শিশুদের হার্টের ক্ষতি করে করোনা সম্পর্কিত রোগ: গবেষণা

প্রকাশিত:বুধবার, ০৯ সেপ্টে ২০২০ ০১:০৯

শিশুদের হার্টের ক্ষতি করে করোনা সম্পর্কিত রোগ: গবেষণা

নতুন শনাক্ত করা একটি রোগ, যা শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন রোগটি দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের হার্টের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, অ্যাকিউট পেডিয়াট্রিক ইনফ্ল্যামেটরি মাল্টিসিস্টেম সিন্ড্রোম (পিআইএমএস-টিএস) আক্রান্ত শিশুদের হার্টের এতটা ক্ষতি হয়েছে যে, কিছু কিছু আজীবন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী ডা. অ্যাল মোরিরা বলেন, ‘পিআইএমএস-টিএস হলো করোনাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত শিশুদের একটি নতুন রোগ। এটি মারাত্মক হতে পারে কারণ শরীরের একাধিক অঙ্গ সিস্টেমকে প্রভাবিত করে। এটি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেম বা নিউরোলজিক সিস্টেমই যেটাই হোক না কেন- এর এতোগুলো ভিন্ন প্রভাব রয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে এটি চিকিৎসকদের পক্ষে বোঝা কঠিন ছিল।’

 

গবেষণায় ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এই রোগের ৬৬২টি কেস পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৬২ জন শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই হৃদরোগে ভুগছিল, ট্রপোনিন টেস্টের রেজাল্ট থেকে এ বিষয়টি জানা যায়। এই টেস্ট সাধারণত প্রাপ্ত বয়স্ককের হার্ট অ্যাটাক নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।

 

ডা. মোরিরা বলেন, ‘প্রায় ৯০ শতাংশ বাচ্চার (৫৮১ জন) ইকোকার্ডিওগ্রাম করা হয়েছিল, কারণ তাদের এই রোগের এমন উল্লেখযোগ্য হার্টের সমস্যার লক্ষণ ছিল।’

হৃদরোগের সমস্যাগুলোর মধ্যে হার্টের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা হ্রাস, এমনকি ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যানিউরিজম হয় বলে দেখা গেছে।

ডা. মোরিরার মতে, এসব শিশুদের হার্টের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার প্রয়োজন হবে এবং একাধিকবার আল্ট্রাসাউন্ডসহ ফলোআপ করতে হবে। অথবা এটি এমন কিছু যা তাদের সারা জীবনের জন্য প্রয়োজন হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘এমন শিশুদের পিতামাতার জন্য বিষয়টি বিপর্যয়কর। যার সন্তান আগে সুস্থ ছিল কিন্তু করোনা সংক্রমণের পরে পিআইএমএস-টিএস রোগে আক্রান্ত হওয়া খুব সংখ্যক ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে।’

গভীর পর্যবেক্ষণে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যেসব শিশুর অন্তর্নিহিত স্বাস্থ সমস্যা ছিল বা যারা স্থূল কিংবা বেশি ওজনের ছিল তাদের পিআইএমএস-টিএসের ঝুঁকি বেশি ছিল।

এই সংবাদটি 1,231 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ