শেরপুরে গৃহকর্মীর মৃত্যু : গৃহকর্তী আটক

03-2-300x70
শেরপুর প্রতিনিধি :
শেরপুর জেলা শহরের দূর্গা নারায়নপুর মহল্লার একটি বাড়িতে রূপা আক্তার নামের ১৪ বছর বয়সের এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সদর থানা পুলিশ ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। সেইসাথে ওই গৃহকর্মী হত্যার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ গৃহকর্তী সালমা জাহান সাথীকে আটক করেছে।
এলাকাবাসী জানায়, শহরের দূর্গা নারায়নপুর মহলার প্রবাসী এসএম মমিনের স্ত্রী সালমা জাহান সাথী প্রায় দেড় বছর আগে শ্রীবরদী উপজেলার পূর্ব ঝিনিয়া গ্রামের সোবহান আলীর শিশুকন্যা রূপা আক্তারকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে নিয়ে আসে। রূপা গৃহকর্মীর কাজে আসার পর থেকেই ওই গৃহকর্তী নির্যাতন করে আসছে। ইতিপূর্বে ওই গৃহকর্তী সালমা আক্তার আরো একজন গৃহকর্মীকে নির্যাতন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরবর্তীতে নির্যাতানের ঘটানায় টাকার বিনিময়ে আপোষ মিমাংসা করে রক্ষা পান।
আজ মঙ্গলবার সকালে রূপাকে নির্যাতন করে হত্যা করে লাশ ঘরের ধর্ণার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে রূপার মাকে খবর দেয়া হয় রূপা আত্মহত্যা করেছে।
এদিকে গৃহকর্তী সাথী রূপাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখলেও বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশংকায় স্থানীয় আজিজুল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে লাশটি বারান্দার ধর্ণা থেকে নামিয়ে বারান্দার ফ্লোরে রেখে দেয়। বিষয়টি এলাকাবাসী টের পেয়ে গৃহকর্তীকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে বারান্দা থেকে রূপার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রূপার মা জানান, মঙ্গলবার সকালে তাকে জানানো হয় ঘরের ধর্ণার (আড়ার) সাথে ঝুলে রূপা আত্মহত্যা করেছে। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রূপাকে হত্যার পর বাঁচার জন্য ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে ওই গৃহকর্তী। আমি এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত সাথীর বাড়ির বারান্দায় মৃতদেহ নামানো অবস্থায় পেয়েছি। মৃতদেহের সুরতহাল রেকর্ড করা হয়েছে। ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহতার কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে চূড়ান্তভাবে ডাক্তারি পরীক্ষা এবং আমাদের তদন্ত শেষে ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.