমান উর্ধগতির বাজারে ১০ম ও ১১তম গ্রেড কি খুব বেশী ??? ১৬০০০/- আর ১২৫০০/- আহা মরি এমন কোন বড় বেতন এই সময় না। সকাল ৯-০০ টা থেকে ৪-৩০ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে গাদাখানিক ক্লাস নেওয়ার পর আর কিছু করার সুযোগ আমাদের থাকে না। এই কয়টা সামান্য টাকা দিয়ে কোন রকম বাজারের সস্তা খাবার খেয়ে আমাদের চলতে হয়। এতে আমাদের মৌলিক চাহিদা পুরণ হয়না। আর খবর নিয়ে দেখেন প্রায় সব প্রাথমিক শিক্ষক চড়া সুদের ঋণে জর্জরিত।
আমাদের চাওয়াটার বার বার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবদি কম সময় না, এতদীর্ঘ সময়ে আপনারা এটার সমাধান করতে পারলেন না, এটা কার ব্যর্থতা বলব বলেন ???
একটা নিয়োগ বিধি সংশোধন করতে কতদিন লাগে ? যার দোহাই দিয়ে শিক্ষকদের বঞ্চনার মূখে ঠেলে দেবেন !!
প্রাথমিক শিক্ষকগণ সমস্ত সাধ আহ্লাদ জলাঞ্জলি দিয়ে নিরলস ভাবে জাতির শিক্ষার ভিত গড়ার মহান দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তারা আর কত দিন সৈয়দ মজতুবা আলীর পাদটীকার লাট সাহেবের তিন পা ওয়ালা কুকুরের এক পায়ের সমান থাকবেন ???

এই সংবাদটি 1,266 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •