Mon. Feb 17th, 2020

BANGLANEWSUS.COM

-ONLINE PORTAL

শিবগঞ্জের গুচ্ছগ্রামর বেহাল দশা

1 min read

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):
জমিজমা না থাকায় আবেদনের মাধ্যমে গত দুই মাস আগে রানীহাট্টি গ্চ্ছুগ্রামে উঠেছি।একটি সন্তান ও মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ব্রাক থেকে ১০ হাজার টাকা লন নিয়ে নিজ ঘর সংলগ্ন একটি ছোট দোকান দিয়েছি। সামান্য কিনেবেচা হয়।সেখান থেকে যা লাভ হয় তা দিয়ে সংসার চালায়।তবু আছি আতঙ্কের মধ্যে।কারণ প্রায় প্রতি রাতে নেশাখোররা বাড়ির ভিতর ঢুকে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ সহ বিভিন্ন ধরনের নেশা করে। মাতল অবস্থায় দোকনের সিগারেট নিয়ে টাকা দেয় না। আবার বলে যে আমাদের ট্রাক্সনা দিলে এখানে থাকতে দিব না।সরজমিনে এ প্রতিবেদককে কথাগুলো বললেন গুচ্ছ গ্রামের হতভাগা বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্ত নাজমা বেগম।আরো একজন বাসিন্দা মুনিরুল ইসলাম বলেন, জমিজমা না থাকায় শূধূ কামলা খেটে কোন রকমে সংসার চললেও জমি কিনতে না পারায় এক বছর আগে আবেদনের ভিত্তিতে কিছুদিন আগে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেয়েছি। ভেবেছিলাম এখানে নিরাপদে থাকবো।কিন্তু আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই।গত কয়েকদিন আগে সরজমিনে গিয়ে শুধূ নাজমা ও মুনিরুল ইসলামাই নয়, এখানে প্রায় ৬শ নারী পুরুষের একই অভিযোগ। তারা বলেন এখানে কোন রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই স্কুল নেই। মসজিদ নেই । নেই মন্দির। এখানে মুক্তিযোদ্ধারা এক সময় এক ঘর নির্মান করেছিল যা বর্তমানে দূর্গন্ধে ভরা।এঘরটির পাশ দিয়ে যাতায়াত করা যায় না।এ ঘরটিতে ময়লা ও ফেনসিডিলের বোতলের স্তুপ জমে রয়েছে। তারা আরো বলেন নিরাপত্তার জন্য গুচ্ছগ্রামের চারিদিকে প্রাচীর দেয়ালের অত্যন্ত জরুরী।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে গুচ্ছ গ্রামের ঘরগুলো নির্মান করা হলেও পারিবারিক ভিত্তিক ঘেরা নেই।যে টয়লেটগুলো নির্মান করা হয়ে সে গুলো এখনি নষ্ট হতে চলেছে। টিউবওয়ের পানিতে অতিরিক্ত আয়রন থাকায় পানি রাখা পাত্রগুলো লাল হয়ে গেছে। পরিবার গুলো বাস করার জন্য শুধু প্লাষ্টিকের ছালা দিয়ে চর্তুরদিক ঘিরে রেখেছে। অনেক পরিবারের টিউবয়েল নেই। বাস্তবে কোন প্রাচীর নেই। কোন মসজিদ না থাকায় নামাজ পড়ার জন্য ঝুঁকি বহন করে অনেক দূরে যেতে হচ্ছে। সড়ক দূর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিশু স্কুল দূরে হওয়ার কারনে স্কুল যাওয়া বন্ধ করেছে। কেউ কেউ নিজ সন্তানকে স্কুলে রেখে আসে আবার ছুটি হলে নিয়ে আসে।গুচ্ছ গ্রামের এলাকাটি এখনো খানাখন্দে ভরা। আফসার আলি, সোনার্দ্দি, মনিরুল, রাসেদা বেগম, নরেসা বেগম ও নুরেফা বেগম সহ ৬১টি মুসলিম পরিবারের প্রায় ৪শ মানুষের দাবী নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর, মসজিদ,রাস্তা, বিদ্যুৎ,পানির সুব্যবস্থা ও মাদক মুক্ত পরিবেশের ব্যবস্থা করা হোক। অন্যদিকে শ্রী মতি শাপলা রানী রবিদাস,শ্রী কনক রানী রবিদাস, প্রতিবন্ধী গিরুদাস রবিদাস , শ্রী শুকচান সহ এ গুচ্ছগ্রামে ২৯টি রবিদাস সম্প্রদায়ের হিন্দু পরিবারের প্রায় ২শ মানুষ রয়েছে। তাদের দাবী উপরিক্ত সমস্যগুলির সমাধানের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রার্থনা করার জন্য একটি মন্দিরের ব্যবস্থা করা জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃ পক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাছাড়া আমাদের মাঝে কয়েকজন প্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক রয়েছে তাদের পূর্নবাসনের জন্য সমাজ সেবা অফিসের সুদৃষ্টি কামনা করছি।শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ বলেন, খুব শীঘ্রই গুচ্ছ গ্রামের মাদক সহ বিভিন্ন ধরনের উপদ্রব কঠোর হস্তে দমন করা হবে।শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন,গুচ্ছগ্রামের প্রায় সবগুলো ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে। ৯০টি অসহায় পরিবারকে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। আরো ৪০টি অসহায় পরিবারকে দলিল হস্তান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধী রয়েছে।প্রতিটি ঘর/বাড়ি নির্মানে দেড় লাখ টাকা করে খরচ হয়েছে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আখতার বলেন যেহেতু কোন লিখিত অভিযোগ নেই, সেহেতু সব ঠিক আছে।তবুও মনিটরিং চলছে।এ প্রসংগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন, জননেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মোতাবেক রানীহাট্টি গুচ্ছগ্রামের বসবাসী কারী বিভিন্ন ধর্মের সকল মানুষের সবধরনের নিরাপত্তা,সীমানা প্রাচীর, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শিশুদের পড়াশুনার ব্যবস্থা, মসজিদ ও মন্দিরের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Copyright © Banglanewsus.com All rights reserved. | Newsphere by AF themes.