সংসদ অধিবেশন চলবে ২০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

চলতি সংসদের সরকারিদলীয় সংসদ সদস্য এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা ও জাতীয় পার্টির মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন মূলতবি করা হয়েছে। কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই অধিবেশন আগামী ২০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের কথা রয়েছে। গতকাল বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। সবাইকে শরতের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধিবেশনের শুরু করেন স্পিকার। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী নির্বাচিত করা হয়। তারা হলেন- ইমরান আহমেদ, এবি তাজুল ইসলাম, মাহবুব-উল আলম হানিফ, মো. ফখরুল ইমাম ও বেগম নূর জাহান বেগম। পরে বর্তমান সংসদের সদস্য ও সাবেক হুইপ এসএম মোস্তফা রশিদী সুজা, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, সাবেক মন্ত্রী কল্পরঞ্জন চাকমা, প্রতিমন্ত্রী মোজাফ্‌ফর হোসেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ খসরুজ্জামান, আব্দুর রউফ মিয়া, মো. ফজলে এলাহী, আলফাজ উদ্দিন, অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মণ্ডল ও আনোয়ারা হাবীবসহ অন্যদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

অন্যদের মৃত্যুতে। শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনার পর মরহুমদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সর্বশেষ শোক প্রস্তাব গ্রহণ শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হয়। এর আগে শোক প্রস্তাব আলোনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিরোধীদলীয় নেতা ও সরকারি-বিরোধী দলের এমপিরা। এদিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশন ২০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে অধিবেশন বসবে। অধিবেশনে অক্টোবরে আরো একটি অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচএম এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মইন উদ্দীন খান বাদল ও প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জানানো হয়, এই অধিবেশনে নতুন ১১টি সরকারি বিলসহ ২৩টি সরকারি বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮৪টি ও এক হাজার ৫০৪টি সাধারণ প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া ১০৩টি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত নোটিশ পাওয়া গেছে। বৈঠকে সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এদিকে সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। সকাল থেকেই চারপাশে অবস্থান নেয় বিপুলসংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জলকামান থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখে প্রশাসন। এমনকি সংসদ ভবনে প্রবেশ নিয়েও ছিল কঠোর কড়াকড়ি। উল্লেখ্য, দশম সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের ২৯শে জানুয়ারি। এ হিসেবে আগামী বছর ২৮শে জানুয়ারি সংসদের ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচনকালীন সরকারের আমলে সংসদ অধিবেশন বসার বাধ্য-বাধকতা নেই।