শিশুপ্রহরে শিশুমেলা

বইয়ের মলাট খুলতেই ঘোড়ায় চেপে বেড়িয়ে এলো রূপকথার রাজপুত্র; কোনোটি থেকে বেরিয়ে এলো প্রাগৈতিহাসিক কালের ডাইনোসর আর নানা রকমের প্রজাপতি। বইয়ের পাতায় পাতায় আঁকা ছবিতে ফুটে উঠেছে মাতৃভূমির স্বাধীন হওয়ার গল্প।

 

শিশু মনের খোরাক মেটায় এমনই সব বইয়ের পসরা নিয়ে শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর কাটল শিশুদের মুখরিত উপস্থিতিতে।

 

শুক্রবার ছুটির সকালে কার্টুন সিরিজ ‘সিসিমপুর’এর হালুম-ইকরি-টুকটুকি-শিকুর সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পর স্কুলব্যাগ ভর্তি করে রূপকথার দৈত্যদানোর গল্প কিংবা রহস্য-রোমাঞ্চে ঠাঁসা বইগুলো লুফে নিয়েছে খুদে পাঠকের দল।

 

রীতি অনুযায়ী, একুশের বইমেলার প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশু প্রহর।

 

যথারীতি এবারও শুক্রবার ছুটির সকালটি খুদে পাঠকদের জন্য ছিল এক অন্যরকম আনন্দের দিন। বাবা-মার হাত ধরে বইমেলা প্রাঙ্গনে ঘোরাঘুরি আর স্টলে স্টলে ঘুরে বই দেখা আর কেনা- বইমেলা যেন পরিণত শিশুমেলায়।

 

সাড়ে তিন বছরের লুবাবা ইবনাতের অক্ষরজ্ঞান না হলেও মার মুখে শোনা রূপকথা-উপকথার গল্প শুনে মনের কোণে সে এঁকেছে নানা ছবি। বইমেলায় এসে সে খুঁজেছে রূপকথার বই।

 

 

শুধু গল্প পড়লেই চলবে? বই পড়ে জ্ঞানও তো বাড়াতে হবে

 

প্রথমবার মেলায় আসার অনুভূতি জানাতে গিয়ে সে বলল, “আমি এই এতগুলো গল্প জানি। শুনবে আমার গল্প?”

মো. সাঈদুল ইসলাম এসেছেন তার মেয়ে সুলতানা আরিফিন তানিশাকে নিয়ে।

 

মেয়েকে ধাঁধা আর ছড়ার বই কিনে দিতে দিতে তিনি বলেন, “প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় আমাদের ছেলেমেয়েরা বই পড়ে না, এটা মিথ্যা প্রমাণের জন্যই তো বইমেলায় আসতে হয়। আমরা অভিভাবকরা যদি শিশুদের হাতে ভালো বই তুলে দিই, তবে ওরা কেন প্রযুক্তিমুখী হবে? প্রয়োজন সঠিক বয়সে সঠিক বইটি কিনে দেওয়া।”

 

শুধু বইমেলার জন্যই ফেনী থেকে সপরিবারে চলে এসেছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী অবন্তী পাল। তার উদ্দেশ্য, প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাক্ষাৎ পাওয়া।

 

সে বললো, “আমি জাফর ইকবালের প্রায় সবগুলো কিশোর উপন্যাসই পড়ে ফেলেছি। বইমেলায় প্রতিবারই আসি, এবার মা-দিদি সবাই এসেছে। এক সপ্তাহ থাকব। যদি তিনি আসেন, তবে তার অটোগ্রাফ নেব। তার সঙ্গে ছবি তুলব।”

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.