শি জিনপিংয়ের অধীনে চীন উত্তর কোরিয়ার মতো আচরণ করছে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টো ২০২০ ১০:১০

শি জিনপিংয়ের অধীনে চীন উত্তর কোরিয়ার মতো আচরণ করছে

নিউজ ডেস্ক:

বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসনামলে চীন উত্তর কোরিয়ার মতো আচরণ করছে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, তাদের একদল সাংবাদিক চীনের কাসগর সফরে যান। সেখানে চীনা কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেটি অনেকটাই উত্তর কোরিয়ার মতো।

বেইজিংয়ের সাবেক ব্যুরো চিফ আনা ফিফিল্ড বলেন, তারা চার দিনের জন্য চীনের পশ্চিম জিনজিয়াং অঞ্চলের বিমানবন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রথম থেকেই কর্তৃপক্ষ তাদের অনুসরণ করেছিল। যাতে তাদের সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকরা কথা বলতে না পারেন।

 

বিমান বন্দর দিয়ে প্রবেশের সময় তাদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের করা আচরণের একটি বিবরণ দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাদের দাবি কর্তৃপক্ষ তাদের বন্দরের একপাশে নিয়ে যান। এর কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষ বলেন, তাদের মাস্ক পরা শিখানো হবে। কারণ সেখানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ সময় কর্তৃপক্ষ আমাদের ভিসার ছবি তুলে রাখেন বলে দাবি করেন আনা ফিফিল্ড।

আনা ফিফিল্ড বলেন, দেশটির পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো অফিসাররা আমাদের রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে দেশটির নীতিমালা মানার ব্যাপারে জোর দেন এবং বলেন, কারও সাক্ষাতকার নেওয়ার আগে যেন আমরা তাদের অনুমতি নেই।

চীনা কর্তৃপক্ষের এমন আচরণকে আনা ফিফিল্ড উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এই সফরের বিষয়ে আনা ফিফিল্ড বলেন, ২০০৬ সালে একবার চীনের পশ্চিম জিনজিয়াং প্রদেশে সফর করেছিলেন। তখন তিনি কিরগিজস্তান সীমান্ত দিয়ে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করেন। সেখানকার উইঘুর মুসলিমদের সংস্কৃতি দেখে তার বেশ ভালো লেগেছিল।

অথচ গত চার বছরে চীনা সরকার ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর মুসলিমদের আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়েছে। আর এর একটাই কারণ তাদের সংস্কৃতি ও ধর্ম। চীনা কর্তৃপক্ষ উইঘুর পুরুষদের দাঁড়ি কেটে ফেলতে বাধ্য করছে। আর নারীদের মাথার চুল খোলা রাখতে বাধ্য করছে।

চীনা কম্যুনিস্ট পার্টির প্রত্যক্ষ মদদে উইঘুর মুসলিমদের নানা ভাবে নির্যাতন করছে। কর্তৃপক্ষ উইঘুর মুসলিমদের থেকে তাদের বাচ্চাদের আলাদা করে এতীমখানা পাঠাচ্ছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ যে উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন করছে, এই বিষয়টি যাতে তাদের প্রতিবেদনে জোরালো ভাবে না উঠে আসে, সেই জন্যই কর্তৃপক্ষ তাদের অনুসরণ করেছে। আর এই আচরণ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এটি অনেকটাই উত্তর কোরিয়ার মতো আচরণ।

আনা ফিফিল্ড আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের কারণে তারা দেশটির উইঘুর নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন নি। যাতে নাগরিকরা নির্যাতনের মধ্যেই আবার নির্যাতনের না শিকার না হয়।

এই সংবাদটি 1,229 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •